09/05/2026
জুপ হেইংকেস : দ্যা চ্যাম্পিয়ন
জন্ম জার্মানির মনশেনগ্লাডবাখে । ১৯৬৪ সালে প্রফেশনাল ফুটবল ক্যারিয়ারও শুরু করেন নিজের শহরের ক্লাব বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখেই । যখন তিনি মনশেনগ্লাডবাখে জয়েন করেন তখন ক্লাবটি ছিল জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের লীগে । বছর শেষে কোচ হেনেস ওয়েস্লারের অধীনে মনশেনগ্লাডবাখ বুন্দেসলীগাতে প্রমোশন পায়। তরুণ জুপ হেইংকেস ২৫ ম্যাচে ২৩ গোল করে তার প্রথম সীজনেই মুখ্য ভূমিকা পালন করলেন মনশেনগ্লাডবাখের বুন্দেসলীগাতে প্রমোট পাওয়ায়। নতুন সুপারস্টার যে বিশ্ব দরবারে কড়া নাড়তেছে তখনই হয়ত অনেকেই বুঝে ফেলেছিলেন ।
এর পরের অধ্যায়টা পাড়ি দিতে একটু সময় লেগেছিল । মাঝে হানোভার ৯৬ এ খেললেন ২ বছর । করলেন ২৫ গোল । তারপর আবারো ফিরলেন তার শহরের ক্লাব মনশেনগ্লাডবাখে। এসেই এবার বাজিমাত! মনশেনগ্লাডবাখ তাদের ইতিহাসের প্রথমবার জিতল বুন্দেসলীগা। শুধু তাই না বুন্দেসলীগার ইতিহাসে প্রথমবারের মত মনশেনগ্লাডবাখ টাইটেল রিটেইন করে পরের সিজনে। জুপ হেইংকেস করেন ১৯ গোল । ১৯৭০-৭১ সীজনের ইউসিএলে মনশেনগ্লাডবাখ ৭-১ গোলে ইতালীয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে হারানোর ম্যাচে হেইংকেস করেন ২ গোল । যদিও সেই খেলাটা দর্শকসারি থেকে ঢিল মারার কারণে পরবর্তীতে বাতিল করা হয় এবং রিম্যাচে বাদ পড়ে মনশেনগ্লাডবাখ।
১৯৭৩ সালের উয়েফা কাপের সেমি ফাইনালে মনশেনগ্লাডবাখ মুখোমুখি হয় লিভারপুলের। ২ লেগ মিলিয়ে মনশেনগ্লাডবাখ ৩-২ এর ব্যাবধানে হেরে বাদ পরে । মনশেনগ্লাডবাখের হয়ে ২টি গোলই করেন জুপ হেইংকেস। ইউরোপে ফেইল হলেও সেবার জার্মান কাপ / ডিএফবি পোকাল জিতে মনশেনগ্লাডবাখ।
১৯৭৩-৭৪ সিজনে জুপ হেইংকেস ৩০ গোল করে বুন্দেসলীগার টপ স্কোরার হন যৌথভাবে জার্ড মুলারের সাথে । তার দল বুন্দেসলীগা টেবিলের ২ নাম্বারে থেকে সিজন শেষ করে। বুন্দেসলীগা জিতে মুলারের বায়ার্ন মিউনিখ। সেই সিজনে ইউরোপিয়ান কাপ উইনারস কাপেও ৮ গোল করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন জুপ হেইংকেস। তার দল মিলানের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় সেমি ফাইনাল থেকে।
১৯৭৪-৭৫ সিজন ছিল হেইংকেসের জন্য আরও ভাল। নিজে ভাল করেন , দলও ট্রফি জিতে। বুন্দেসলীগার টপ স্কোরার হোন আবারো ২৭ গোল করে। এবার তার দল বুন্দেসলীগা জিতে। মনশেনগ্লাডবাখ সেই সিজনে নিজেদের ইতিহাসের প্রথমবারের মত ইউরোপিয়ান কোন ট্রফি জিতে। উয়েফা কাপেও হেইংকেস ছিলেন টপ স্কোরার। ১০ গোল করে দলকে ট্রফি জিততে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি।
উয়েফা কাপে ২১ খেলায় ২৩ গোল করে ইতিহাসের একমাত্র প্লেয়ার হিসেবে ১+ গোল রেশিওর রেকর্ড করেন জুপ হেইংকেস। যে গোল রেশিওর রেকর্ড এখনো বহাল আছে! এর পরে মনশেনগ্লাডবাখ টানা ৩ বছর লীগ জিতে যায় এবং প্রথমবারের মত ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে ওঠে । সেখানেও সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন জুপ হেইংকেস ৬ গোল করে ।
১৯৭৭-৭৮ সিজনে গোল করেন ১৮ টি যেটা লীগ জিততে পর্যাপ্ত ছিল না । মনশেনগ্লাডবাখ ২ নম্বরে থেকে লীগ শেষ করে। ১৯৭৭-৭৮ সিজনে মনশেনগ্লাডবাখ ইউরোপিয়ান কাপের সেমি ফাইনালে ওঠে , হেইংকেস করেন ৪ গোল ।
ইউরোপিয়ান ক্লাব কম্পটিশনে ৬৪ ম্যাচে ৫১ গোল করেন হেইংকেস । রেশিও ০.৮০ ! শুধু মুলার ছিল তার উপরে ০.৮৯ রেশিও নিয়ে।
বুন্দেসলীগা শেষ করেন ১৯৫ গোল নিয়ে । বুন্দেসলীগার ইতিহাসে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং মনশেনগ্লাডবাখের ইতিহাসের সর্বোচ্চ । ৪ টি বুন্দেসলীগা, ১টি ডিএফবি পোকাল ও ১টি উয়েফা কাপ নিয়ে ক্লাব ক্যারিয়ার শেষ করেন ।
ক্লাবে এত ডমিনেট করেও ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারে সবসময় ছিলেন জার্ড মুলারের ছায়া হয়ে । বড্ড ভুল সময়ে জন্মেছিলেন! মুলারের সময়ে না হলে তার ইন্টারন্যাশনাল ইতিহাসও অনেক বড় হত হয়তবা।
জাতীয় পর্যায়ে তিনি জার্মানির হয়ে ইউরো এবং বিশ্বকাপ দুইটিই জিতেছেন। ৩৯ খেলায় করেছেন ১৪ গোল । ১৯৭৪ বিশ্বকাপে যখন তিনি তুখোড় ফর্মে ছিলেন তখন ইঞ্জুরিতে থাকাকালীন মাত্র ২টি খেলায় অংশগ্রহন করেন তিনি, বাকি খেলাতে বেঞ্চে ছিলেন। এটি ছিল তার জন্য অনেক হতাশার। ২০১৩ তে তিনি একটা সাক্ষাৎকারেও সেটি বলেন ।
In 2013, Heynckes said of his experience at the 1974 World Cup, "I was in the starting lineup for the German national team competing for the World Cup, but after an injury I was sidelined for the entire final. This was the greatest disappointment of my life, but it spurred me on and became my greatest source of motivation."
আসলে উইনাররা কখনো হারে না তারা হারার মাঝেও মোটিভেশন খুজে নেন । এই ইঞ্জুরি নিয়ে তিনি হতাশ থাকলেও বলেন এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছিল ।
খেলোয়াড় জীবন শেষ করার পড়ে শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার । কোচিং ক্যারিয়ারের হাতেখড়ি নিজেরই কোচ উডো ল্যাটেকের কাছে। ১৯৭৯ সালে কোচ হোন মনশেনগ্লাডবাখের । সেখানে তিনি কোন বড় সাফল্য না পেলেও তার দলকে নিয়ে বরাবরই ভাল ফাইট দিতেন । কোন কাপ না জিতেও তার খেলানোর স্টাইল, এবিলিটি তাকে জার্মানিতে জনপ্রিয় করে তোলে। তার সবচেয়ে বড় সাক্সেস ছিল সেখানেই । তাকে তখন বলা হত "The champion without a title"
হেইংকেস রেকর্ড ১৬৯ জয় , ৭৭ ড্র, ৯৭ হার নিয়ে মনশেনগ্লাডবাখের কোচিং ক্যারিয়ার শেষ করেন । মনশেনগ্লাডবাখ থেকে আসেন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হয়ে । বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে প্রথম বছরে জিতেন ডিএফবি সুপারকাপ । লীগে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করেন । ৪ পয়েন্টের জন্য লীগ জিততে ব্যার্থ হয় বায়ার্ন মিউনিখ ।
পরের ২ সিজন বায়ার্ন মিউনিখকে টানা ২ বার বুন্দেসলীগা জিতান জুপ হেইংকেস । ২ বারেই বায়ার্ন মিউনিখকে নিয়ে ইউরোপিয়ান কাপে সেমি ফাইনালে যান ।
হেইংকেসের আন্ডারে বায়ার্ন ৩ বার সেমি ফাইনাল খেলে ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে । প্রতিবারই যারা বায়ার্নকে হারিয়েছিল তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টুর্নামেন্টগুলোতে।
১১৩ জয় , ৪৬ ড্র , ৩৯ হার নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ অধ্যায় শেষ করেন ১৯৯১ সালে । ১৯৯৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার আগে তিনি এথলেটিকো বিলবাও , ফ্রাঙ্কফুর্ট , টেনেরিফের কোচ ছিলেন । রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি প্রথম বছরেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেন । রিয়াল মাদ্রিদের ইউরোপিয়ান ডমিনেশনের অধ্যায়টা প্রায় সমাপ্তির দিকে যখন চলে যাইতেছিল তখনি এই হেইংকেস আবারো আশার আলো দেখিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩১ বছর পরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতান । ১৯৬৬ সালের পরে রিয়াল মাদ্রিদ প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতে হেইংকেসের আন্ডারে ১৯৯৭ সালে! ইউরোপিয়ান লেভেলে যখন বারবার রিয়াল মাদ্রিদ ফেইল করে যাইতেছিল তখন তাদেরকে ৩১ বছর পরে ইউরোপিয়ান শিরোপার স্বাদ দেন হেইংকেস । রিয়াল মাদ্রিদ যখন ইউরোপিয়ান লেভেলের ডমিনেশন কি জিনিস সেটাই ভুলতে বসেছিল তখন তার এই অর্জনকে এখনো রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তরা স্মরণ করে । এটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য একটা সাধারন শিরোপা ছিল না এটা ছিল আবারো ইউরোপিয়ান লেভেলে রিয়াল মাদ্রিদের ডমিনেশনের ভিত্তিপ্রস্থর। যেটা নিয়ে তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগেও বলেছিলেন যে রিয়াল মাদ্রিদের ইউরোপিয়ান ডমিনেশনের ভিত্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেন হেইংকেস।
তারপরেও বছর শেষে ড্রেসিং রুমে কন্ট্রোল হারিয়ে স্যাক হন তিনি। এরপরে আবারো বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হবার আগে তুলনামূলক টেবিলের নিচের দিকে থাকা কিছু দলদের কোচিং করান তিনি ।
তিনি ২০০৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখে কেয়ারটেকার হিসেবে ছিলেন । যখন দলের দায়িত্ব নেন তখন বায়ার্ন মিউনিখের লীগের টপ ৪ এ থাকাটা অনিশ্চিত ছিল পরে তার অধীনা টানা ৫ ম্যাচে ৪ টাতে জিতে ১টায় ড্র করে রানার্স আপ হয় বুন্দেসলীগাতে ।
২০০৯ এর দিকে জয়েন করেন বায়ার লেভারকুসেনের কোচ হয়ে । সেই বছর বুন্দেসলীগার ইতিহাসের সর্বোচ্চ টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকে বায়ার লেভারকুসেন। ২০১০ – ১১ সিজনে লেভারকুজেন বুন্দেসলীগাতে রানার্স আপ হয় । এটা ছিল বুন্দেসলীগায় লেভারকুজেনের ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পজিশন।
২০১১ সালে আবারো দায়িত্ব নেন বায়ার্ন মিউনিখের । ২০১১-১২ সিজনে বুন্দেসলীগাতে বায়ার্ন মিউনিখ রানার্স আপ হয়। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড জিতে টাইটেল। বুন্দেসলীগা হারলেও ইউরোপিয়ান লেভেলে যেয়ে আলো ছড়াতে থাকেন জুপ হেইংকেস । এ যেন এক নতুন বায়ার্ন মিউনিখকে দেখতে পেল পুরো ফুটবল বিশ্ব! বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে যায় রিয়াল মাদ্রিদকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। বায়ার্ন মিউনিখের এটাকিং ফুটবল পুরা ফুটবল বিশ্বে সুনাম কুড়ায়। কিন্ত ফাইনালে যেয়ে ডমিনেট করেও চেলসির ডিফেন্সকে ভেদ করতে ব্যার্থ হয় বায়ার্ন মিউনিখ । উল্টো দ্রগবার অসাধারণ গোলে চেলসি জিতে যায় চ্যাম্পিয়নস লীগ। চাম্পিয়ন্স লীগ জিততে না পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের খেলার ধরন সেই সিজনে প্রচুর সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়।
এরপরেই আসে ২০১২-১৩ ! সেই স্বপ্নের বছর । জুপ হেইংকেসের জন্যও আবার বায়ার্ন ভক্তদের জন্যও । বরাবরই ভাল কোচিং করিয়ে কোথাও না কোথাও আটকা পড়ে যাওয়া জুপ হেইংকেসের দিকে যেন ২ হাত ভরে তাকাল ফুটবল ঈশ্বর । জুপ হেইংকেস বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের ইতিহাসের প্রথম ট্রেবল জিতালেন ।
এই বছরে তার অধীনে বায়ার্ন মিউনিখ যেন নতুন করে অনেক ইতিহাস সাজায় বুন্দেসলীগাতে । বুন্দেসলীগাতে এত আগে কেউ কখন লীগ জিততে পারে নাই , এক সিজনে সর্বোচ্চ গোল করে বায়ার্ন মিউনিখ (৯১),এক সিজনে সর্বোচ্চ জয় (২৯),সর্বোচ্চ ব্যাবধানে লীগ জয় (২৫),সর্বোচ্চ উইনিং স্ট্রিক (১৪),সর্বোচ্চ ক্লিন শিট একটা সিজনে (২১),সর্বোচ্চ গোল ডিফারেন্স একটা সিজনে (৮০),সবচেয়ে কম গোল হজম করেছিল (১৮)। এছাড়াও বায়ার্ন মিউনিখ লীগের প্রতিটি খেলায় গোল স্কোর করেছিল এবং মাত্র একটি খেলায় হেরেছিল ।
শুধু বুন্দেসলীগাতেই না চ্যাম্পিয়নস লীগেও ডমিনেট করে বায়ার্ন মিউনিখ । সেমিফাইনালে বার্সেলোনাকে হোম খেলায় হারায় ৪-০ গোলে , ক্যাম্প ন্যূতে যেয়ে বার্সেলোনাকে ০-৩ গোলে হারিয়ে টোটাল ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আবারো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে যায় বায়ার্ন মিউনিখ । বার্সেলোনা ৭-০ এগ্রিগেটে সেমি ফাইনাল ম্যাচ হারা তার ডমিনেশনের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে আছে এখনো।
চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল রিয়াল মাদ্রিদকে হোমে ৪-০ গোলে হারানো আরেক জার্মান ক্লাব ক্লপের বরুশিয়া ডর্টমুন্ড । না এবার আর কোন অঘটন ঘটেনি । বায়ার্ন মিউনিখ ২-১ গোলে ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ ঘরে তোলে । ইতিহাসের ৪ নম্বর কোচ হিসেবে ২টি আলাদা দলের হয়ে চাম্পিয়ন্স লীগ জিতেন হেইংকেস ( রিয়াল মাদ্রিদ + বায়ার্ন মিউনিখ )।
ডিএফবি পোকাল জিতে ট্রেবল জয় পূর্ণ করে বায়ার্ন মিউনিখ । জার্মানি লিজেন্ড ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং রুমেনিগে বলেন তাদের নিজেদের দেখা বেস্ট বায়ার্ন মিউনিখ টীম ২০১২-১৩ এর জুপ হেইংকেসের বায়ার্ন মিউনিখ!
বায়ার্ন মিউনিখকে ট্রেবল জিতিয়ে নিজের কোচিং ক্যারিয়ার থেকে রিটায়ার করেন দ্যা গ্রেট ট্যাক্টিশিয়ান জুপ হেইংকেস । পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ সিজনে বায়ার্ন মিউনিখের মিড সিজনে কোচ স্যাক করার কারণে বোর্ডের অনুরোধে আবারও কোচ হিসেবে ফিরে আসেন । ফিরলেন ৪-৫ বছর পরে । মডার্ন ফুটবলে যখন অনেক কিছুই চেঞ্জ হয়ে গেছে ।তারপরেও এসে নিজের জাত চেনালেন । সিজনের মাঝে কোচ স্যাক করা দলকে বুন্দেসলীগা জিতিয়েছেন , চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমি ফাইনালে তুলেছিলেন এবং ডিএফবি কাপের ফাইনালে তুলেছেন ।
এই ছিল জুপ হেইংকেস নামের একজন চ্যাম্পিয়নের ফুটবল ক্যারিয়ার । যিনি শুধু ফুটবলার না কোচ হয়েও ডমিনেট করেছেন ফুটবলকে। যেটাতেই হাত দিয়েছেন তা সোনায় পরিণত হয়েছে তার হাত ধরে। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে ফুটবলে এমন কিছু নাই যেটা তিনি জিতেন নাই । বিশ্বকাপ , উয়েফা ইউরো , উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, বুন্দেসলীগা, ডিএফবি পোকাল , ট্রেবল সবকিছু জিতেছেন ।
তিনি একজন বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়ন , একজন রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন , একজন বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ চ্যাম্পিয়ন , সর্বোপরি একজন ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ।
আজকে এই মানুষটির জন্মদিন । শুভ জন্মদিন জুপ হেইংকেস, দ্যা চ্যাম্পিয়ন ।
লেখকঃ জাবির কনক