02/05/2014
১৮৯৫ সালের কথা। এক যুবক ইংরেজিতে এম.এ পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাত্র ছ’মাস পরেই পরীক্ষা। আর ঘোরাঘুরি নয় , দাবাখেলা নয়, শুরু করেছে পড়াশুনার লড়াই।
হঠাৎ এক বন্ধু এসে হাজির । আর এসেই খোঁচা দিয়ে বন্ধুটি যুবককে বললো - ''কী, অংকের ভয়ে বুঝি ইংরেজি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছ ?''
''তার মানে ?''- বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে চাইলো যুবক , চোখে মুখে তার বিস্ময়, ''কী বলতে চাইছো তুমি ?''
আগত বন্ধুটি বললো -''না,বলছিলাম কি ,মুসলিম ছাত্রদের তো একটি দুর্নাম আছে।''
-''কি দুর্নাম ?'' - যুবকটি রাগতস্বরে বলল।
বন্ধুটি বলল, ''তারা কোন মগজের কাজে নেই । তারা অনেক ভয় পায়। অংক নাকি তাদের মাথায় ঢোকে না ।''
''-কী বললে তুমি ? মুসলিম ছাত্ররা অঙ্ক দেখে ভয় পায় ?'' সহসা যেন বাঘের মতো গর্জে উঠলো যুবকটি ।
-''নয়তো কী!'' আগত বন্ধুটি বললো , ''অঙ্ক দেখে ভয় পাও বলেই তো শুধু মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছ।
যদি অঙ্ক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারতে তবে না হয় বুঝতাম তোমার মাথার জোর ।''
-''ঠিক আছে, তা-ই হবে।''
যুবকটি সজোরে টেবিলে মুষ্ঠাঘাত করে বলে উঠলো , ''আমি আগে অঙ্ক পরীক্ষা দিব। মুসলিম ছেলেরা যে ভয় পায় না তা দেখিয়ে দেব।''
যেই কথা সেই কাজ। মরদ কা বাত হাতি কা দাঁত। তেজস্বী যুবকটি জেদ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরস্পেশাল পারমিশন নিয়ে মাত্র ছ’মাসের প্রস্তুতিতে অঙ্ক পরীক্ষা দিলো আর সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে অঙ্কে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার নিয়ে এম এ পাস করলো।
যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন আমাদের বাংলার বাঘ শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক।