14/08/2026
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, বাংলাদেশি একজন সিমার ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ১৯৮ রানে অলআউট করে ফেলবে আর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৩৫১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে শেষ করবে- টেস্ট শুরুর আগে কেউ বললে কী বিশ্বাস করতেন?
আমি অন্তত করতাম না।
কিন্তু এই অবিশ্বাস্য ব্যাপার সম্ভব হয়েছে একজনের জন্যে, তিনি হাসান মাহমুদ। কাউন্টিতে ভাল বোলিং করেছেন, বোঝা যায় কন্ডিশনটা মাথায় গেঁথে নিয়েছেন তিনি। তার ফল এই টেস্ট। কিন্তু এতটাও কী সহজ ছিল এমন বোলিং করা?
হাসানের বোলিংয়ে প্রথমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- কিভাবে তিনি পিচটাকে পড়েছিলেন?
প্রথম সকালে বাতাসে আর্দ্রতা আছে, পিচে ঘাসের ছোঁয়া আছে আর সাথে আছে নতুন কোকাবুরা বল। পেস, বাউন্স আর মুভমেন্ট পাবার জন্যে একজন পেসারের আদর্শ কন্ডিশন এটা। আর এই পিচ ব্যাবহার করতে পারাই তার সবচেয়ে বড় সফলতা। তিনি কিন্তু 'জোরে বল করার' স্ট্রাটেজিতে জাননি, বরং তিনি বেছে নিয়েছিলেন টেস্ট পেসারের ক্লাসিক স্ট্রাটেজি- একই জায়গায় টানা বল ফেলে ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করা।
হাসানের বোলিংকে খুব কাছ থেকে দেখলে তার পরিকল্পনাটা অবশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়। তার পরিকল্পনা স্বচ্ছ- গুড লেংথে বল ফেল, ফোর্থ স্ট্যাম্পের করিডর দিয়ে সিম মুভমেন্ট করাও আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য কর।
কারণ এরকম অবস্থায় ব্যাটারের জন্য তিনটা অপশনই খোলা থাকে তাতে-
বল ছেড়ে দিলে বল স্ট্যাম্পের কাছে যেতে পারে।
ড্রাইভ করতে এজড হতে পারে।
ডিফেন্সিভ পুশ করলেও এজড হবার চান্স থাকে।
কঠিন পরীক্ষা যাকে বলে!
বিশেষ করে মিচেল স্টার্ককে করা ডিসমিশালটাতে এটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। স্টার্ককে করা বলে হাসান 'করিডর অফ আনসার্টেইনটি' তে বল ফেলে এওয়ে সিম করেন, স্টার্ক বডি থেকে দূরের বল পিক করতে গিয়ে আউট হয়ে যান।
অস্ট্রেলিয়ান টপ অর্ডারের সবচেয়ে বড় অ/স্ত্র বোধহয় এদের ইগো। টেস্টেও তারা ফ্রন্ট ফুটের এটা/কিং ইনটেন্ট নিয়ে খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। হাসান এই ইগোকেই ট্রাপ করতে পেরেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের টানা এমন বল দিয়েছিলেন যাতে ব্যাটাররা ড্রাইভ করতেই বাধ্য হয়।
তবে হাসানের সাফল্যটা ভাল বোঝা যাবে স্টিভ স্মিথের আউটটা দেখলে। কারণ,অন্য ব্যাটারদের ক্ষেত্রে যা কাজ করছিল স্মিথের ক্ষেত্রে তা করছিল না। এর কারণ তার ব্যাটিংয়ের ধরণ। স্মিথের ব্যাটিংয়ের ধরণ একটু ভিন্ন- বলে লেট কন্ট্যাক্ট, ট্রিগার মুভমেন্টটা ঠিক কনভেনশনাল নয়, বল ছাড়ার জাজমেন্টে সে এই গ্রহের সেরা প্লেয়ার। তাই ট্রাডিশনাল ফোর্থ স্ট্যাম্প ট্যাকটিকস তার ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়না।
তাই হাসান দ্রুতই তার ফোর্থ স্ট্যাম্পেই টানা বল করার স্ট্রাটেজি থেকে সরে আসেন। বরং শর্ট বল-ফুলার বল- ফোর্থ স্ট্যাম্প বল কম্বিনেশন দিয়ে তিনি স্মিথকে খানিকটা ডিসকমফোর্টে ফেলে দেন। এই সিকোয়েন্সের মূল লক্ষ্য ছিল আমি যেটা বুঝতে পারি তা হল, স্মিথের হেড পজিশন আর মুভমেন্ট প্যাটার্নটাকে ডিসরাপ্ট করা। হাসান সেটা শেষতক পেরেছিলেনও।
তবে হাসানকে এখনই 'কমপ্লিট টেস্ট বোলার' ধরে নেওয়ার পক্ষপাতি আমি নই। কারণ কন্ডিশন তার পক্ষে ছিল, আর তার স্ট্রাটেজিটা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের সাথে এক্সট্রিমলি ইফেক্টিভ ছিল। কিন্তু এই একই বোলিং হয়তো ফ্লাট পিচের পুরানো বলে যেখানে সিম মুভমেন্ট খুব বেশি পাওয়া যাবেনা- সেখানে খুব একটা ইফেক্টিভ হবেনা।
তা সেটা পরে ভাবলেও চলবে, আপাতত ডারউইনে হাসানের অবিশ্বাস্য রূপকথায় অবগাহন করেই নাহয় দুপুরটা পার করা যাক!