29/07/2026
বিসিবি মেডিকেল বিভাগের গাফিলতি? দেশে ধরা পড়ল না, সিঙ্গাপুরে গিয়ে মিলল লিটনের পায়ের ফাটল!
লিটন দাসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। মাঠে চোট পাওয়া নতুন কিছু নয়, তবে সেই চোটের চিকিৎসা এবং তা নির্ণয় করা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগের পারদর্শিতা ও দায়িত্বশীলতা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
সম্প্রতি মাঠে পারফর্ম করার সময় পায়ে চোট পান লিটন দাস। চোটের গুরুত্ব বুঝতে দেশে তড়িঘড়ি করে তাঁর একাধিক স্ক্যান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। তবে বিসিবি মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, চোটটি খুব গুরুতর নয় এবং কিছুদিন বিশ্রামে থাকলেই তিনি সেরে উঠবেন।
কিন্তু চিকিৎসায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং ব্যথার তীব্রতা না কমায় লিটন নিজেই উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে স্ক্যান করানোর পরই জানা যায়, লিটনের পায়ে সূক্ষ্ম ফাটল (Hairline Fracture) রয়েছে—যা দেশের স্ক্যানে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল!
এদিকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, নতুন স্ক্যান এবং আনুষঙ্গিক চিকিৎসার পেছনে লিটন দাসকে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
দেশের মাটিতে প্রাথমিক চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলার কারণেই লিটনকে এই বড় অঙ্কের আর্থিক ধকল পোহাতে হলো কি না—তা নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেট বোর্ডের আওতাধীন একজন চুক্তিভুক্ত তারকা ক্রিকেটারকে কেন নিজের পকেটের টাকা বা অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হবে বিসিবি মেডিকেল টিমের ভুলের কারণে?
লিটনের চোটের পর থেকে ক্রিকেটারদের সমর্থক এবং সাবেক ক্রিকেটারদের তোপের মুখে পড়েছে বিসিবির মেডিকেল টিম।
লিটনের এই ঘটনার পর ক্রিকেট ভক্ত ও বিশ্লেষকরা দাবি তুলছেন, বিসিবি মেডিকেল বিভাগে বড় ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন প্রয়োজন। বিদেশি অভিজ্ঞ ফিজিও এবং চিকিৎসকদের যুক্ত না করলে আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের আরও অনেক ক্রিকেটারই ভুল চিকিৎসার শিকার হতে পারেন।
সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন লিটন। দ্রুতই তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে, তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় এক গলদকে প্রকাশ্যে এনে দিল।