22/10/2026
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওডিআই ফরম্যাটের চরম ব্যর্থতায় এখন যেগুলো হবে এবং যা করনীয়।
যা হতে যাচ্ছে - ব্যাটিং কোচ কে স্যাক করা হবে, কন্ডিশন এবং ফিটনেসের দোহাই দেয়া হবে। এখানে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন কিছু হবে না সেটা শোনানো হবে।
যা করণীয় - এই মুহূর্তেই ওডিআই দল থেকে সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কে বাদ দিয়ে এই ৪ জনের জায়গায় বিকল্প ভাবা উচিত এবং সেভাবে করে পরিকল্পনা করা দরকার।
ওডিআই তে এখন ৩০০+ হরহামেশা হচ্ছে, আর বড় দল গুলো ৩৫০ ও রেগুলার করছে কারণ একটু ব্যাটিং বান্ধব উইকেট পেলেই ব্যাটার রা বোলার দের ঘুম হারাম করে দেয়। সেখানে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সাথে ৩৩ ওভার ব্যাট করতে পারে আর আফগানিস্তানের সাথে ৪২ ওভার। শেষ ৪ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সাথে ৩ হার আর আফগানিস্তানের সাথে ৪ টাই হার। ছি জঘন্য, এখনও এই এতদিন পর এসে দেখতে হয় একটা ক্রিকেটিং নেশন যাদের মান এত খারাপ।
আপনি ইব্রাহিম জাদরান এর মতো একটা, শুধু একটা প্রপার ব্যাটার দেখান তো বাংলাদেশ টিমে বর্তমানে।
আজমতউল্লাহ ওমারজাই এর একটা অলরাউন্ডার দেখান তো। রশিদ খান বাদই দিলাম, ওইটা বর্তমানে একটাই, আপনি মুজিব বা গজনফরের মতো একজন হোয়াইট বল স্পিনার দেখান তো?
আপনি একটু বাংলাদেশের ক্রিকেটার দের প্রেস কনফারেন্স গুলো শুনবেন বা তাদের কাছে যেয়ে একটু কথা বলার চেষ্টা করবেন, তাহলে দেখবেন আপনি ভুলে মনে করতে পারেন আপনি স্টিভ ওয়াহ, ক্লাইভ লয়েড বা ইমরান খান কে হয়তো প্রশ্ন করে ফেলেছেন, মানে এত এরোগ্যান্ট বা দাম্ভিকতার সাথে উত্তর দিবে যেনো আপনি কোন ফকিরনি যে কিনা ক্রিকেট খেলেনই নাই, আর সেই আপনি কোন সাহসে সেই প্রশ্ন করার অধিকার রাখেন। আপনি জীবনে কি চুল ছিঁড়ছেন যে আপনি এই “কিরকেটার” কে তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করার সাহস দেখান !! অবশ্য ওয়াহ, ক্লাইভ বা ইমরান কখনও এমন দাম্ভিক ছিলেন না, তাদের ব্যক্তিত্ব এতই কঠোর ছিলো যে মানুষ তাদের কে প্রশ্ন করতে ২ বার চিন্তা করতো।
আর আমাদের ক্রিকেটার রা এখনও শিক্ষা সফর করে বেড়ায় আর উন্নতির বুলি আওড়ায়। জঘন্য
কোচ ঠিক আছে, সিলেকশন ঠিক নাই, সঠিক প্লেয়ার কে নেয়া হয়না, এবং পুরোপুরি ফর্মহীন এবং ব্যর্থ প্লেয়ার কে বারবার টিম এর সাথে ক্যারি করে অন্য কাউকে সুযোগ করে পর্ষন্ত দেয়া হয় না। একটা বাজে ব্যবস্থাপনায় পুরো সিস্টেম অকেজো হয়ে আছে।
এখানে আপনি যতই ফেসিলিটি প্রোভাইড করেন বা নাম করা বিদেশী কোচ এনে দেন, আপনি যতই পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন, কোনো লাভ হবেনা। আপনি ভুল জায়গায় বিনিয়োগ করলে যেমন সেখান থেকে লাভের মুখ দেখবেন না, ঠিক একই ভাবে আপনি সৌম্য, সাইফ, সোহান দের ওপর ভরসা করে কখনোই ওয়ার্ল্ড ক্লাস আউটপুট পাবেন না।
আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট খুব ক্লোজলি দেখছি সেই ১৯৯৭ সাল থেকে, আজ এত বছরেও সাকিব এর কাছাকাছি মানের কোনো খেলোয়াড় তৈরি হয়নি, বুঝলাম সাকিব একজনই হয় বা ৫০-১০০ বছরে একজনই তৈরি হয়, তাহলে মুশফিক? শুরুর দিকে কত অর্ডিনারি ক্রিকেটার ছিল, অনন্ত অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের ফলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তামিম কে আপনি যতই গালাগালি করেন, তামিমের মতো আর একজন ব্যাটার দেখান তো যে অন্তত করে দেখিয়েছে কিছু।
তানজিদ তামিম এর ভরসা রাখতে চাই তবে তার দুর্বলতা গুলো নিয়ে সঠিক কাজ কতটুকু করা হয়? হালকা ফাইন টিউনিং করলেই কিন্তু তানজিদ কে নিয়ে বাজি ধরাই যায়, সেখানে কাজ কতটুকু করা হয়?
নাজমুল শান্ত নিঃসন্দেহে বর্তমানে সেরা ক্যাপ্টেন এবং অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, তার সমস্যা অফ স্টাম্প করিডোরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বল, সেটা নিয়ে কেনো কাজ হয়না? বা হলেও কেনো উন্নতি দেখছি না?
লিটন দাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি এই লিটন, শান্ত আর তানজিদ কে বাদ রেখে কিছু করতে পারবেন না কারণ এরাই আমাদের সম্বল তবে সৌম্য, সাইফ বা সোহান কে আর নয়।
আরেকটা পচা কথা বলি? আপনাদের গালি খাওয়ার জন্য বলি। মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তত ১ টা সিরিজ বা ৩-৪ টা ম্যাচ বসিয়ে রাখেন, ফর্মে নাই, শুধু নামের জোরে একাদশে নিয়ে খেলায়েন না, হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে, তাকে একাদশে নামান। ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে তাদের বর্তমান ফর্ম এবং রিদম জরুরি, যে গুড শেইপে আছে তাকে খেলান।
রিশাদ টি-টোয়েন্টি তে দারুণ, তবে ওডিআই তে এখনও প্রস্তুত নয়, আরেকবার ভাবুন, আলিস মিরাজ তানভীর এর পাশাপাশি রাকিবুল বা আর কাউকে এনে দেখেন, অন্তত রান কনটেইন করতে পারে এমন একজন দরকার।
দলের ফিজিও ডিপার্টমেন্ট বদলান, এদের দিয়ে কাজ হচ্ছেনা, নাহিদ রানা কে কেন ওভার ইউজ করা হয়েছিল? লিটন কেনো পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারছেন না?
করণীয় অনেক কিছুই আছে যদি আসলেও করার ইচ্ছা থাকে। আর ইচ্ছা না থাকলে বিশ্বাস করেন সবচেয়ে বেহায়া দর্শক টাও মুখ ফিরিয়ে নেবে একদিন। মানুষ এখন পারফরমেন্স দেখতে চায়, ভালো খেলা নয়, জয় দেখতে চায়। অনেক ভালো পড়াশোনা করেও ফেইল করলে তাকে ফেইলই বলা হয়, তাকে গ্রেস দেয়ার সুযোগ নাই। “বি” গ্রেডের টিম হয়ে “এ” গ্রেডের ভাব নিলেই “এ” গ্রেড উঠা যায় না। রিয়েলিটি মাইনে নেন