06/06/2026
বার্লিনের অলিম্পিয়াস্টেডিয়ন স্টেডিয়ামে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে একপাশে রয়েছে দুরন্ত ফর্মে থাকা উড়ন্ত ইয়্যুভেন্তাস যারা কিনা ইতিমধ্যে সিরি আ ও কোপা ইতালিয়া জিতেছে,ট্রেবল কমপ্লিট করতে তাদের প্রয়োজন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা এবং অন্যপাশে রয়েছে নিজেদের আরও একটা প্রাইম পিরিয়ড পার করতে থাকা ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা যারা ইতিমধ্যে কোপা দেল রে ও লা লিগা জিতেছে,তাদেরও ট্রেবল কমপ্লিট করতে তখন দরকার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা তবে বার্সেলোনা দলের জন্য এই ম্যাচটা ট্রেবল ছাড়াও আরেকটা কারণে স্পেশাল ছিলো কেননা এটিই ছিলো তাদের কিংবদন্তি জাভির বার্সেলোনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ।ট্রেবল দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তিকে বিদায়টাও যে দিতে হবে তাদের।
উড়ন্ত ইয়্যুভেন্তাস বনাম প্রাইম বার্সেলোনা;কারা সম্পূর্ণ করতে পারবে নিজেদের ট্রেবল?
২০১৫ সালের বাংলাদেশ আজকের দিনে, প্রায় ৭১ হাজার দর্শকের সামনে নির্ধারণ হতে যাচ্ছিলো যে কে জিতবে নিজেদের ট্রেবল ও কাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে ডমেস্টিক ডাবল নিয়ে।
ম্যাচের তখন ৪ মিনিট চলমান,মেসির বাড়ানো বল আলবা অসাধারণভাবে কন্ট্রোল করে,নেইমারের কাছে পাস দেয়।বক্সের ঠিক বাহিরে অবস্থান করা ইনিয়েস্তা ফাকা স্পেস পেয়ে ঢুকে যায় এবং নেইমারও তাকে বলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়, তিনি বল বাড়ান রাকিতিচ এর কাছে এবং তার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে বার্সেলোনা শুরুর দিকেই লিড নেয়।গোলটার এসিস্ট নিজের নামের পাশে বসান বার্সেলোনার মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো আন্দ্রেয়াস ইনিয়েস্তা।
হাফ-টাইম শেষ করে বার্সেলোনা ১-০ গোলের লিড নিয়ে।তাদের স্বপ্ন পূরণে বাকি আর মাত্র ৪৫ মিনিট।
তারা কী পারবে তা অর্জন করতে?
২য় হাফের ৫৩তম মিনিটে বার্সেলোনা সমর্থকদের কলিজা কাপিয়ে স্কোর সমতা করে আলভারো মোরাতা।মারচিসিওর অসাধারণ ব্যাক হিল রিসিভ করে ওভারল্যাপ করা লিচেস্টেইনার যা তিনি দেয় সে সিজনে ইয়্যুভেন্তাস এর টপস্কোরার তেভেজকে।তিনি শট নিলে স্টেগেন তা আটকায় কিন্তু রিবাউন্ডে গোলে পরিনত করেন মোরাতা
ম্যাচের তখন ৬৮ মিনিট চলমান এবং বার্সেলোনা ফ্যানরা নিশ্বাস চেপে বসে আছে যে কী হতে যাচ্ছে এইটা ভেবে,তখনই সবসময় এর মতোই দলকে বাচাতে লিওনেল মেসির আগমন।মিডফিল্ড থেকে একাই বল বক্স পর্যন্ত টেনে আনলেন এবং বক্সের বাহিরে থেকে শট বুফন দ্বারা সেভ!
রিবাউন্ডে লুইস সুয়ারেজ এর গোল।লুইস সুয়ারেজ গোল দিয়ে সম্পুর্ন দলবল নিয়ে বড়সড় একটা জায়গা দৌড়ে গিয়ে পিছনে অবস্থিত বার্সা ফ্যানদের সাথে উদযাপন করেন যা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সেলিব্রেশনের একটি।
ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে পুরো স্টেডিয়াম যেনো হটাৎ স্তব্ধ হয়ে গেলো কেননা জাভি ২৪ বছরের বার্সেলোনা ক্যারিয়ারে শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে।বার্সেলোনা ফ্যানরা শুধু হয়তো বলতে পারছিলো না যে এই সময়টা কেনো আসলো?কিন্তু তাদের মনে কষ্ট ঠিকই ছিলো যা প্রকাশ সম্ভব হয় নি।
ম্যাচের শেষ মূহুর্তে এসে পেদ্রোর এসিস্ট থেকে নেইমারের গোল এবং ম্যাচ শেষে স্কোর
বার্সেলোনা ৩ ইয়্যুভেন্তাস ১।
বার্সেলোনা ইউরোপ সেরা ৫ম বারের মতো।জাভি হার্নান্দেজ নিজের শেষ ম্যাচে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা উচিয়ে ধরলেন।এর থেকে সেরা বিদায় আর কী হতে পারে একজন কিংবদন্তির জন্য?
সবদিক দিয়েই বার্সেলোনা ফ্যানরা সেদিন ছিলো খুশির সর্বোচ্চ সীমানায়।
হয়তো এমন খুশির দিন,সেবারই বার্সেলোনা ফ্যানরা শেষবার অনুভব করেছিলো কেননা এরপর থেকেই প্রতি সিজনেই কোনো না কোনোভাবে আপসেট এসেছেই এবং করোনার পর একদম ভেঙে পড়া!প্রতিটা ক্লাবেরই একটা ভালো অথবা খারাপ সময় যায়।
বার্সেলোনার ভালো সময় বলতে গেলে অজান্তেই ভালো লাগা কাজ করে যে তারা কী না করেছিলো তবে আজ তারা কতোটা সাফার করে যাচ্ছে।বার্সেলোনার মতো ঐতিহাসিক দল খারাপ সময়ে মানায় না।তারা ফিরবে খুব শীঘ্রই এমনটাই চাওয়া
লেখক: হামজা বিন হালিম