22/12/2025
পানি লং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
বৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia hyssopifolia (G. Don) Exell apud A. & R. Fernandes, Garcia de Orta 5: 471 & 474, t. 2 (1957).. সমনাম : Jussiaea linifola Vahl (1798), Jussiaea hyssopifolia G. Don (1832), Jussiaea fissendocarpa Haines (1920). ইংরেজি নাম : Seedbox. স্থানীয় নাম : পানি লং।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Myrtales. পরিবার: Onagraceae. গণ: Ludwigia প্রজাতির নাম: Ludwigia hyssopifolia
ভূমিকা: পানি লং (বৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia hyssopifolia) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বিরুৎ। এই প্রজাতিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে জন্মায়।
এটি শাখান্বিত খাড়া বীরুৎ প্রজাতি। এই প্রজাতির পাদদেশ কাষ্ঠল, লম্বা শাখাসহ ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু, কখনও ছোট আকারের গুল্ম এবং অনুসর্পী, কান্ড কোণীয় এবং সরু পাখনাবিশিষ্ট। পাতা সরল, একান্তর, ১.০-৮.৫ ০ ০.২-২.৭ সেমি, রৈখিকাকার থেকে ভল্লাকার, পাদদেশ সরু কীলকাকার, অগ্রভাগ তীক্ষ্ণাগ্র থেকে দীর্ঘাগ্র, পত্রবৃন্ত ২-১১ মিমি লম্বা।
পুষ্প হলুদ, কাক্ষিক, একক। বৃতির নল ১ সেমি (প্রায়) লম্বা, বৃত্যংশ ৪টি ও দৈর্ঘ্য ২.৫-৪.৫ এবং প্রস্ত ০.৮-১.৩ সেমি। দেখতে ভল্লাকার, অণুরোমশ, স্থায়ী। পাপড়ি ৪টি ও মুক্ত। পুংকেশর ৮টি, পরাগধানী ০.৩- ০.৫ × ০.২-০.৩ মিমি। গর্ভদন্ড ০.৮-১.৬ মিমি লম্বা, গর্ভমুণ্ড আড়াআড়িভাবে ০.৫-১.৫ মিমি, ৪-খন্ডিত, গর্ভাশয় অধোগর্ভ, ডিম্বক অসংখ্য।
ফল ক্যাপসিউল, ১২-২৫ × ১.০-১.৫ মিমি, প্রস্থচ্ছেদে প্রায় বৃত্তাকার, রেখিকাকার, নিচের অংশ অধিক সরু, একক শ্রেণীতে সজ্জিত বীজবিশিষ্ট অংশটি একটি সুস্পষ্ট স্ফীত অংশের মাধ্যমে যুক্ত, ক্যাপসিউলের উপরের এক-তৃতীয়াংশ লম্বা এবং বীজগুলো বহু শ্রেণীতে সজ্জিত, ক্যাপসিউলের বিদারন শুধুমাত্র লম্বা অংশে সীমাবদ্ধ, বিদারণের পরে ভাল্বগুলো খন্ড আকারে টিকে থাকে। বীজগুলো দ্বি-রুপী, ফ্যাকাশে বাদামী থেকে বাদামী, নিচের অংশে মুক্ত, ০.৬-০.৯ মিমি লম্বা, প্রতিটি বীজ দীর্ঘায়ত এবং অপেক্ষাকৃত শক্ত, পুরু, ট্রাপিজিয়াম আকৃতির এবং অমসৃণ অন্তস্তকে দৃঢ়ভাবে নিহিত, ক্যাপসিউলের উপরের লম্বা অংশের বীজগুলো ০.৩-০.৬ মিমি লম্বা।
ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ১৬ (Gadella and Kliphuis, 1968).
পরিত্যক্ত স্থান, জলমগ্ন মাঠ, রাস্তার ধার, আশপাশের পতিত জমি, মিঠা পানির পুকুর এবং খালের পাড়। এদের ফুল ও ফল ধারণ সময় কাল জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজের মাধ্যমে।
গ্রীষ্ম প্রধান পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শ্রীলংকা এবং পেনিনসুলার ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত, উত্তরে আসাম এবং আপরি মায়ানমার পর্যন্ত, পূর্বে তাইওয়ান, সমগ্র মালয়েশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া, পলিনেশিয়া এবং গ্রীষ্ম প্রধান আমেরিকা। বাংলাদেশে ইহা একটি আগাছা হিসেবে দেশের ই সর্বত্র বিস্তৃত।
ইহা শস্যক্ষেত ও পতিত জমির একটি সাধারণ আগাছা হয়ে জন্মায়। ভারতে এই উদ্ভিদটি একটি আয়ুর্বেদীয় ঔষধ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।[১] এছাড়া এই উদ্ভিদটি ডায়রিয়া, আমাশয়, অন্ত্রপ্রদাহ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ব্রণ, ফোঁড়া এবং অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসায় উদ্ভিদের একটি পোল্টিস ব্যবহার করা হয়। পাতাগুলি জ্বর-প্রতিরোধী ক্বাথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সিফিলিসের চিকিৎসায় শিকড়ের ঠান্ডা আধান ব্যবহার করা হয়।[২]
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পানি লং প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে পানি লং সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।