23/05/2025
রোনালদো যখন রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে গেলেন, তখন মাদ্রিদ ফ্যানদের চোখে দেখেছিলাম কান্না, কষ্ট আর অসীম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
মেসি যখন বার্সেলোনা ছাড়লেন, তখন তাঁর সেই বিদায়ি প্রেস কনফারেন্সে চোখের জল ফেলেনি—এমন কোনো ফুটবলভক্ত মনে হয় আর ছিল না।
ফ্রানচেসকো টট্টি (AS Roma)
রোমার রাজপুত্র, ২৫ বছর এক ক্লাবের প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। ২০১৭ সালে যখন টট্টি শেষ ম্যাচ খেললেন, পুরো স্টেডিয়াম কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।
টট্টির বিদায়ী বক্তব্যে যখন বললেন, “আমি আর ফুটবলের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি না”, তখন হাজারো ভক্তের মতো টিভির সামনে বসা অগণিত মানুষও চোখের জল ফেলেছিল।
আর আজ... আজ আমার নিজের চোখে দেখলাম, আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়টি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বলুন তো, এমন মুহূর্তে কীভাবে চোখের পানি আটকে রাখা যায়?
হ্যাঁ, আমাদের ক্লাবের হয়তো রিয়াল বা বার্সার মতো ইতিহাস-ঐতিহ্য নেই। কিন্তু নিজের চোখে দেখা যতটুকু সাফল্য, আবেগ আর ভালোবাসা—সেই সবকিছুর ভেতরে ছিল একটি নাম: কেভিন ডে ব্রুইনা।
যিনি শুধু মাঠে পাস দেননি, দিয়েছেন নিখাদ আনন্দ। তাঁর প্রতিটি থ্রু বল, দূরপাল্লার শট কিংবা নিখুঁত অ্যাসিস্ট—সবকিছুতেই ছিল শিল্পের ছোঁয়া।
তিনি ছিলেন আমাদের খেলার স্থির ভরসা, দলের হৃদপিণ্ড।
জেতা ম্যাচে যেমন তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম, তেমনি হারা ম্যাচের পরেও তাঁর নিবেদন ছিল প্রশ্নাতীত। মাঠে নামলে মনে হতো—এই খেলোয়াড়ের চোখে যেন আগুন, আর হৃদয়ে আমাদের ভালোবাসা।
আজ যখন তিনি ক্লাব ছাড়ছেন, মনে হচ্ছে যেন আমাদের হৃদয়ের একটা অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন কোনো প্রিয়জন বিদায় নিচ্ছে, যাঁর অভাব আর কেউ পূরণ করতে পারবে না।
ধন্যবাদ কেভিন, আমাদের স্বপ্নগুলোকে ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য। তুমি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে, ম্যানচেস্টার সিটির রূপকথার নায়ক হয়ে।