22/07/2026
রেফারির কাছ থেকে যত সুবিধা ভোগ করা যায়, তার সব করেছেন লিওনেল মেসি। শেষটা একটু বেশিই দৃষ্টিকটু।
গেল বিশ্বকাপে আনডিসার্ভিং পেনাল্টি পেয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল লিও মেসি। এই বিশ্বকাপেও পেনাল্টি পাওয়া থামে নায়। যদিও মিস করেছেন দুইটা পেনাল্টি। মানে কি এক অবস্থা! প্রশ্নফাঁসের পরও ফেইল করার মত। এমনকি বিপক্ষ দলও আজকাল প্রস্তুত থাকে যে মেসি পেনাল্টি পাবে। ইংল্যান্ড ম্যাচে দেখা গেছে যার জ্বলন্ত প্রমাণ। ইংলিশরা বোতলে লিখে রেখেছিল কে কোথায় পেনাল্টি নিবে(যদিও দৃশ্যপট ভিন্ন)।
আলজেরিয়ার প্লেয়ারকে এটাকিং ফাউলের পরও লাল কার্ডের কাছ থেকে বেঁচে যাওয়ার মত ঘটনাও আছে। পুরো টুর্নামেন্টে মেসিকে টাচ করলেই ফাউলের শিকার হতে হয়েছে বিপক্ষ দলের প্লেয়ারদের। প্রতিটা ম্যাচই এই দৃশ্য দেখা গেছে।
এমনকি লাফ দিয়ে ইচ্ছা করে গায়ে পড়েও ফ্রি কিক আদায় করছেন লিও। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে এভাবেই একটা ফ্রি কিক পায় যেটার ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল ছিল। ইচ্ছাকৃত ফ্রিকিক নেওয়ার এই চেষ্টা ফাইনালেও দেখা গেছে।
কিন্ত এসব সুবিধা ছাপিয়ে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু আর লজ্জাজনক ছিল স্পেনের কুকুরেয়ার সাথে করা ব্যবহারটা। কে বলবে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্লেয়ার? অথচ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একটু ভেংচি কাটলেও মেসির ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়া গরম করে ফেলে। দেখতে কালো বলে ভিনিসিয়াস জুনিয়র আরও বেশি বু-লির শিকার হয়।
কি হয়েছিল ফাইনালে? কুকুরেয়া মেসিকে বলতে আসেন যে, আর্জেন্টিনার কোন একজন প্লেয়ার ; স্পেনের একজন প্লেয়ারকে মুখে আঘাত করেছে। এটা বোঝানোর জন্য স্পেনের এই প্লেয়ার তিনটি আঙ্গুল দিয়ে ; মুখে আঘাতের জায়গা‘টা মার্ক করে দেখান।লিওনেল মেসি রেফারি‘কে ভার চেক করতে বলেন ; কুকুরেয়া‘কে রেড কার্ড দেওয়ার জন্য।
ফিফা বর্ণবাদ বিরোধী প্রোটোকল হিসেবে ‘হিট অফ দা মোমেন্টে‘ প্লেয়ারদের মুখে হাত রেখে কথা বলা নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এখানে কুকুরেয়া পুরোপুরি এক সেকেন্ডও মুখে হাত দিয়ে রাখেনি। তবুও সেই সুযোগটাই মেসি কাজে লাগিয়ে তাকে ‘সেন্ট অফ" করতে চাইলেন ; যেটা খুবই লজ্জাজনক।
পুরো ম্যাচে মেসিকে বোতলবন্দী করে রাখেন কুকুরেয়া। মেসির চেয়ে ফাইনালে জাস্টিন বিবারকে স্ক্রিনে বেশি দেখা গেছে। এসব নিয়ে কথা বললে মানুষ আপনাকে বলবে আপনি বাড়াবাড়ি করতেছেন। অথচ কারমা?
এই স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর পর্তুগাল অনেক বেটার খেলছে। ম্যাচ হারার পরে সিআরসেভেনের ৩টা শট অন টার্গেট নিয়ে কম ট্রল হয় নায়। অথচ দেখেন, ফাইনালে পুরা এক্সট্রা টাইমেও আর্জেন্টিনা একট শট অন টার্গেট করতে পারে নায়। মেসির কথা বাদ দিলাম, তারে তো খুঁজেও পাওয়া যায় নায়।
এখন আবার তার ভক্তদের হিপোক্রেসি অন্য লেভেলের। অথচ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ হ্যাট্রিক প্রাইম স্পেনের বিপক্ষেই ছিল। গেল ন্যাশনন্স লিগেও রোনালদো ইয়ামালদের চুপ করে দিয়েছিলেন একটা গোল করে। এগুলা আবার বলা যাবে না। কারণ, ইতিহাসের লজ্জাজনক ফাইনালে উলঙ্গ হয়ে খেলার পর তাদের মাথা ঠিক নাই। ট্রিগার্ড লেভেল ইনফিনিটি লেভেলের।
মেসিপ্রেমে কত অ-ন্ধ এরা। আরে ভাই, ৩৯ বছর বয়সে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আমেরিকায় এমএলএস লিগে ছিল না। এই বান্দা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ দাপাইয়া বেড়াইছে। দুইটা হ্যাট্রিকসহ লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সেই সিজনে বাজে খেললেও জ্বলজ্বল ছিল রোনালদো।
কমিটি, রেফারি বা কোনো ফুটবল এসোসিয়েশন করুনা নিয়ে খেলার মত প্লেয়ার রোনালদো নন। হি এজ এ ম্যান।বিনা কারণ কোটি কোটি ফুটবলভক্ত নেই তার। মোস্ট ফলোয়ড পারসন। পুরো বিশ্ব তাকে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। হয়তো ভালোবাসায় নয়তো ঘৃণায়। কিন্তু একটা কথা চিরন্তন সত্য! দ্য স্ট্রিট নোজ হু ইজ দ্য ট্রু কিং!
রেফারির কাছ থেকে যত সুবিধা ভোগ করা যায়, তার সব করেছেন লিওনেল মেসি। শেষটা একটু বেশিই দৃষ্টিকটু।