26/12/2024
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এখন যা সবচেয়ে বেশি জরুরী:
২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ান সরকার একটা কাজ খুব যত্নের সাথে করেছিলো, তা হলো ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীদেরকে একদম ছেঁকে বের করা।
রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর ছিলো না, যেখানে ফেতুর লোকজন ছিলো না। সেনা, আইন, বিচার, মিডিয়া, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু রাষ্ট্রের টপ টু বটম গুলেনের লোকজন দিয়ে ভর্তি ছিলো।
এরদোয়ানের টিকে থাকার জন্য যারা ছিলো সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই এরদোয়ানের ফার্স্ট এন্ড ফরমোস্ট পদক্ষেপ ছিলো এদেরকে সমূলে উৎপাটন করা। কিন্তু তা কীভাবে করবে? কীভাবে আইডেন্টিফাই করবে?
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তারা প্রতিটি সেক্টরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফিল্টার তৈরি করেছিলো। ধরুন, পুলিশে ফেতুর সবচেয়ে বেশি লোক ছিলো, পুলিশে কারা ফেতুর লোক তা বুঝার জন্য কয়েকটা প্যারামিটার তৈরি করেছিলো, যেমন নির্দিষ্ট একটি সময়ের নিয়োগ, নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ, নির্দিষ্ট অমুক ব্যক্তির সুপারিশে নিয়োগ, নির্দিষ্ট কিছু কী-ওয়ার্ড ইত্যাদি।
এভাবে ধরে ধরে তালিকা করে তাদেরকে আউট করার জন্য লিগ্যাল গ্রাউন্ড তৈরি করেছে, যেন আজীবনের জন্য সরকারী চাকরি থেকে নিষিদ্ধ করে দেয়া যায়। এবং সেভাবে প্রতিটি সেক্টর থেকে সবাইকে ছেঁকে বের করেছে, তাদেরকে আজীবনের জন্য নির্মূল করেছে।
এক পর্যায়ে এমন হয়েছে মাত্র ৩০% পুলিশ পেয়েছে পিউর, কেবল এদের দিয়েই দেশ চালিয়েছে, পরে ধীরে ধীরে নিয়োগ দিয়েছে। তবুও শত্রু মুক্ত করতে বেশি সময় নেয়নি। নূন্যতম সন্দেহ হয়েছে, ক্ষতি করতে পারে মনে হয়েছে, কোনো লিংকআপ পেয়েছে, কোনো একটি কাইটেরিয়াতে পড়েছে, এমন কাউকেই রাখেনি।
কারণ তারা কেবল এরদোয়ানের ক্ষতি করছিলো যে তা না, রাষ্ট্রেরও ক্ষতি সাধন করতেছিলো। তাই লিগ্যাল গ্রাউন্ড তৈরি করে সবাইকে আইনের আওতায় এনেছিলো।
সব সেক্টরের জন্য এক ধরনের প্যারামিটার ছিলো না। শিক্ষা সেক্টরের জন্য এক ধরনের জন্য, ব্যাংকের জন্য আরেক ধরনের, মিডিয়ার জন্য ছিলো আরো ভিন্ন।
যেমন, তখন মিডিয়া হাউজ সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বড় ছিলো ফেতুদের। এরদোয়ান তা দখল করেনি, একেবারে ব্যান করেছে, আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে, কারণ তিনি জানেন, আজকে নিজের নিয়ন্ত্রণ নিলে, কাল সুযোগ পেলেই এরা ছোবল মারবে। তাই একেক সেক্টরকে একেকভাবে ক্লিন করেছে।
তবে এই কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা লাগছে গোয়েন্দা বাহিনীকে MIT কে। আমাদের অন্তর্বতীকালীন সরকারের এখান থেকে শিক্ষা নেয়ার সুযোগ আছে। আমার মতে এক নাম্বার কাজ হওয়া উচিত, দেশের ইন্টেলিজেন্সিকে ঢেলে সাজানো।
প্রয়োজনে এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুরস্কের সহযোগিতাও নিতে পারে, কারণ MIT এখন রাইজ করছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন বাহিনী তুরস্কে এসে প্রায় ট্রেনিং নেয়, সুযোগ আছে, কাজে লাগানো যেতে পারে। আমি তাদের থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ার বিষয়ে বলছি, দেশে ঢুকতে দেয়ার কথা নয়।
যদি এভাবে ক্লিন না করে কেবল ডিসি-এসপি আর নির্বাচন কমিশনকে চেঞ্জ করে যেনতেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি নির্বাচন দিয়ে দেয়, তাহলে আবার খারাপ সময় দেখতে বেশিদিন লাগবে না।
রাষ্ট্র সংস্কারের অন্তরায় এমন প্রতিটি বিষয়কে উপড়ে ফেলতে না পারলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ স্বপ্নই থেকে যাবে। নির্বাচিত সরকার এসে এসব করতে করতে দিন পার করলে জনগণের দুর্ভোগ কমানোর দিকে নজর দিতে পারবে না। দেশের উন্নয়ন তো পরের কথা।
তবে এ কাজ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ দুইটি:
১. কারো উপর জুলুম যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা।
২. ফিল্টারের ফাঁকফোকর কিংবা বিশেষ বিবেচনায় কেউ যেন পার না পেয়ে যায়, তা নিশ্চিত করা।
যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে আবারও শত শত হারুন, বিপ্লব তৈরি হবে, তৈরি হবে আয়নাঘর। এরা সবাই ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত পালিয়ে ছিলো, পরে ফিরে এসে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও অন্যায় করেছে।
তাই সঠিক প্যারামিটার বা কাইটেরিয়া তৈরি করে ফিল্টারিং করে ক্লিন করতেই হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতিবাজ ও জুলুমকারীদেরকে আইনের আওতায় এনে আজীবনের জন্য রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে হবে।
- সাইফুল ইসলাম
১৮ আগস্ট ২০২৪