18/04/2024
ইউসিএল কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র হলো। রেয়ালের ভাগ্যে পড়লো উড়ন্ত ম্যান সিটি। সবাই বললো এই ম্যাচ সিটিই জিতবে। যেহেতু সিটিই ফেভারিট। সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওয়ালা। তাও আবার সেকেন্ড লেগ ইতিহাদে। পুরো ফুটবল ওয়ার্ল্ডের নজর এই ম্যাচের দিকেই। বলা হলো এই ম্যাচ যে জিতবে সেই জিতবে ইউসিএল। তবে এটাও বলা হলো সিটিই জিতবে৷ রেয়াল জিতলে মিরাকল। আমি বললাম 'রেয়াল মাদ্রিদই জিতবে।'
ফার্স্ট লেগে রেয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে গিয়েও ৩-৩ এই শেষ করতে হলো ম্যাচ। তাও পেপ খেলায়নি ডি ব্রুইনা ও ওয়াকারকে। সেকেন্ড লেগের জন্য এই দুই অস্ত্র জমা ছিলো পেপের। এর মধ্যে কার্ড সাসপেনশন খেলো চুয়েমেনি। সিটির ফুল স্কোয়াড, কেউ সাসপেনশনে নাই, কেই ইঞ্জুরিতে নাই। বিপরীতে রেয়ালের নেই মেইন গোল কিপার, মেইন সিবি ডুয়ো, নেই স্ট্রাইকার, চুয়েমেনি আবার সাসপেন্ড সেকেন্ড লেগে। সবাই বলে দিলো রেয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে ছেলেখেলা করবে সিটি, নাচোকে হ্যালান্ড ঘোল খাওয়াবে। ইতিহাদে নাকি ৩/৪ গোলের লিড না নিয়ে গেলে কোনো লাভ নাই। আমি বললাম, 'রেয়াল মাদ্রিদের যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন খুব ভয়ংকরভাবে ফিরে আসে। নাচো তার সেরাটা দিবে। রেয়াল মাদ্রিদই জিতবে।'
রেয়াল মাদ্রিদ পৌঁছে গেলো ম্যানচেস্টারে। এই ম্যানচেস্টারের ইতিহাদে জয় নেই রেয়ালের। অন্যদিকে জয়রথ চলছে সিটির। ইতিহাদ যেন সিটির অভেদ্য দুর্গ। সবকিছুই তাদের সমর্থন দিচ্ছে। সবাই তাদেরই জয়গান গাচ্ছে। এমনকি রেয়ালের সমর্থকদের মধ্যেও বেশিরভাগই ধরে নিয়েছিলো সিটিই জিতবে। এরপর সিটির অভেদ্য দুর্গ ইতিহাদের চিৎকার থামাতে কার্লো বাহিনীর লেগেছে মাত্র ১২ মিনিট। তারপর কার্লো যেটা করেছে সেটা নিয়ে আপনি সমালোচনা করতেই পারেন। তবে প্রবীন সেনাপতি লড়াইয়ের যেই কৌশল বেছে নিয়েছিলো সেটা না নিলে আমরা এই ম্যাচ জিতে ফিরতে পারতাম না। কতটা ক্ষুধার্ত ছিলো সিটি সেই ১২০ মিনিট এইটা সবাই বুঝেছে। সেই ক্ষুধার্ত সিটি শুধু একবারই ফসকে গিয়েছিলো হাত থেকে তাও ৭৬ মিনিটের মাথায়। আর সিটি একবার লিড নিয়ে নিলে আপনার গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো, মুখ দিয়ে একটা টুঁ শব্দও করতে পারতেন না। কারণ দাগআউটে কার্লোর পাশেই যে দাঁড়িয়ে তার নাম পেপ গার্দিওয়ালা। ট্যাক্টিস তার কাছে ব্ল্যাক ম্যাজিক। যাইহোক, এই ইতিহাদে ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। তবুও কেউই যখন জিতলো না। এবার টাই ব্রেকার। টাই ব্রেকারেও নাকি হট ফেভারিট ম্যান সিটি। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে লুনিন একাই টাই ব্রেকারে হয়ে গেলো নায়ক। যেন এক লুনিনে ভর করেছে আমাদের চোখে দেখা মাদ্রিদ শিবিরের ক্যাসিয়াস, নাভাস, কর্তোয়া। মদ্রিচের মিসের পর চোখ দিয়ে পানি ঝরে গিয়েছিলো। তবুও মনোবল হারাই নি।
দেখুন, আপনি যখন রেয়াল মাদ্রিদ নিয়ে কথা বলবেন তখন একটু সমীহ করে কথা বলবেন। রেয়াল মাদ্রিদ জিতলে মিরাকল হয় না। রেয়াল মাদ্রিদ হারলেই মিরাকল হয়। শতাব্দীর সেরা ক্লাব জিতবে এটাই স্বাভাবিক। এই রেয়াল মাদ্রিদ কোনো কিছুরই ভয় পায় না। কিন্তু রেয়াল মাদ্রিদকে আপনি ম্যাচের আগে বার বার যেভাবে হারিয়ে দেন এটা রসিকতাই হয়তো। রেয়াল হারে, হারতেই পারে। রেয়াল কোনো দেবতার ক্লাব না। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত রেয়াল জিতেই থাকে। রেয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির কাছে কোনো ক্লাব আশেপাশেই নেই। এই ম্যাচ জিতে সেলিব্রেট করেছি, কান্না করেছি। কারণ এই ম্যাচটা শুধু সিটির বিপক্ষে ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনাল ছিলো না। এই ম্যাচটা ছিলো রেয়াল মাদ্রিদ বনাম পুরো ফুটবল ওয়ার্ল্ড।
হ্যাঁ, আমরা জিতেছি। মাদ্রিদ জিতেছে। মাদ্রিদ এভাবেই জিতে। মাদ্রিদ এভাবেই জিতবে।
আলা মাদ্রিদ। ©️