23/06/2024
ভিনি, ভিডি, ভিসি। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের এ শব্দগুলো বহুল পরিচিত। শব্দগুলোর অর্থ করলে দাঁড়ায়-এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। বাংলাদেশের ক্রিকেটার লিটন দাসের ক্ষেত্রে এ শব্দগুলোকে একটু ভিন্নভাবে উল্লেখ করা যায়। এলাম, বল খেললাম, আউট হলাম। ব্যাট হাতে কেবল লিটন নন, দলের অধিকাংশ সদস্যই যেন একইভাবে হাঁটছেন। হাঁটছেন স্বপ্ন দেখানো জাকের আলি অনিকও। গতকাল ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৪ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হয়েছেন। নেপালের বিপক্ষে ২৬ বলে ১২, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ বলে ১৪ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ বলে ৮ রান করেন। কিন্তু এ জাকেরের ব্যাট থেকে এমন ফর্ম কেউই আশা করেননি। ডাচদের বিপক্ষ বাদে তিনি নামের প্রতি সুবিচার করার মতো স্কোর তুলতে পারেননি
অথচ বাংলাদেশের এ উইকেটরক্ষক ও ব্যাটার বিশ্বকাপে পা রাখার আগে বেশ কিছু ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে দেখিয়েছেন। যদিও উইকেটের পেছনে কিছুটা নড়বড়ে তিনি। তবুও ব্যাট হাতে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। সিলেটের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে ৬৮ রান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন জাকের। সে ম্যাচে মোট ১০টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। যেখানে চারটি ৪ ও ছয়টি ছক্কার মার ছিল, স্ট্রাইক রেট ২০০। ঐ ম্যাচ দিয়েই ২৬ বছর বয়সি এ ব্যাটার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কতটুকু করার সক্ষমতা রাখেন তিনি। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ৩ রানে হারলেও বুক চিতিয়ে লড়াই করার নজির স্থাপন করেছিল। তারপর ব্যাট হাতে আরো কিছু ম্যাচে তাক লাগানো ফর্ম দেখিয়েছেন। একাধিকবার ঝোড়ো ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থও হয়েছেন। তবে ব্যাট হাতে ঝড় তোলার যে আভাস দিয়েছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটার, তাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে বাউন্ডারি হাঁকানোর প্রবণতা খুব একটা লক্ষ করা যায় না। কেউ বাউন্ডারি আদায় করলেও স্ট্রাইক রেটের প্রতি নজর দিতে পারেন না। এ জায়গা থেকে জাকের ছিলেন ব্যতিক্রম। কিন্তু তার ব্যাটও লিটনদের মতো শান্ত হয়ে গেছে। এ ব্যর্থতার গোলকধাঁধা থেকে তিনি যত দ্রুত বের হয়ে আসবেন দল ও দেশের ততটাই মঙ্গল। শেষ দিকের ফিনিশার হিসেবে ক্ষিপ্র জাকের আলি অনিক বাংলাদেশের বড্ড বেশি দরকার।