02/06/2026
এক্সারসাইজ শুরু করলেই কেন অনেকের ই পিরিয়ড সাইকেল চেঞ্জ হয়??
অনেকেরই প্রথম এক্সারসাইজ শুরু করলে মাসিকচক্রে পরিবর্তন আসে,কেন আসে চলুন আজ বিষয় টি জানি এবং কখন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সেটাও জানি।
এক্সারসাইজ আর মাসিক (পিরিয়ড)–এর মধ্যে সরাসরি হরমোনজনিত একটা সম্পর্ক আছে। শরীর যখন নতুনভাবে এক্সারসাইজ শুরু করে বা হঠাৎ করে খুব বেশি পরিশ্রম নেয়, তখন হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে—এটাই মূল কারণ।
➡️কেন এমন হয়?
১. হরমোনের পরিবর্তন:
▪️মাসিক নিয়ন্ত্রণ করে মূলত Estrogen এবং Progesterone। নতুন এক্সারসাইজ শুরু করলে শরীর “স্ট্রেস” হিসেবে নেয়, ফলে এই হরমোনগুলোর লেভেল ওঠানামা করতে পারে। এতে মাসিক আগেও হতে পারে, দেরিও হতে পারে, এমনকি এক মাসে দুইবারও হতে পারে।
২. শারীরিক স্ট্রেস (Physical stress)
হঠাৎ বেশি দৌড়ানো, জিম, বা কঠিন High-intensity interval training করলে শরীর অ্যাডাপ্ট করতে সময় নেয়। এই স্ট্রেস Menstrual cycle-কে সাময়িকভাবে অস্থির করে দেয়।
৩. ওজন কমা বা শরীরের ফ্যাট কমে যাওয়া
এক্সারসাইজে দ্রুত ওজন বা ফ্যাট কমলে শরীর মনে করে “এখন প্রেগন্যান্সির জন্য সঠিক সময় না”, তাই মাসিকের প্যাটার্ন বদলে যেতে পারে।
৪. রক্তসঞ্চালন ও ইউটেরাসে প্রভাব:
▪️এক্সারসাইজে রক্ত চলাচল বাড়ে, এতে কখনো কখনো হালকা স্পটিং বা আগে মাসিক শুরু হতে পারে।
➡️এক মাসে দুইবার মাসিক কেন হয়?
এক্সারসাইজ শুরু করলে অনেকের ই এমন হয়,এর কারণ হতে পারে-
▪️হরমোনের হঠাৎ ওঠানামা
শরীর নতুন রুটিনে অভ্যস্ত না হওয়া।
▪️খুব বেশি বা খুব কম খাওয়া (ডায়েট পরিবর্তন)।
▪️ঘুমের সমস্যা।
✅এটা কি স্বাভাবিক?
শুরুতে ১–২ মাস এমন হওয়া সাধারণত স্বাভাবিক। কিন্তু যদি,
নিয়মিত এক মাসে দুইবার হয়,খুব বেশি রক্তপাত হয়,তীব্র ব্যথা থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
✅কী করলে ঠিক থাকবে?
১.ধীরে ধীরে এক্সারসাইজ শুরু করো (হঠাৎ বেশি না)।
২.পর্যাপ্ত নিউট্রিশন রিকয়ারমেন্ট ফিল আপ করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
৩.ঘুম ঠিক রাখা।
৪.শরীরের সিগন্যাল লক্ষ্য করতে হবে।
➡️এটা কি আসলেই চিন্তার বিষয়?
সবসময় সময় এটা চিন্তার বিষয় না,বিশেষ করে যদি আপনি নতুন করে এক্সারসাইজ শুরু করে থাকেন।
শরীর যখন নতুন রুটিনে যায়, তখন Menstrual cycle কিছুটা এলোমেলো হওয়া খুবই সাধারণ। হরমোন (যেমন Estrogen ও Progesterone) সাময়িকভাবে ওঠানামা করে, তাই এক মাসে দুইবার পিরিয়ড হওয়াও শুরুতে দেখা যেতে পারে।
➡️কখন এটা স্বাভাবিক ধরা যায়?
▪️আপনি সম্প্রতি এক্সারসাইজ শুরু করেছেন,
১–২ মাসের মধ্যে এমন হয়েছে
রক্তপাত খুব বেশি না।
▪️তীব্র ব্যথা বা দুর্বলতা নেই।
➡️কখন একটু সতর্ক হওয়া দরকার?
▪️টানা কয়েক মাস ধরে এক মাসে দুইবার হচ্ছে।
▪️খুব বেশি রক্তপাত (প্রতি ঘন্টায় প্যাড ভিজে যাচ্ছে)
▪️খুব ব্যথা, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগছে।
▪️পিরিয়ডের মাঝখানে বারবার স্পটিং হচ্ছে।
এই ধরনের লক্ষণ থাকলে একজন গাইনোকোলজিস্ট দেখাতে হবে।
➡️কীভাবে নিজেকে মনিটর করবেন?
▪️২–৩ মাস দেখুন শরীর নিজে থেকে ঠিক হয় কিনা
হালকা থেকে মাঝারি এক্সারসাইজে থাকুন (হঠাৎ বেশি না)।
▪️খাবার, ঘুম ঠিক রাখুন।
👉 মোট কথা: শুরুর দিকে এটা নরমাল অ্যাডজাস্টমেন্ট, কিন্তু যদি চলতেই থাকে বা বাড়তে থাকে, তখন অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
তবে এই সমস্যা হলেই ভয় পেয়ে এক্সারসাইজ বন্ধ করা উচিৎ হবে না,আপনার ফিটনেস কোচ কে বিষয় টি জানিয়ে তাদের গাইডলাইন ফলো করুন।
ধন্যবাদ
লাবীবা তাসনীম
চীফ ফিটনেস নিউট্রিশনিস্ট
ইন্সপিরণ ফিটনেস এন্ড ডায়েট কন্সাল্টেন্সি সেন্টার।
ধানমন্ডি ও আদাবর।