26/09/2024
আমি সাকিব আল হাসানের খুব বড় ভক্ত না।বা বলা যায় সাকিবিয়ানদের মত এমন একনিষ্ঠ ভক্ত না। সাকিব বাংলাদেশের লিজেন্ডারি খেলোয়াড়, ঐ হিসেবে সাকিবের ছোটখাটো একজন ভক্ত। দলীয় অর্জন বলতে গেলে সাকিব আল হাসানের দলের কোনো ট্রফি নাই। কিন্তু ব্যক্তি সাকিব আল হাসান ক্রিকেটের যত ব্যক্তিগত অর্জন জেতা যায় সম্ভবত সবই জিতে ফেলছেন। হয়ে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়।
ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাকিব আল হাসান সবসময় ছিলেন সমালোচনা গায়ে নিয়ে। নতুন নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়ে একটা সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সাকিবের আস্তে আস্তে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমতে শুরু হলো। অবস্থা এমন একটা পর্যায়ে চলে আসছে যে সাকিবের বল ব্যাটও ইদানীং তার পক্ষ হয়ে কথা বলছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী হয়তো এখন আর নিজেকে ড্রাইভার মনে হচ্ছে না,কিন্তু প্যাসেঞ্জার হয়ে যে সাকিব থাকবেনও না সেটা তো আগেই বলে দিলেন। হয়তো সময়টা টেস্ট এবং টি টুয়েন্টির জন্য এখনই তার কাছে উপযুক্ত মনে হলো। সেজন্য অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।
কিন্তু আমি কিংবা আপনি কি একটা সময়ে ভেবেছিলাম সাকিব হুট করে এমন সিরিজ চলাকালীন সংবাদ সম্মেলনে অবসরের কথা জানিয়ে দিবেন। গোটা একটা জাতিকে ক্রিকেটমুখী করার পেছনে যে লোকটার অবদান ৭০-৮০% হবে তার অবসর তো খুব রাজকীয় ভাবে হওয়ার কথা ছিলো। তার অবসরের কথা শুনে সবার চোখের কোনে একটু পানি আসার কথা ছিলো। চারদিক নিরব হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কেউ কেউ তো বলেই ফেলছিলেন যেদিন সাকিব অবসর নিবে সেদিন দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা হবে।
অথচ কিছুই হলো না। যা হচ্ছে সব তার বিপরীত। যে টেস্ট খেলে বিদায়ের কথা সাকিব জানালেন সে টেস্ট আদৌ খেলতে পারবেন কিনা সেটাও সাকিব নিজে জানেন না। কেনো এমন হলো।
একজন লিজেন্ডের বিদায়ে যেখানে সবাইকে থমকে যাওয়ার কথা সেখানে সবাই হাসছে।এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না।
এই দৃশ্য থেকে অন্যদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। সীমাবদ্ধতা বলেও একটা কথা আছে, সেটা সবার মনে রাখা উচিত। পরবর্তী তে আর কারো ক্ষেত্রে যেনো এমন হিতে বিপরীত না হয়। ভালো থাকবেন সাকিব।
©লেখাঃ