14/12/2022
🎂শুভ জন্মদিন🎂
সাবেক জাতীয় ফুটবলার-
⚽আতাউর রহমান খান⚽
সাবেক অধিনায়ক-ব্রাদার্স
৯০-র দশকে স্টপার ব্যাক পজিশনে যে কয়েকজন তারকা দ্যূতি ছড়িয়ে ছিলেন তাঁদের মধ্যে "আতা" একজন।
অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং পরিচ্ছন্ন স্টপারব্যাক "আতার" জন্ম বিক্রমপুরে হলেও বড় হয়েছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়ায়। হাজী আব্দুল মমিন খান এবং শামছুন্নাহার বেগম দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে আমাদের প্রিয় ফুটবলার "আতা" সপ্তম ।
১৯৮২ সালে পাইওনিয়ার ফুটবলে গোলকিপার হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। দুই বছর তিনি ইস্টএন্ড গ্রীণের হয়ে খেলেন। ১৯৮৪/৮৫ সালে তিনি অগ্রনী ব্যাংকে চলে আসেন। ১৯৮৬/৮৭ সালে তিনি ২য় বিভাগের আরেক দল রায়ের বাজারে, ১৯৮৮ সালে জুরাইনে, ১৯৮৯ সালে ফরাশগঞ্জে খেলে নিজ প্রতিভার বিকাশ ঘটান। ফরাশগঞ্জে চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের পুরস্কার স্বরূপ তিনি ১৯৮৯ এর প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে সবুজ দলে জায়গা করে নেন। ১৯৯০ সালে যোগ দেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে।
ব্রাদার্স ইউনিয়নে আতা-মুন জুটি চীনের প্রাচীরের মতো প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাদার্সে খেলেন। ব্রাদার্সে থাকাকালীন সময়ে আতা-মুন জুটিকে সামলাতে হয়েছে আসলাম, রুমি, এমিলি, নকিব, মামুন জোয়ারদার, গাউস, সাব্বির, জাকিরের মতো দূর্দান্ত খেলোয়াড়দের।
১৯৯৪ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যোগ দেন। ব্রাদার্সের ঘরের ছেলে "আতার" মুক্তিযোদ্ধায় যোগদান ছিলো ৯০-র দশকের ফুটবলের একটি আলোচিত ঘটনা।
যুব ফুটবল দল, জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে তিনি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, জাপান, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাত ভ্রমণ করেন।
"আতা" বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ফুটবলের নেশা তাঁর পিছু ছাড়েনি। তিনি মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের একজন কর্মকর্তা, গেণ্ডারিয়া ইস্টএন্ড ক্লাবের ফুটবল সেক্রেটারি। নিজস্ব অর্থায়নে বিক্রমপুর একাদশ নামে পাইওনিয়ারের একটি দলও তিনি পরিচালনা করছেন।
তাঁর প্রিয় কোচ সেলিম, প্রিয় গোলরক্ষক মহসীন, প্রিয় স্টপার জুয়েল রানা, প্রিয় মিডফিল্ডার টিটু, প্রিয় স্ট্রাইকার নকীব এবং মিজান। কোন খেলোয়াড়কে সমীহ করতেন এই প্রশ্নের সোজা সাপটা উত্তর দেন-"রুমি ভাই"। ফেডারেশন কাপে ব্রাদার্সের শিরোপা জয়ে তাঁর অবদানের পুরস্কার স্বরূপ শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছিলেন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র "আতা" ঢাঃবিঃ দলের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে/শেরেবাংলা কাপে নিজের সবটুকু ঢেলে খেলেছেন। পুরস্কার হিসেবে ঢাঃবিঃ কর্তৃপক্ষ তাঁকে "ব্লু" পদকে ভূষিত করে।
ছাত্রজীবন এবং খেলোয়াড়ী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নিজের ব্যক্তিত্ব ও সততা বজায় রেখে ফুটবল থেকে বিদায় নেন ১৯৯৭ সালে। নির্লোভ, অমায়িক মানুষ আতা ভাইয়ের জন্য শুভকামনা।