01/08/2023
সম্মান জিনিসটা খুব উদ্বায়ী। আজ আছে, কাল থাকবে কিনা কেউ বলতে পারে না৷ এজন্য সম্মান থাকতেই সেটা আদায় করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সম্মান প্রাপ্তির একটা বড় শর্ত হলো, সময় বুঝতে পারা৷ কোনো আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেছেন, খেয়াল রাখতে হবে আত্মীয়রা কতদিন পর্যন্ত আপনাকে সানন্দে রাখতে রাজি আছে৷ সেই সময়টা পার হলেই আপনি হবেন বিরক্তিকর৷ "আর দুইদিন থাকেন" আকাংঙ্খা বদলে হয়ে যাবে "এই লোক যায় না কেন?" নামক বিরক্তি।
স্টুয়ার্ট ব্রড সময় বুঝতে পেরেছেন। এখনো ফর্মে আছেন, প্রতি ম্যাচেই উইকেট পাচ্ছেন, ফিটনেসও পারফেক্ট। এখনো এমন কোনো ফাস্ট বোলার ইংল্যান্ডে নেই যাকে চোখ বন্ধ করে ব্রডের চেয়ে ভালো বলা যাবে৷ খেলতে পারতেন আরো অনেকদিন। ব্রডের সিনিয়র এন্ডারসন, এই এশেজে একদম বিবর্ণ। আর যাই হোক, এন্ডারসন অবসরে যাবার আগে কেউই ব্রডের অবসর নিয়ে চাপ দিতো না৷ ব্রডের ওপর অবসর নিয়ে বিন্দুমাত্র চাপ ছিল না।
তাও ব্রড অবসর নিলেন। ফর্মে থাকা অবস্থায় আকস্মিক এই ঘোষণায় ইংল্যান্ড তো বটেই, পুরো ক্রিকেট বিশ্ব দুঃখ পেয়েছে। সেই দুঃখটা কনভার্ট হয়েছে সম্মানে।
ব্রড গতকাল ব্যাটিং এ নামার সময়েই গ্যালারির তালি পেয়েছিলেন। আজকে অজিরা গার্ড অব অনার দিল। অজি সাপোর্টারসহ পুরো ওভাল দাঁড়িয়ে সম্মান দিল ব্রডকে।
এই সম্মান পাবার জন্য দেড় যুগ খেলাই যথেষ্ট না, আরো কিছুদিন খেলার লোভ স্যাক্রিফাইসও করতে হয়৷ ব্রড চাইলে হয়তো আরো এক দু বছর খেলতে পারতেন৷ দলের বোঝা হয়ে তারপর দল থেকে বাদ পড়লে এই সম্মান আর পাওয়া হতো না।
আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেলে যে কয়দিন থাকা যায় তার আগে বলে আসলে সম্মান মিলে। রাস্তা পর্যন্ত এসে অনেকে দুঃখ নিয়ে বলেন, আরো দুইদিন থাকলেই পারতেন।
আর দুই বেশি থাকলে দেখবেন, ঘর থেকে বের করে দিয়ে কেউ আর আপনার দিকে তাকাচ্ছে না।
ব্রড ব্যাটিং এ জীবনের শেষ বলে ছক্কা মেরেছেন। অবশ্য অবসর নিয়ে ছক্কাটা মেরেছেন তারও আগে।
ক্রিকেটপ্রেমীরা ব্রডকে মনে রাখবে।
দু একটা ব্যতিক্রম ছাড়া ক্রিকেটের সব লিজেন্ড এভাবেই সময় থাকতে বিদায় নিয়েছেন। কেবল একটা দেশ আছে যেখানে কেউ অবসর নিতে চায় না৷ খিঁচ মেরে পড়ে থাকে। সেই দেশে এজন্য কোনো লিজেন্ড জন্মও নেয় না।
স্টুয়ার্ট ব্রডের অবসর পরবর্তী জীবন ভালো কাটুক।