14/03/2026
কে বা কাহারা জানি গতকাল বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে এক অভিনব প্লাকার্ড নিয়ে গ্যালারিতে আছে। প্লাকার্ডের বিষয়বস্তু হল 'নেক্সট পঞ্চপান্ডব'। দীর্ঘদিন ধরে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোন ম্যাচ দেখিনা। কারণ অবশ্য খুব ছোট, ক্রিকেটকে আগাগোড়া রাজনীতিকরণ করা হয়েছে গত দেড় বছরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দীর্ঘদিন ধরে ছিল 'উপদেষ্টার দল'। বোর্ডও ছিল 'উপদেষ্টার বোর্ড'। এখন অবশ্য শব্দটার আগে 'সাবেক' বসে যাবে। এসব অবশ্য পঞ্চপান্ডবের আলাপ না।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক 'ক্যা/ন্সার' অধ্যায় হল পঞ্চপান্ডব। কে এই টার্মের প্রচলন করেছে আমি জানিনা। তবে মিডিয়া এই টার্মের বহুল অপ/ব্যা/বহার করেছে আমি জানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে আমার লেখা অনেকেই পড়ে থাকেন। তাদের মধ্যে কেউ যদি এমন থেকে থাকেন যিনি এই টার্ম বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমদানি করেছেন, তাহলে প্লিজ তওবা করে ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। বাংলাদেশ ক্রিকেট ধ্ব/ংসে আপনার অবদান কোনভাবেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চাইতে কম নয়।
পঞ্চপান্ডব টার্মটার উৎপত্তি কেন হয়েছিল? পুরোটাই ব্যাবসায়িক মোটিফে। বাংলাদেশে কোনো ফিল্ডেই কোন ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন পাওয়া সুপারস্টার নেই। কোন ফিল্ডেই কেউ নেই যে সেই ফিল্ডে আপ টু দ্যা মার্ক সেরা। ক্রিকেটেই শুধুমাত্র সেটা আছে একজন- সাকিব আল হাসান। যে তার ফিল্ডে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ওয়ার্ল্ড রিকগনিশন পেয়েছে, সুপারস্টার হয়েছে।
ব্রান্ড প্রমোশনে সবসময়ই সুপারস্টার দরকার হয়। নিদেনপক্ষে স্টার হলেও হবে। কিন্তু একজন স্টার তো আর সব ব্রান্ডের প্রমোট করতে পারবেনা। দেখা গেল, দেশে হাই প্রোফাইল বিস্কিট কোম্পানি দুটো। সাকিব হয়তো একটার ব্রান্ড এম্বাসেডর হলেন। বাকি কোম্পানিটি কি করবে? তারও তো একটা ব্রান্ড এম্বাসেডর প্রয়োজন। কিন্তু সাকিব ছাড়া তো কেউ নেই।
আর এখানেই এগিয়ে আসল মিডিয়া। তারা একই ফিল্ডে কিছু 'মেকশিফট স্টার' বানাল। যাদের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে রিকগনিশন হয়তোবা আর্যভট্টের শূন্যের কাছাকাছি। কিন্তু মিডিয়া এমনভাবে লিখতে লাগল যেন আপনার মনে হবে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে তারা একেকজন স্টারের পর্যায়ে পড়ে। তা না হলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মত একজন ক্রিকেটার, যিনি হয়তোবা নেপাল জাতীয় দলেও সাত নম্বরে সুযোগ পাবেন না, তাকে মিডিয়া বানিয়ে দিয়েছে 'মিস্টার ফিনিশার'। অথচ মাত্র ৭ দিন ক্রিকেট বোঝা ক্রিকেট সমর্থকও জানে, মাহমুদুল্লাহ ফিনিশার তো ননই। বরং ফিনিশিং মোমেন্টে তিনি সেই ক্রিকেটার যে হয় ডট দিবে নাহয় সিঙ্গেল নিয়ে নন স্ট্রাইকে থাকা টেলএন্ডারকে স্ট্রাইক দিয়ে দেবে।
মিডিয়ার এই ফাপড়বাজিতে আক্রান্ত খোদ 'পঞ্চপান্ডব'ও। যেমম মুশফিল কাল বললেন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নাকি তামিম বৈভবের মত ছক্কা মারত। অথচ অনূর্ধ্ব উনিশ ক্রিকেটে তামিম প্রতি ইনিংসেও একটা ছক্কা মা/রেননি। ১৯ ইনিংসে তার ছয় মাত্র ১০ টা।
পঞ্চপান্ডব তকমাতে বোকা বনেছে,না স্যরি, বলদ বনেছে ক্রিকেট সমর্থকেরাও। যেমন প্রতিবারই বিশ্বআসরে আমরা ভেবেছি- এবার বুঝি এই দলটা আমাদের ট্রফি এনে দেবে। সেই স্বপ্নের পালে হাওয়া জুগিয়েছে ফেসবুকে ক্রিকেট নিয়ে লেখা চটি লেখকেরাও। যারা মনে করে, এরা সবাই একেকজন ব্রাডম্যান গোছের ক্রিকেটার। শুধু বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বলেই এদের মূল্যায়ন হয়নি।
সুতরাং পাঠক, বুঝতেই পারছেন, পঞ্চপান্ডব তকমাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটেত অপরিসীম ক্ষ/তি করেছে। ক্রিকেটের ফোকাস সরিয়ে দিয়ে পারসোনাল ফোকাসে সীমাবদ্ধ রেখেছে। এতে ক্রিকেট যতটা এগোনোর কথা ততটা এগোয়নি।
তাই, নতুন করে এই 'ক্যা/ন্সার' আমদানি করবেন না। গোটা ক্রিকেট ফ্যানবেস, অথোরিটি এবং প্লেয়াররা আর কতবার বল/দ হবে?