18/04/2025
ট্রেনের নিচে শুয়ে পড়া সেই বৃদ্ধ মানুষটিকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কত কিছুই না বলা হলো—কে যেন বললো স্ত্রী মারা গেছে, সন্তান নাই, নিঃসঙ্গ জীবন। কিন্তু এখন জানা গেল, সেসব অনেকটাই ভুল।
রুহুল আমিনের স্ত্রী জীবিত, মেয়ের বিয়ে হয়েছে, একমাত্র ছেলে ঢাকায় অল্প বেতনে চাকরি করে।
তিনি বেঁচে ছিলেন ঋণের চাপে—পেঁয়াজ চাষের জন্য এনজিও থেকে নিয়েছিলেন মোট ১.৯৪ লাখ টাকা ঋণ, এখনো বাকি ৯৯ হাজারের মতো। প্রতি সপ্তাহে দিতে হতো ৪,৪৫০ টাকা করে কিস্তি।
জমিও ছিল না নিজের—বর্গা জমিতে ১ বিঘা ৫ কাঠা চাষ করেছিলেন, যেখানে পেঁয়াজের দাম পড়েছে এতটাই কম যে উৎপাদন খরচই ওঠেনি। বাধ্য হয়ে সুদে আরও টাকা নিয়েছিলেন মহাজনের কাছ থেকে।
এখানেই গল্প শেষ। আর ফেরার পথ ছিল না।
আমরা শহরে বসে বিষণ্ণতা নিয়ে কবিতা লিখি, পোস্ট দিই, কিন্তু গ্রাম বাংলার কৃষকের বেঁচে থাকার লড়াই অনেক বেশি নীরব, কষ্টের এবং নির্মম।
ফসলের দাম কমে গেলে আমরা খুশি হই—"সস্তায় পেয়াজ কিনতে পারছি!" কিন্তু সেই সস্তা পেঁয়াজ হয়তো একজন কৃষকের শেষ নিঃশ্বাস হয়ে দাঁড়ায়।
রাষ্ট্রের সব কিছুতে বাজেট বাড়ে, ভর্তুকি বাড়ে, সুযোগ সুবিধা বাড়ে— কিন্তু কৃষকের কি সুবিধা বেড়েছে! কৃষক কি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।