18/02/2022
❝গর্ভাবস্থায় এগারোটি গুরুত্বপূর্ণ আমল❞
▬▬▬▬▬▬◄◖❂◗►▬▬▬▬▬▬
যদিও কুরআন-হাদিসে গর্ভাবস্থার জন্য বিশেষ কোনো আমলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি, তবে আলিমগণ কুরআন-হাদিসের ‘আম (সাধারণ) নির্দেশনার আলোকে হবু মায়েদের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ এবং আমাদের কিছু সংযোজন মিলিয়েই আজকের এই লেখা।
[১] ঠিক সময়ে নামাজ আদায় করুন। বিশেষত ওয়াক্তের শুরুতেই নামাজ আদায় করে নিতে চেষ্টা করবেন। নামাজ যদি ঠিকঠাক থাকে, তবে অন্য সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ দ্বারা অন্তরকে প্রশান্ত করতেন। [আবু দাউদ, আস-সুনান : ৪৩৩৩; হাদিসটি সহিহ]
[২] গর্ভকালীন বিভিন্ন অবস্থা, পেটের ভেতর অনাগত সন্তানের নড়াচড়া ইত্যাদি বিষয়গুলো যথাসাধ্য গোপন রাখুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নিজের প্রয়োজন পূরণ হওয়া পর্যন্ত সেটি গোপন রাখার মাধ্যমে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করো; কেননা, প্রতিটি নিয়ামত লাভকারীর সাথেই হিংসুক থাকে।’’ [আলবানি, সহিহুল জামে’ : ৯৪৩; হাদিসটি সহিহ]
তাই, একান্ত বিশ্বস্ত ছাড়া কারও সাথে এগুলো শেয়ার করবেন না। কারণ বদ নজরের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় আপনার এবং আপনার সন্তানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
[৩] সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন (হাদিসে বর্ণিত) দু‘আ ও যিকরগুলো গুরুত্বের সাথে পড়ুন। বিশেষত : আয়াতুল কুরসি একবার, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার, বদ নজর ও জিনের প্রভাব থেকে বাঁচার দু‘আগুলো মিস করবেন না।
[৪] অবশ্যই অবশ্যই সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থাতেই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি, কিন্তু গর্ভাবস্থায় আরো বেশি জরুরি। কারণ গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের কর্ম-কাণ্ডের যথেষ্ট প্রভাব তাঁর অনাগত সন্তানের উপর পড়ে; এ ব্যাপারে প্রায় সকল আলেম সতর্ক করেছেন। সুতরাং, যেসব মায়েরা গিবত, গান, মুভি, সিরিয়াল বা অন্য কোনো গুনাহে আসক্ত, তাঁরা দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে, তাওবাহ করে নেবেন।
[৫] নিঃসন্দেহে একজন মা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের সময়টি পার করেন তাঁর গর্ভাবস্থায়। আল্লাহ্ বলেন, ‘‘তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে।’’ [সুরা লুকমান, আয়াত : ১৪] সুতরাং তিনি যদি তাঁর এই কষ্টের জন্য সঠিকভাবে সবর করেন, তবে আল্লাহর নিকট সীমাহীন মর্যাদা লাভ করবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, একজন মুমিনের উপর আপতিত যে কোনো ধরনের চিন্তা, পেরেশানি, কষ্ট, ব্যথা, দুর্ভাবনা, এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্য) করে দেন”। [বুখারি, আস-সহিহ : ৫৬৪১, ৫৬৪২; মুসলিম, আস-সহিহ : ২৫৭৩]
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে বেহিসাবে।’’ [সুরা যুমার, আয়াত : ১০]
[৬] সর্বাবস্থায় সাধ্যানুযায়ী যিকরে লেগে থাকুন। বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার যিকরগুলোর পাশাপাশি প্রত্যেক নামাজের পর ও ঘুমানোর আগে যত্নের সাথে নির্ধারিত যিকরগুলো পড়ুন। আল্লাহ্ বলেন, ‘‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্ত হয়।’’ [সুরা রাদ, আয়াত : ২৮]
[৭] আপনাকে আল্লাহ্ মা হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন, সেজন্য আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। বেশি বেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন ও তাঁর প্রশংসা করবেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘অতএব, তোমরা (মানুষ ও জ্বীন) উভয়ে তোমাদের রবের কোন্ অবদানকে অস্বীকার করবে?’’ [সুরা আর-রহমান]
আল্লাহ্ আরও বলেন, ‘‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেবো। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো (অকৃতজ্ঞতা দেখাও) তাহলে (জেনে রাখো!) আমার শাস্তি বড়ই কঠিন।’’ [সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ০৭]
[৮] নেক সন্তান লাভের জন্য বেশি বেশি কুরআনি দু‘আ করুন। আমরা কয়েকটি উল্লেখ করছি : (কুরআনের উচ্চারণ লেখা জায়েয নেই, কারণ সঠিক উচ্চারণ লেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, ফলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। তাই, আমরা উচ্চারণ লিখিনি। সবাই যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিখে নেবেন)
رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةًۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ
অর্থ: হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৮]
رَبِّ اجْعَلْنِيْ مُقِيْمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِيْ, رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَآء
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের রব! কবুল করুন আমাদের দু‘আ। [সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪০]
رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানান। [সুরা আল-ফুরক়ান, আয়াত : ৭৪]
رَبِّ لَا تَذَرْنِيْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْوٰرِثِيْنَ
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে একাকী (নিঃসন্তান) রাখবেন না। আপনি তো উত্তম ওয়ারিস। [সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৮৯]
নেক নিয়তে পুত্র-সন্তান লাভের জন্য পড়তে পারেন—
رَبِّ هَبْ لِيْ مِنَ الصّٰلِحِيْنَ
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমাকে সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান করুন। [সুরা আস-সাফফাত, আয়াত : ১০০]
সাধারণভাবে ইসলামে মেয়ে সন্তানের ব্যাপারে অধিক মর্যাদা ব্যক্ত করেছে। তাই, মেয়ে হলে আনন্দিত হওয়া উচিত। যদিও আমাদের উপমহাদেশে মেয়ে সন্তানকে খাটো করে দেখা হয়। এটা অন্যায়; মস্ত বড় অন্যায়।
[৯] কুরআন তিলাওয়াত করা : এটি গর্ভাবস্থার গুরুত্বপূর্ণ আমল। আপনার তিলাওয়াতের আওয়াজে সন্তান দারুণভাবে প্রভাবিত হবে। তাই, একদম মনে মনে না পড়ে সামান্য আওয়াজে পড়বেন। পড়তে কষ্ট হলে কাউকে তিলাওয়াত করতে বলবেন অথবা রেকর্ডিং তিলাওয়াত ছেড়ে রাখবেন। তবে, নিজে পড়াই উচিত।
[১০] সমাজে গর্ভবতী নারীদের ব্যাপারে বিভিন্ন কুসংস্কার, বিদ‘আত ও শির্ক প্রচলিত আছে। সতর্কতার সাথে এগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকুন।
[১১] আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল বেশি বেশি করবেন। সেগুলো হলো : ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠ করা এবং সাধ্যানুযায়ী দান সাদাকাহ্ করা। এই তিনটি আমলের প্রভাব বিস্ময়কর এবং প্রমাণিত। কোনো নির্দিষ্ট নিয়মের দরকার নেই।
- Tasbeeh
👉 কপি করে পোস্ট দিতে পারেন।