21/06/2021
Bangla Assignment For SSC Batch 2022
ক) সূভা গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকরের বিখ্যাত গ্রন্থ “গল্পগুচ্ছ” থেকে নেওয়া হয়েছে। গল্পে বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী সূভার অমর চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ মানুষের প্রতি সামজিক মনোভাব এবং আচরণ সমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। সুভা ছিল বাক-প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পাতো না। তাই সে পরিবার এবং সমাজ থেকে নানা ধরনের আচরণ ও মন্তব্যের স্বীকার হয়। যেমন-
• তার মা তাকে নিজেকর গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতো, তাকে সহ্য করতে পরতো না।
• সমাজের অনেকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃচিন্তা করতে।
• গ্রামের অন্য বালক বালিকারা তার সাথে খেলতে চাইতো না।
• তার বাবা তাকে অন্য মেয়ের তুলনায় বেশি ভালবাসত।
যদিও তার বাবা সুভাকে অনেক ভালোবাসত, তবে তার মা এবং সমাজের বেশিরভাগ মানুষ তার প্রতি বিরুপ মনোভাব পোষণ করত। তার সাথে কেউ মিশেতে চাইত না। কিন্তু তার বিশাল আশ্রয়ের জগৎ ছিল। যারা কথা বলতে পারে না, যেমন প্রকৃতি, গাছপালা, পশুপাখি ছিল তার খুব আপনজন।
খ) সুভার প্রতি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক আচরণ: : আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। যাদের কেউ বাক—প্রতিবন্ধী, কেউ আবার চলতে পারে না, কেউ কেউ আছে যারা অন্য সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক আচরন না করে অস্বাভাবিক আচরণ করে না। যদিও এই সব প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদেরকে অনেকে সমাজের বোঝা মনে করে, তবে এটা কখনো উচিৎ নয়। সমাজের প্রতিবন্ধীদেরকে পেছনে ফেলে রেখে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নতি সম্ভব নয়। তাদেরকে সমাজের েএকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি তাদের প্রতি আমাদের যে দায়ত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করি তাহলে তাদেরকে সমাজ বা রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। প্রত্যেক সন্তানের বেড়ে উঠার জন্য যেমন সমাজ এবং পরিবাারের উত্তম আচরণ কাম্য ঠিক তেমনি গল্পের সুভা’র মতো প্রতিবন্ধী’রা ও পরিবার ও সমাজ থেকে উত্তম আচরণ প্রত্যাশা করে। যেমন-
• সুভার প্রতি অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া।
• যেহেতু সুভা বাক প্রতিবন্ধী তার সকল অনুভূতি যে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না, সুতরাং তার সাথে ভালোভাবে মেশা, এবং তার অব্যক্ত কথা গুলো বুঝার চেষ্টা করা।
• অন্য সুস্থ সবল সন্তানদের মতো তার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা।
• বাক-প্রতিবন্ধীরা যেহেতু অনেক বেশি স্পর্শকাতর , সেজন্য তাদেরকে কখনো কষ্ঠ না দেওয়া।
• সমাজের উচিৎ তাকে নিয়ে সমালোচনা বা নিন্দা না করে, তাকে সমাজের অংশ মনে করা।
• সমাজের সবার উচিৎ ছিল তার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা।
• সে যাহাতে নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা করে না রাখতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখা।
গ) আমাদের চারপাশে অনেক বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ শিশুদেরকে আমরা দেখতে পায়। যাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো ভাবে অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠে। কেউ হয়তো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না, কেউ স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারে না, কেউ কেউ চোখে কম দেখে, আবার কেউ কেউ আছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যারা বয়স বৃদ্ধি পেলে শিশুদের মতো আচরণ করে।
আমার দেখা একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অথ্যাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ ব্যাক্তি রয়েছে। তার বয়স বর্তমানে ১৮ হলেও তার আচরণ সম্পূর্ণ একটি শিশুর মতো। উদাহরণ স্বরুপ সে এখনও নিজে নিজে খেতে পারে না। সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। সে নিজেকে সব সময় অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতে ভালোবাসে। সে কারো সাথে মিশতে চাই না। তবে সে বিশেষ কিছু কাজে সে খুবই পারদর্শী। যেমন- মোবাইলে গেমস খেলা, যে কোনো ধরনের জটিল অংক করা, যা তার সমবয়স্কদের জন্য খুব কঠিন। সে সারা দিন কম্পিউটার, মোবাইল এ ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রের সাথে সময় অতিবাাহিত করে। সে কারো সাথে মিশতে না চাইলেও এসব যন্ত্রের সাথে নিজের সখ্যতা গড়ে তুলেছে।
এ ধরনের বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ শিশুর সংখ্যা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রদান কারণ হলো পরিবার। বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার আছে যেখানে সন্তানের মা – বাবা উভয়ই চাকরি করে অথবা নিজেদের কাজ নিয়ে সারাদনি ব্যাস্ত থাকে ফলে তারা তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারে না। আর এ কারণে সন্তানদের সঠিক পরিচর্চা গ্রহণ করা হয় না। আবার অনেক পরিবার আছে যারা শিশুদের উপর উপযুক্ত বয়স হওয়ার পূর্বে নানা ধরনের পড়ালেখা , কাজ কর্মের চাপ প্রয়োগ করতে থাকে , যা পরবর্তীতে ঐ শিশুর উপর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করে। বর্তমান সময়ের আরও একটি বড় সমস্যা শিশুদেরকে ছোটবেলা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদী বস্তু দিয়ে শান্ত করা। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি যখন ঐ সব শিশুর কাছে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে তখন তারা অনন্য সব কিছুকে অসহ্য মনে করে। এছাড়া আমাদের দেশের সব থেকে বড় সমস্যা মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদানের ব্যবস্থা না থাকা।
সুতরাং আমাদের উচিৎ মা ও শিশু যাহাতে প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদান পাই তার ব্যববস্থা করা, এবং সব সময় শিশু অবস্থায় তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যত্নশীল হওয়া। আর যদি সে জন্ম থেকে এ ধরনের জটিলতায় ভুগতে থাকে তাহলে তার সাথে উত্তম আচরণ করা এবং তাদেরকে দেশে ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা।
ঘ) একজন বিশেষ সম্পূর্ণ মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের থেকে আরো বেশি সংবেদনশীল। তারা অন্যদের মতো সব কিছু না বুঝলেও যখন তাদের ইচ্ছা ও ভালো লাগার বিরুদ্ধে তারা কারো আচরণ লক্ষ করে তখন অনেক বেশি কষ্ঠ পায়। তারা সব কিছু নিজেদের মতো করে চাই , কারণ তারা সব কিছু বোঝে না।
গল্পের সূভাও চাইতো তার অনেক বন্ধু বান্ধব থাকুক, যাদের সাথে সে ইশারায় কথা বলবে, গল্প করবে, মনের ভাব প্রকাশ করবে। সে চাইতো তার পরিবারের সবাই তার সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তার পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে খুশি থাকবে। কিন্তু যখন যে পরিবার এবং সমাজ থেকে তার প্রত্যাশিত আচরণ পেল না, যখন তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভেবে খারাপ আচরণ করে, েএলাকার ছেলে মেয়েরা যখন তাকে খেলার সাথী করতে নারাজ তখন সে বাধ্য সখ্যতা গড়ে তোলে প্রকৃতির সাথে, গৃহপালিত জীব জন্তুর সাথে। প্রকৃতিই যেন তার সকল অভাব পূরণ করে দেয়। যেন তার সাথে কথা বলতো নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর সমস্ত মিশে চারদিকের চলাফেরা সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় সুভার চির নিস্তব্ধ হৃদয়ের উপকূলে এস ভেঙ্গে পড়তো।
মানুষের সাথে তার ভাবের বিনিময় না হলেও প্রাণির সাথে তার ঠিকই হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে নিজের আবেগ অনূভিুতি গুলো প্রকাশ করার জন্য তাদেরকে বেছে নেই। যদিও একজন বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ শিশু স্বাভাবিক ভাবে তার সকল কাজ করতে পারে না। তবে সে ও মানুষ, বরঞ্চ তারা স্বাভাবিক মানুষের থেকে বেশি সংবেদনশীল এবং অনূভূতি প্রবণ।
সুতরাং আমাদের উচিৎ তাদের অনূভূতি প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া। তারা কষ্ঠ পাই এমন কিছু না করা। আমাদের চারপাশে এমন যে সব মানুষ আছে আমাদের উচিৎ তাদেরকে ভালোবাসা, তাদের সাথে মেশা, এবং তাদের কাজে সহয়তা করা এবং সখ্যতা গড়ে তোলা।