Green Bangladesh শ্যামল বাংলা

Green Bangladesh শ্যামল বাংলা Save the Trees,Save the Rivers and Save Bangladesh Its topography is flat with no great mountains or deserts, and its rivers are vast.

Bangladesh's 147,570 sq km ( roughly the size of England and Wales) are situated on a fertile alluvial plain formed by large rivers, the Padma and the Jamuna. Bangladesh is bordered by India to the north-east and west, Myanmar to the south-east, and the Bay of Bengal to the south. The climate in Bangladesh is sub-tropical, with temperatures ranging from a daytime low of 18`c in the cold season to

a maximum of 40`c in the summer. Annual rainfall ranges from 200 to 400 cm. The country has four main seasons, Winter (Dec-Feb), Summer(Mar-May), Monsoon (Jun-Sep) and Autumn (Oct-Nov). From a mainly feudal agrarian base, the economy of Bangladesh has undergone rapid structural transformation towards manufacturing and services. The contribution of the agriculture sector to GDP has dwindled from 50 percent in 1972-73 to around 20 percent in 1999-2000. The agricultural sector is, however, still the main employment provider. The staple crop is rice, with paddy fields accounting for nearly 70% of all agricultural land. Industrial production growth has averaged more than 6% over the last 5 years. The export sector has been the engine of industrial growth, with ready-made garments leading the way, having grown at an average of 30% over the last 5 years. Primary products constitute less than 10 percent of the country`s exports; the bulk of exports are manufactured/processed products, ready-made garments and knit wears in particular. Forestry is a long-term production system. It has manifold contribution towards the welfare of mankind. The multiple use of forest resources have been recognized from the advent of civilization. The Forestry sector contributes about 5% of the total GDP (Gross domestic product) of Bangladesh. This does not reflect the true contribution of this sector. The rural population uses fuelwood and other minor forest products practically free of cost. Forest also plays an important role in protecting watersheds, irrigation and hydraulic structure, also in keeping the rivers and ports navigable. It also plays key role in protecting the coastal areas from natural calamities. The role of forest in protecting the environment from pollution and its contribution towards bio-diversity is immense. More than 50% of Bangladesh’s forest has disappeared in the last 30 years and today, the forests in sanctuaries and national parks – collectively known as "Protected Areas" – are critically threatened. At this rate of degradation, many unique flora and fauna will be lost forever. If we really care about the CO2 in the atmosphere then we need to cut down less trees and re-plant those we have already taken out, then plant another 6 Billion more, yes that is a Billion with a "B". Land Clearing, deforestation and other issues is a huge calamity. Trees take CO2 and turn it to oxygen, and if we plant 6-8 Billion trees we might solve the Climate Change, greenhouse problems. Indeed, we are losing 2-acres a minute as has been noted. Lots of issues out there indeed.

পানি লং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের জন্মানো ভেষজ বিরুৎবৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia hyssopifolia (G. Don) Exell apud A. & R. Fernan...
22/12/2025

পানি লং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

বৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia hyssopifolia (G. Don) Exell apud A. & R. Fernandes, Garcia de Orta 5: 471 & 474, t. 2 (1957).. সমনাম : Jussiaea linifola Vahl (1798), Jussiaea hyssopifolia G. Don (1832), Jussiaea fissendocarpa Haines (1920). ইংরেজি নাম : Seedbox. স্থানীয় নাম : পানি লং।

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Myrtales. পরিবার: Onagraceae. গণ: Ludwigia প্রজাতির নাম: Ludwigia hyssopifolia

ভূমিকা: পানি লং (বৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia hyssopifolia) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বিরুৎ। এই প্রজাতিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে জন্মায়।

এটি শাখান্বিত খাড়া বীরুৎ প্রজাতি। এই প্রজাতির পাদদেশ কাষ্ঠল, লম্বা শাখাসহ ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু, কখনও ছোট আকারের গুল্ম এবং অনুসর্পী, কান্ড কোণীয় এবং সরু পাখনাবিশিষ্ট। পাতা সরল, একান্তর, ১.০-৮.৫ ০ ০.২-২.৭ সেমি, রৈখিকাকার থেকে ভল্লাকার, পাদদেশ সরু কীলকাকার, অগ্রভাগ তীক্ষ্ণাগ্র থেকে দীর্ঘাগ্র, পত্রবৃন্ত ২-১১ মিমি লম্বা।

পুষ্প হলুদ, কাক্ষিক, একক। বৃতির নল ১ সেমি (প্রায়) লম্বা, বৃত্যংশ ৪টি ও দৈর্ঘ্য ২.৫-৪.৫ এবং প্রস্ত ০.৮-১.৩ সেমি। দেখতে ভল্লাকার, অণুরোমশ, স্থায়ী। পাপড়ি ৪টি ও মুক্ত। পুংকেশর ৮টি, পরাগধানী ০.৩- ০.৫ × ০.২-০.৩ মিমি। গর্ভদন্ড ০.৮-১.৬ মিমি লম্বা, গর্ভমুণ্ড আড়াআড়িভাবে ০.৫-১.৫ মিমি, ৪-খন্ডিত, গর্ভাশয় অধোগর্ভ, ডিম্বক অসংখ্য।

ফল ক্যাপসিউল, ১২-২৫ × ১.০-১.৫ মিমি, প্রস্থচ্ছেদে প্রায় বৃত্তাকার, রেখিকাকার, নিচের অংশ অধিক সরু, একক শ্রেণীতে সজ্জিত বীজবিশিষ্ট অংশটি একটি সুস্পষ্ট স্ফীত অংশের মাধ্যমে যুক্ত, ক্যাপসিউলের উপরের এক-তৃতীয়াংশ লম্বা এবং বীজগুলো বহু শ্রেণীতে সজ্জিত, ক্যাপসিউলের বিদারন শুধুমাত্র লম্বা অংশে সীমাবদ্ধ, বিদারণের পরে ভাল্বগুলো খন্ড আকারে টিকে থাকে। বীজগুলো দ্বি-রুপী, ফ্যাকাশে বাদামী থেকে বাদামী, নিচের অংশে মুক্ত, ০.৬-০.৯ মিমি লম্বা, প্রতিটি বীজ দীর্ঘায়ত এবং অপেক্ষাকৃত শক্ত, পুরু, ট্রাপিজিয়াম আকৃতির এবং অমসৃণ অন্তস্তকে দৃঢ়ভাবে নিহিত, ক্যাপসিউলের উপরের লম্বা অংশের বীজগুলো ০.৩-০.৬ মিমি লম্বা।

ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ১৬ (Gadella and Kliphuis, 1968).

পরিত্যক্ত স্থান, জলমগ্ন মাঠ, রাস্তার ধার, আশপাশের পতিত জমি, মিঠা পানির পুকুর এবং খালের পাড়। এদের ফুল ও ফল ধারণ সময় কাল জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজের মাধ্যমে।

গ্রীষ্ম প্রধান পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শ্রীলংকা এবং পেনিনসুলার ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত, উত্তরে আসাম এবং আপরি মায়ানমার পর্যন্ত, পূর্বে তাইওয়ান, সমগ্র মালয়েশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া, পলিনেশিয়া এবং গ্রীষ্ম প্রধান আমেরিকা। বাংলাদেশে ইহা একটি আগাছা হিসেবে দেশের ই সর্বত্র বিস্তৃত।

ইহা শস্যক্ষেত ও পতিত জমির একটি সাধারণ আগাছা হয়ে জন্মায়। ভারতে এই উদ্ভিদটি একটি আয়ুর্বেদীয় ঔষধ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।[১] এছাড়া এই উদ্ভিদটি ডায়রিয়া, আমাশয়, অন্ত্রপ্রদাহ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ব্রণ, ফোঁড়া এবং অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসায় উদ্ভিদের একটি পোল্টিস ব্যবহার করা হয়। পাতাগুলি জ্বর-প্রতিরোধী ক্বাথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সিফিলিসের চিকিৎসায় শিকড়ের ঠান্ডা আধান ব্যবহার করা হয়।[২]

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পানি লং প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে পানি লং সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

কুচিলা" একটি পরিচিত গাছ, যার বৈজ্ঞানিক নাম *Strychnos nux-vomica*। এটি লগানিয়াসি (Loganiaceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ। বা...
30/03/2025

কুচিলা" একটি পরিচিত গাছ, যার বৈজ্ঞানিক নাম *Strychnos nux-vomica*। এটি লগানিয়াসি (Loganiaceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। কুঁচিলা গাছ তার বিষাক্ত বৈশিষ্ট্য এবং ঔষধি গুণের জন্য বিখ্যাত। এটি সাধারণত বীজের জন্য পরিচিত, যাকে "কুঁচিলা বীজ" বলা হয়। তবে, এটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বিপজ্জনক হতে পারে। নিচে কুঁচিলা সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

কুঁচিলার বৈশিষ্ট্য:
- **গাছ**: কুঁচিলা একটি মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছ, যা ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর ছাল ধূসর বা বাদামি রঙের হয়।
- **পাতা**: পাতা ডিম্বাকৃতি, চকচকে এবং গাঢ় সবুজ। এগুলো ৫-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
- **ফুল**: ফুল ছোট, সাদা বা সবুজাভ সাদা, এবং একটি হালকা গন্ধ থাকে। ফুলগুলো মঞ্জরিতে ফোটে।
- **ফল**: ফল গোলাকার, কমলা বা হলুদ রঙের হয় যখন পাকে। এর ব্যাস ৩-৫ সেন্টিমিটার। ফলের ভিতরে ২-৫টি বীজ থাকে।
- **বীজ**: কুঁচিলার বীজ গোল, চ্যাপ্টা এবং ধূসর রঙের। এগুলো খুব শক্ত এবং এতে স্ট্রিকনিন (Strychnine) নামক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।

কুঁচিলার ঔষধি গুণ:
কুঁচিলা তার বিষাক্ততার জন্য ভয়ংকর হলেও, আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি এবং লোকজ চিকিৎসায় এটি সঠিক পরিমাণে এবং প্রক্রিয়াকরণের পর ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর কিছু ঔষধি গুণ নিচে দেওয়া হলো:
1. **ব্যথা উপশম**: কুঁচিলা বীজ থেকে প্রক্রিয়াজাত ঔষধ স্নায়ুতন্ত্রের ব্যথা, যেমন আর্থ্রাইটিস বা পেশির ব্যথায় উপকারী হতে পারে।
2. **হজম শক্তি বৃদ্ধি**: আয়ুর্বেদে এটি অল্প পরিমাণে হজমশক্তি বাড়াতে এবং ক্ষুধা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।
3. **স্নায়বিক সমস্যা**: হোমিওপ্যাথিতে কুঁচিলা (Nux Vomica) স্নায়বিক দুর্বলতা, অনিদ্রা এবং মানসিক চাপের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
4. **শ্বাসকষ্ট**: কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যায় এটি সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়।
5. **পক্ষাঘাত**: লোকজ চিকিৎসায় এটি পক্ষাঘাতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তবে এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।

**সতর্কতা**:
- কুঁচিলার বীজে স্ট্রিকনিন থাকায় এটি অতিরিক্ত গ্রহণে শ্বাসকষ্ট, পেশির খিঁচুনি এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এবং প্রক্রিয়াকৃত অবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।
- কাঁচা বীজ সরাসরি খাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়।

ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণ:
- **আয়ুর্বেদে**: বীজকে প্রথমে শুদ্ধ করা হয় (সাধারণত দুধে সিদ্ধ করে বা অন্য প্রক্রিয়ায় বিষাক্ততা কমানো হয়), তারপর ঔষধ তৈরি করা হয়।
- **বিষ হিসেবে**: ঐতিহাসিকভাবে, কুঁচিলা বীজ ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে বা শিকারে ব্যবহৃত হতো।
- **শিল্পক্ষেত্রে**: স্ট্রিকনিন রাসায়নিক শিল্পে সীমিতভাবে ব্যবহৃত হয়।

পরিবেশ ও জন্মস্থান:
- কুঁচিলা গাছ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতে ভালো জন্মায়। এটি বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা, ভারতের দক্ষিণাঞ্চল (তামিলনাড়ু, কেরালা) এবং শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়।
- এটি শুকনো এবং আর্দ্র উভয় ধরনের মাটিতে বেড়ে উঠতে পারে।

বিশেষত্ব:
- কুঁচিলার বীজ অত্যন্ত তেতো এবং এর গন্ধও তীব্র হয়।
- এটি একটি আগ্রাসী প্রজাতি নয়, তবে এর বিষাক্ততার কারণে প্রকৃতিতে এটি নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:
- বাংলা ভাষায় "কুঁচিলা" নামটি এর বিষাক্ততার কারণে ভয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লোককথায় বা প্রবাদে এটি মাঝে মাঝে উল্লেখ পায়।

সংক্ষেপে, কুঁচিলা একটি শক্তিশালী ভেজষ উদ্ভিদ, যার ঔষধি গুণ রয়েছে, কিন্তু এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।

বিষাক্ত’ সুন্দর আলকুশী‘মচর মচ্, মচর মচ্, মচর মচ্ ॥ আলাকুশী মালা গাঁথে/ পাশে প্রিয়া ভোগে বাতে,/ থেঁতো করে গোলমরিচ গো/ হচর...
06/03/2025

বিষাক্ত’ সুন্দর আলকুশী
‘মচর মচ্, মচর মচ্, মচর মচ্ ॥ আলাকুশী মালা গাঁথে/ পাশে প্রিয়া ভোগে বাতে,/ থেঁতো করে গোলমরিচ গো/ হচর হচ্, হচর হচ্, হচর হচ্॥’

কবি কাজী নজরুল ইসলামও মজেছিলেন আলকুশীর রূপে, ঔষধি গুণে। তবে আলকুশী ফলের ছোঁয়া জীবনে যে না পেয়েছে, সে বুঝবে না এর ‘প্রেম’ কতটা বেদনার। ফলের গায়ে যে সূক্ষ্ম পশমের মতো শুঁয়া থাকে, তাতেই লুকিয়ে আছে সেই বেদনা। শরীরের যেখানেই সেই শুঁয়া লাগুক, চুলকাতে চুলকাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়।

আলকুশীর ফল পাকার সময় হলে এর খোসা থেকে পশমগুলো বাতাসে উড়তে শুরু করে। বনে থাকা বানর তা বুঝতে পারে। তাই সে সময় তারা দল বেঁধে সে জায়গা থেকে সটকে পড়ে। পাকা ফল ঝরে মাটিতে পড়লে আবার তারা সেখানে ফিরে আসে।

খুলনা, বাগেরহাট ও যশোর অঞ্চলে আলকুশীর স্থানীয় নাম দয়ারগুঁড়ো, নওগাঁ-নাটোরে এর নাম শুয়াগুঁড়া। এ ছাড়া অঞ্চলভেদে বিলাইখামচি, খামচি, বিলাইআঁচড়া, সোয়াস গুঁড়ি, বিচ্ছুটি ইত্যাদি নামে একে ডাকা হয়। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Mucuna pruriens, পরিবার ফ্যাবেসি।
লাতিন শব্দ পিউরিয়েন্স মানে চুলকানোর অনুভূতি। মখমলের মতো ফলের খোসা, এ জন্য এর ইংরেজি নাম বেঙ্গল ভেলভেট বিন। বিন মানে শিম বা শুঁটি। কচি ফলের খোসার ওপরে খাটো শুঁয়া থাকে ও খোসা থাকে সবুজাভ, ধীরে ধীরে তা বাদামি-সোনালি মখমলের মতো হয়ে যায়। ফলগুলো থোকা ধরে শিমের মতোই। একটা ফলের মধ্যে শিমের মতো চার-পাঁচটা শক্ত বীজ থাকে, যা থেকে চারা হয়।

গ্রামাঞ্চলে বনজঙ্গলে আগে বেশ দেখা পাওয়া যেত। এখন সে রকম চোখে পড়ে না। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুরে শালবনে হেমন্তের এক দুপুরবেলায় দেখা হলো সেই ‘বিষাক্ত’ সুন্দর আলকুশীর সঙ্গে। বছর দশেক আগে দেখেছিলাম বান্দরবানে বালাঘাটা যাওয়ার পথের ধারে জঙ্গলে। বান্দরবানের পাহাড়ি জঙ্গলের ফুলের থোকা ছিল অনেক বড়, অনেক ফুল বেণির মতো হওয়ায় দুলছিল।

সখীপুরের শালবনে যার দেখা পেলাম, সেই থোকায় ফুলের সংখ্যা কম, চার থেকে ছয়টা।

ফুলের পাপড়ি পাকানো, রং ঘন বেগুনি, গোড়ার দিকটা হালকা গোলাপি, ফুলের মাথার দিকে ছোট্ট একটি সাদা অংশ ইঁদুরের দাঁতের মতো বেরিয়ে আছে পরাগায়নের জন্য উন্মুখ হয়ে। থোকা ধরা ফল ঝুলছে লতার গিঁটে গিঁটে। লতা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বেয়ে চলেছে এক গাছ থেকে আরেক গাছে।

শিমগাছের পাতার মতো পাতা, একটা বোঁটায় তিনটি। পাতার ফলকের আকৃতি কিছুটা হীরকের মতো। পাতার রং সবুজ, অগ্রভাগ ভোঁতা, ওপর-পিঠ মসৃণ, নিচের পিঠ হালকা রোমশ।

বুকে জমা কফ সারাতে এর শিকড় ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আলকুশীর বীজ ভেজে গুঁড়া করে কফির মতো পানীয় হিসেবে কেউ কেউ খায়। এতে প্রজননক্ষমতা বাড়ে।

স্যাঁতসেঁতে ভেজা জংলা জায়গায়, আর্দ্র অঞ্চলে ও পরিত্যক্ত জমি যেখানে মানুষের যাতায়াত কম সেসব জায়গাতেই অযত্নে অবহেলায় উচুন্...
25/12/2024

স্যাঁতসেঁতে ভেজা জংলা জায়গায়, আর্দ্র অঞ্চলে ও পরিত্যক্ত জমি যেখানে মানুষের যাতায়াত কম সেসব জায়গাতেই অযত্নে অবহেলায় উচুন্টি গাছ জন্মাতে দেখা যায়।

উচুন্টি, ইংরেজিতে এর নাম goatweed, whiteweed। উচুন্টির বৈজ্ঞানিক নাম: Ageratum conyzoides। এটি Asteraceae পরিবারের একটি একবর্ষজীবী বিরুৎ জাতীয় ঔষধি উদ্ভিদ। গাছটি ৩০ - ৬০ সেমি লম্বা হয়, কাণ্ড খাড়া ও রোমশ, পাতা অর্ধগোলাকার ও কিনার খাঁজকাটা ২ - ৬ সেমি লম্বা। উচন্টির ফুল সাধারণত সাদা, তবে সাদার মধ্যে হালকা গোলাপি আভা লক্ষণীয়।

উচুন্টি গাছ বাংলাদেশসহ অন্যান্য অঞ্চলে সাধারণত আক্রমণকারী আগাছা হিসেবে বিবেচিত একটি উদ্ভিদ। এটি স্যাতস্যাতে স্থানে বেশি জন্মে। একে ফুলকুড়ি, দোচুন্টি, ভুরভুষি নামেও ডাকা হয়। পুষ্প বিন্যাস শিরমঞ্জরী, সমপরিনত, ব্যাস ৩-৬ মিমি, প্রান্তীয় ঘন সমভূমঞ্জরীতে সজ্জিত, ০.৫-৩.০ মিমি লম্বা রোমশ পুস্পদন্ডে অবস্থিত, পত্রাবরণ অনূর্ধ্ব ৬ x ৫ মিমি। পরাগধানী উপাঙ্গ বিশিষ্ট, নিম্নাংশে স্থূলাগ্র সিপসেলা সংকীর্ণ ভাবে আয়তকার। মঞ্জুরিতে থোকা থোকা ফুল হয়। ফল পাঁচ কোণী ও কালো। প্রায় সারাবছরই কমবেশি ফুল থাকে। তবে বর্ষায় বেশি ফুল ফোটে। প্রায়শই এর ফুলে প্রজাপতি বা নানা কীটপতঙ্গ দেখা যায়। এ থেকে বোঝা যায় যে ফুলে মধু আছে।

উচুন্টি নিজেই কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত বীজ থেকেই এর বংশবিস্তার হয়ে থাকে। গাছটির পাতা, মূল ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই গাছ বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।

অড়হর (Pigeon Pea)  Leguminosae গোত্রের Cajanus cajan প্রজাতির একজাতীয় ডালের স্থানীয় নাম। বসতবাড়ির আশেপাশে, ক্ষেতে অথ...
28/11/2024

অড়হর (Pigeon Pea) Leguminosae গোত্রের Cajanus cajan প্রজাতির একজাতীয় ডালের স্থানীয় নাম। বসতবাড়ির আশেপাশে, ক্ষেতে অথবা রাস্তার ধারে গৌণ ফসল হিসেবে সনাতন পদ্ধতিতে এর চাষ হয়। গাছ সচরাচর ৩০০ দিনে ফলনশীল হয়। বাংলাদেশে বেশির ভাগ অড়হরের চাষ কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর ও যশোর জেলায়। মোট প্রায় ৫,২১৫ একর জমিতে এ ফসলের চাষ হয় এবং এ থেকে বার্ষিক উৎপন্ন ডালের পরিমাণ প্রায় ১,০০৫ মে টন।

অড়হর নানা ধরনের আবহাওয়ায় ও মাটিতে ফলে। শিকড় মাটির গভীরে পৌঁছানোর সুবাদে এটি খরাসহিষ্ণু এবং সেজন্য অর্ধ-শুষ্ক আবহাওয়ায় বার্ষিক ৬৫ সেমি বৃষ্টিপাতেও ভাল বাড়ে। অধিক আর্দ্র জমি এ ফসলের উপযোগী নয়।

অড়হর শক্তপোক্ত, কয়েক বছর স্থায়ী গুল্ম, ১-৪ মিটার লম্বা, কখনও বর্ষজীবী। ফুল হলুদ, পরিপক্ক পাতা হালকা বাদামি। বীজ সাদা বা তামাটে সাদা। কচি সবুজ বীজ সবজি হিসেবে এবং পাকা শুকনো বীজ ডাল হিসেবে খাওয়া হয়। ফলসহ উদ্ভিদের আগা উত্তম পশুখাদ্য এবং এগুলি দিয়ে খড় ও সবুজ পশুখাদ্য বানানো যায়। ছাউনি ফসল, সবুজ সার এবং বাতাসের গতি রোধক হিসেবেও অড়হর ব্যবহার্য। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই এ ফসল ফলে, তবে মাটিতে চুনের অত্যধিক ঘাটতি বাঞ্ছনীয় নয়।

অড়হর ডাল ও অড়হর গাছের যতসব উপকারীতা :

আয়ুর্বেদ মতে: অড়হর ডাল কষায়-মধুর,রস,শরীর শীতল করে,রুক্ষ, লঘু,মলরোধ করে,বায়ুজনক,মুখের কান্তি উজ্জল করে (বর্ণপ্রসাদক)। কফ,পিত্ত ও রক্তের দোষ নাশ করে।

এই ডাল হজম ও হয় তাড়াতাড়ি।

এমনিতে দু-রকমের অর্থাৎ হলুদ ও লাল অড়হর ডাল পথ্য হিসেবে ভাল,কিছুটা কৃমি ও ত্রিদোষ(বাত কফ পিত্ত) নাশ করে। অর্শ ও বায়ুগোলক (বা পেটের টিউমার) রোগে ও উপকারী। হাকিমি বা ইউনানি মতে অড়হর ডাল বিষ নাশক।

অড়হর ডাল কফ,রক্তের দোষ ও বিষক্রিয়া নষ্ট করে। হাকিমি মতে অড়হরের পাতা: অড়হরের পাতার সঙ্গে নিম পাতা খেলে অর্শ রোগের উপশম হয়। এই ভাবে অড়হরের পাতা খেলে খিদে বেড় যায়।

* অড়হর ডাল খেলে শ্রবণশক্তির দোষ সারে,পিপাসা মেটে-শরীরে সব রকমের জ্বালা সারে।

* আগেই বলা হয়েছে অড়হর ডাল রুক্ষ-দই বা দূধ দিয়ে রান্না করলে এই রুক্ষতা নষ্ট হয়।

* পাতা সেদ্ধ করে জল দিয়ে কুচকুচি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।

* জনডিস রোগীর পক্ষে অড়হরের পাতা খাওয়া(পাতা বেটে নিয়ে তার রস) খুবই উপকারী।

* অড়হর পুষ্টির দিক থেকে ছোলার ডালের চেয়ে কম হলেওএই ডাল ত্রিদোষ নাশক(কফ,বায়ু ও পিত্ত নাশক)।

* অড়হরের পাতার রসে ঘি মিশিয়ে পান করলে রক্তপিত্ত সারে-নাক।

* অড়হরের পাতা আগুনে পুড়িয়ে সেই ছাই-এ টক দই মিশিয়ে লাগালে চুলকানি সারে।

* অড়হরের পাতা ও দুর্বাঘাসের রস একসঙ্গে মিশিয়ে নস্য নিলে আধকপালে মাথাব্যথা সেরে যায়।

*কাশি হলে এই পাতার ৭/৮ চামচ রস একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।

ডাইবেটিকস হলে অড়হর পাতার রস করে সকালে বিকেলে এক কাপ করে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়। তবে এর মূলের রস আট দশ গ্রাম থেঁতো করে অল্প পানিতে সিদ্ধ করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। (সংগৃহীত)

বন টেপারি গাছ: একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঔষধি সম্পদবাংলাদেশের উদ্ভিদ জগতের এক চমৎকার সদস্য হলো বন টেপারি গাছ। এটি মূলত এ...
26/11/2024

বন টেপারি গাছ: একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঔষধি সম্পদ

বাংলাদেশের উদ্ভিদ জগতের এক চমৎকার সদস্য হলো বন টেপারি গাছ। এটি মূলত একটি ঝোপজাতীয় গাছ, যা সাধারণত উঁচু পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল এবং বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Calotropis gigantea, এবং এটি আকন্দ বা মাদার গাছ নামেও পরিচিত। বন টেপারি গাছের পাতা, ফুল এবং বাকল অনেক ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন।

বন টেপারি গাছের বৈশিষ্ট্য:

বন টেপারি গাছের উচ্চতা সাধারণত ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পাতা বড় ও চওড়া, আকারে প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা। গাছটির পাতাগুলো সাধারণত সবুজ বা হালকা ধূসর রঙের হয় এবং এর ফুলগুলো হালকা বেগুনি বা সাদা রঙের হয়। ফুলগুলো দেখতে খুব সুন্দর এবং এদের থেকে এক ধরনের মিষ্টি গন্ধ বের হয়, যা বেশ আকর্ষণীয়।

বন টেপারি গাছের ঔষধি গুণাবলী:
বন টেপারি গাছের ঔষধি গুণাগুণ সুপরিচিত। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক চিকিৎসায় এই গাছের পাতা, ফুল, বাকল এবং মূল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিচে কিছু প্রাথমিক গুণাবলীর উল্লেখ করা হলো:

1. দাঁতের চিকিৎসায়: বন টেপারির বাকল দাঁতের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। এটির পেস্ট তৈরি করে দাঁতের মাড়িতে লাগালে ব্যথা ও ইনফেকশন দূর হয়।

2. ত্বকের সমস্যা সমাধান: এই গাছের রস ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন দাগ, খোস-পাঁচড়া, এবং চর্মরোগে ব্যবহার করা হয়। রসটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হওয়ায় এটি চামড়ার সংক্রমণ রোধ করতে পারে।

3. বাত ও জয়েন্টের ব্যথায়: গাছটির পাতা গরম করে জয়েন্টে লাগালে আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

4. অন্ত্রের পোকা নাশ: এই গাছের পাতা থেকে তৈরি নির্যাস অন্ত্রের পোকা দূর করতে কার্যকর।

বন টেপারি গাছের পরিবেশগত গুরুত্ব

বন টেপারি গাছ: একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঔষধি সম্পদ.

বন টেপারি শুধুমাত্র ঔষধি গুণাগুণের জন্যই নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মাটি সংরক্ষণে সহায়ক এবং বৃষ্টিপাতের পরে ভূমিক্ষয় রোধে কাজ করে। এছাড়া, এর ঘন শাখাপ্রশাখা পাখিদের আশ্রয় এবং খাদ্যের উৎস সরবরাহ করে।

টেপারি গাছের প্রতিকূলতা

যদিও বন টেপারি গাছ অত্যন্ত শক্তপোক্ত এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, তবে অতিরিক্ত বৃক্ষনিধনের ফলে এর প্রাকৃতিক পরিবেশে সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে এই প্রজাতির সংরক্ষণ প্রয়োজন।

বন টেপারি গাছ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান। এই গাছের সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা হলে তা আমাদের জীববৈচিত্র্য ও ঔষধি সম্পদকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে।

কালকাসুন্দা, কাসমর্দ, কালকাসুন্দি, কালকেসেন্দা। সংস্কৃত নাম কাশমার এর বৈজ্ঞানিক নাম Cassia sophera। বর্ষাকালে গ্রামবাংলা...
25/11/2024

কালকাসুন্দা, কাসমর্দ, কালকাসুন্দি, কালকেসেন্দা। সংস্কৃত নাম কাশমার এর বৈজ্ঞানিক নাম Cassia sophera। বর্ষাকালে গ্রামবাংলার পতিত জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কালকাসুন্দার গাছ জন্মে । এর ফুল হলুদ রঙের এবং এতে মটরশুটির মত গুটি হয় । এটি শুকিয়ে গেলে এর বীজ বের হয় । এর পত্র বৃন্তে চার থেকে ছয় জোড়া পাতা হয়। পাতা হাতে নিলে একধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। এদের ফুল হলুদ আর ফল চ্যাপ্টা হয়। এই গাছের ফল লম্বাটে শুঁটি। গাছ ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।কাণ্ডের রং গাঢ় সবুজ। বেশ শক্ত। সাধারণত বর্ষা থেকে শরৎকালের মধ্যে এই গাছ জন্মায়। আর শীতের শেষ পর্যন্ত বাড়তে থাকে।

জন্মস্থানঃ

বাংলাদেশ ও হিমালয় থেকে সিংহল পর্যন্ত এবং ভারতের পশ্চিমাঞ্চল থেকে মায়ানমার পর্যন্ত এই গাছ প্রচুর দেখা যায়। প্রাচীনকাল থেকে এই গাছের ডালপালা ও পাতা থেকে নানা রকম ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যে সকল রােগের উপশম হয়ঃ

গাছের পাতা ও মূল ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সংস্কৃত লেখকদের মতে ছােট কালকেসেন্দার যে গুণ আছে বড় কালকেসেন্দার সেই গুণ বর্তমান।

১. রক্ত দোষ হলে ও এক ভােলা পরিমাণ কালকাসুন্দা পাতার রস । মিছরি চূর্ণ সহ সকালে নিয়মিত সেবন করলে রক্তদোষ দূর হয় ।

২. কাশি হিক্কাযুক্ত শ্বাস এবং স্বরভঙ্গ হলে এক ভােলা পরিমাণ কালকাসুন্দা পাতার রস আধা সের পানি সহ আগুনে সেদ্ধ করে আধা পােয়া থাকতে নামিয়ে নিতে হবে তারপর ছেকে নিয়ে সেবন করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়

৩. পিত্তদোষ হলে এক তােলা পরিমাণ কালকাসুন্দে পাতার রস মধুসহ নিয়মিত সেবন করলে উপকার পাওয়া যাবে ।

৪. কোষ্ঠবদ্ধতায় এক ভােলা কালকাসুন্দে পাতার রস গরম পানি যােগে নিয়মিত সেবন করলে কোষ্ঠবদ্ধতা সারে ।

৫.কালকাসুন্দার পাতা সেদ্ধ করে ঘিয়ে ভেজে শাকের মত রান্না করে খেলে অরুচিতে রুচি আনে।

৬.তারকা রোগ হলে কালকাসুন্দার পাতা বেটে দুধের সাথে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৭. কালকাসুন্দার বীজ চূর্ণ করে শিশুদের খাওয়ালে দাস্ত বন্ধ হয়ে যায়।

৮. বিছা কামড়ালে কালকাসুন্দার পাতা নল বানিয়ে ফুঁ দিলে বিছার কামড়ের যন্ত্রণা দূর হয়।

৯. কালকাসুন্দার পাতা গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে বেটে নিয়ে তার ওপর প্রলেপ দিলে গোদ রোগ ভালো হয়।

১০. কালকাসুন্দার পাতা বেটে ফোঁড়ায় ও দাদে প্রলেপ দিলে ফোঁড়ার যন্ত্রণা কমে ও দাদ
ভালো হয়ে যায়।

১১.কালকাসুন্দের ফুলচূর্ণ করে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে পানিসহ খেলে অম্বলজনিত গলা ও বুক জ্বালা রোগ সেরে যায়।

১২. যদি হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে কালকাসুন্দের পাতার রস এক চামচ খাইয়ে দিতে হয় এবং সেই সঙ্গে দু-ফোঁটা রস নাকে ঢেলে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

১৩. কালকাসুন্দের শিকড়ের ছাল বেটে পানি দিয়ে খেলে হাঁপানি রোগ ভালো হয়।

১৪. অরুচির ক্ষেত্রে থাকে পিত্ত শ্লেষ্মারদো ষ, তার প্রধান লক্ষণ থাকবে জিভটা ফাটা ফাটা এবং জিভের ধারটালাল; কিছু খেলেই জ্বালা করে আর মুখে কিছুতেই যেন রুচি হয় না; এক্ষেত্রে কালো বা সাদা কাসুন্দের পাতা অল্প লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে তবে জল ফেলার দরকার নেই; তা ঘিয়ে সাঁতলে ৮ থেকে ১০ গ্রাম আন্দাজ শাকের মতো ভাতের সঙ্গে খেলে ২ থেকে ৩ দিনেই অরুচিটা সেরে যাবে কিন্তু বেশি খেলে পেটে বায়ু হওয়ার ভয় থাকে, সুতরাং অল্পখা ওয়াই ভালো।

১৫. যে গলা ভাঙ্গায় মাঝে মাঝে ফাটা কাঁসির মতো সবার বেরোয়, আবার একদম বসে যায়, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে এটাতে কফের সঙ্গে পিত্তেরও যোগ আছে; এক্ষেত্রে এর পাতা ও ফুল দুটোয় মিলিয়ে ১০ গ্রাম আর শুষ্ক হলে ৩ গ্রাম ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে প্রত্যহ সকালে ও বিকালে অধোকটা করে দুইবারে সমস্তটা খেতে হবে। তবে এর সঙ্গে এক চা চামচ করে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো হয়।

১৬. এদের দাস্ত বারে বারে হবে, গন্ধ বিশেষ নেই, রংও হলুদ, নোনতা জিনিস খাওয়ার ঝোঁক বেশি,এক্ষেত্রে কালো কাসুন্দের পাতার রস এক চা চামচ একটু গরম করে খেতে দিলে ওটা সেরে যাবে। তবে সাবধানে না থাকলে আবার আসবে।

১৭. ঘুস ঘুসে জ্বর হলেও খাওয়ায় অরুচি নেই, আর জ্বর আসার এবং সময়েরও ঠিক নেই, আস্তে আস্তে হাত পা সরু হতে থাকে; পেটটাও বড় হয়, শিরা বেরোয়, গুঠলে মল,
আয়না পেলেই তাঁরা দাঁতের ময়লা আর দাঁতের ফাঁক দেখে;এদের এই ঘুসঘুসে জ্বরে কালোকাসুন্দের শিকড়ের ছালকে বেটে, মটরের মতো বড়ি করে রাখতে হবে।
প্রতিদিন পানি দিয়ে সকাল ও বিকাল খেতে হবে।

১৮. শরীরে লাল চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠে, এক্ষেত্রে কালোকাসুন্দের পাতার রস করে গায়ে মাখলে ওটা সেরে যায়, এমন কি ছোটখাটা দাদও সেরে।

খইয়া বাবলা বা বাবলা গাছএকসময় গ্রামের রাস্তা, ক্যানেলের পাশে, কৃষিজমির আইলে অহরহ দেখা মিলত বাবলাগাছের। এর ছায়ায় জিরিয়ে ন...
29/04/2023

খইয়া বাবলা বা বাবলা গাছ
একসময় গ্রামের রাস্তা, ক্যানেলের পাশে, কৃষিজমির আইলে অহরহ দেখা মিলত বাবলাগাছের। এর ছায়ায় জিরিয়ে নিতেন ক্লান্ত কৃষক।

এ গাছের শক্ত কাঠ দিয়ে বানানো হতো লাঙল, ঢেঁকি ও গরুর গাড়ি। এর পাতা, ফল, আঠা ও বাকল ব্যবহার করা হতো নানা ভেষজ কাজে। নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বাবলাগাছ কৃষির উপকারই করত।

সভ্যতার বিবর্তনে গাছের এসব প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এখন এ গাছ কাজে লাগে কেবল ইটভাটার লাকড়ি হিসেবে। কুষ্টিয়া অঞ্চলে এখন আর তেমন চোখেও পড়ে না বাবলাগাছ।

কৃষকরা বলছেন, দুই যুগ আগেও একেকটি গ্রাম ঘিরে দুই থেকে তিন হাজার বাবলাগাছ ছিল। এখন খুঁজলে পাঁচ থেকে ছয়টি পাওয়া যেতে পারে।

বিবরণ
এ গাছের দেহ সুন্দর পেঁচানো। গাছ কেটে ফেললেও এর গোড়া থেকে দ্রুত নতুন ডাল গজিয়ে যায়। চারটি উপপত্র পাতার গোঁড়ায় কাটা থাকে। পুরনো পাতা ঝরে দ্রুত নতুন পাতা গজায়। পাতা দেখতে অনেকটা কাঞ্চনের পাতার মত। এর ফল দেখতে জিলাপির মতো পেঁচানো। ফলে ৫-১০ টি বীজ থাকে। পাকার পরে ফল ফেটে ভিতরে থেকে হলুদাভ সাদা মাংশ বীজ বেরিয়ে পরে। এর ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়।
খইয়া বাবলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Pithecellobium dulce) হচ্ছে Fabaceae পরিবারের Pithecellobium গণের একটি গাছ।

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ:
Plantae
(শ্রেণীবিহীন):
Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন):
Eudicots
(শ্রেণীবিহীন):
Rosids
বর্গ:
Fabales
পরিবার:
Fabaceae

দ্বিপদী নাম
Pithecellobium dulce

উপকারিতা
এ গাছের ছাল আমাশয়, অবিরাম ডায়েরিয়া ও যক্ষারোগের জন্য উপকারি।
এর বীজ আলসারে আরাম দেয়।
কফ নিঃসরণ ও পাতা পিত্তাশয়ের রোগে ব্যবহৃত হয়।

12/04/2023

কোন ডিপার্টমেন্ট এর মেয়েরা বেশী রোম্যান্টিক হয় ?❤️💞

ছন (Sungrass)  গুচ্ছাকারে বেড়ে ওঠা বহুবর্ষজীবী ঘাস Imperata cylindrica। এ উদ্ভিদ Poaceae (=Gramineae) গোত্রভুক্ত। পাতা ...
09/02/2018

ছন (Sungrass) গুচ্ছাকারে বেড়ে ওঠা বহুবর্ষজীবী ঘাস Imperata cylindrica। এ উদ্ভিদ Poaceae (=Gramineae) গোত্রভুক্ত। পাতা বিভিন্ন আকারের, অত্যন্ত খাটো থেকে ১.৫ মি দীর্ঘ, খাড়া, সরু থেকে সরু লেন্সাকৃতির, পূর্ব গোলার্ধের উষ্ণ ও শীতপ্রধান অঞ্চল এবং শীতপ্রধান দক্ষিণ আমেরিকার অংশবিশেষে বিস্তৃত। জন্মানোর স্থান অনুযায়ী দু’ধরনের ছন ডিপোপারেইট (depauperate) ফর্ম ও সাভানা (savannah) ফর্ম বাংলাদেশের নিচু জলাশয়, জলাবদ্ধ এলাকা থেকে অনাবৃত শুষ্ক পাহাড়ে জন্মে। ক্ষুদ্র সরু কান্ডসহ (filiform culms) ছোট পাতা বিশিষ্ট ৭.৫-১০ সেমি উঁচু ডিপোপারেইট ফর্ম অবিরাম কর্তন বা গো-চারণ করা হয় এমন লন বা স্থানে জন্মানো হয়। প্রায় ১.৫ মি পর্যন্ত উচ্চতার মজবুত কান্ড (culms) ও প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট সাভানা ফর্ম সুদৃঢ় দলবদ্ধভাবে থাকে।

ছন রশি, মাদুর, ব্যাগ, ঝুড়ি, প্রভৃতি তৈরির জন্যও ব্যবহূত হয়। এটি মাটিকে ভালভাবে আটকে রাখে; শূকর রাইজোম খেয়ে থাকে; কচিপাতা উত্তম গোখাদ্য। এর মূলের নির্যাস (decoction of rootstock) ডায়রিয়া, আমাশয় ও গনোরিয়ায় সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়। বাংলাদেশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বনজদ্রব্য এবং কোনো কোনো স্থানে এটি একটি অর্থকরী ফসলও। সাধারণত এটি অনাবৃত পাহাড়ে জন্মে। এ ঘাস বীজ ও মূল (root-stocks) দ্বারা দ্রুত ছড়ায়। বায়ুর মাধ্যমে নতুন নতুন পরিবেশে হালকা বীজের বিস্তার ঘটে। একবার প্রতিষ্ঠা পেলে এ ঘাস মূলের মাধ্যমে দ্রুত বংশবিস্তার করে। ঘরে ছাউনি দেয়ার জন্য শীতকালে একবছর বয়সী পাতা সংগ্রহ করা হয়। ছন উৎপাদনের জন্য ঘাস কাটার পর জমিতে আগুন জ্বালিয়ে জমিকে তৈরি করা হয়। আগুন জ্বালানোর ফলে জমি পরিষ্কার হয় যা মৌসুমের শুরুতে নতুন পত্রপল্লব গজাতে সাহায্য করে। জমি একবার এ ঘাসে ছেয়ে গেলে অন্য উদ্ভিদ জন্মানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত বর্ধনশীল ছায়া প্রদানকারী গুল্ম বা বৃক্ষের রোপণ এ আগাছা দমনে সহায়তা করে; দীর্ঘদিন ধরে ছায়ার নিচে থাকলে এ ঘাস মারা যায়।

শীত বিদায় নিচ্ছে, বসন্ত দোর গোড়ায়। কাঁঠাল গাছে এসেছ নতুন পাতা ও মুচি।
08/02/2018

শীত বিদায় নিচ্ছে, বসন্ত দোর গোড়ায়। কাঁঠাল গাছে এসেছ নতুন পাতা ও মুচি।

হাওরের চারপাশে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত। মাঝখানে সাদা বকের ঝাঁক নেমেছে খাবারের সন্ধানে। চলছে ঝাঁক বেঁধে আকাশে ওড়াউড়ি। সামাউ...
07/02/2018

হাওরের চারপাশে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত। মাঝখানে সাদা বকের ঝাঁক নেমেছে খাবারের সন্ধানে। চলছে ঝাঁক বেঁধে আকাশে ওড়াউড়ি। সামাউড়াকান্দি হাওর এলাকা, সদর, সিলেট

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Green Bangladesh শ্যামল বাংলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share