23/07/2026
আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপ ফাইনালে হারটা শুধু হার নয়, একেবারে রেকর্ডবুক উলটে দেওয়ার মতো এক ঘটনা হয়ে থেকেছে। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসে প্রথম দল, যারা কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি। তাদের প্রথম শট আসে অতিরিক্ত সময়ের ১১৭ মিনিটে, লিওনেল মেসির পা থেকে। এর ফলে ২০২৬ সালের ফাইনাল হয়ে যায় আর্জেন্টিনার তৃতীয় এমন ফাইনাল যেখানে দলটি কোনো শট অন টার্গেট ছাড়াই হেরেছে (২০২৬, ২০১৪, ১৯৯০)। ৯০ মিনিট পর এক দলের সর্বনিম্ন শটের রেকর্ডও এখন আর্জেন্টিনার দখলে (০টি, আগের রেকর্ডও ছিল তাদেরই, ১৯৯০ সালে ১টি শট)। ১৯৬৬ সাল থেকে অপটার হিসাব অনুযায়ী খেলা ৯০০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটি দল নির্ধারিত সময়ে শূন্য শট নিয়েছে— কোস্টা রিকা (১৯৯০ ও ২০২২) এবং এবার আর্জেন্টিনা (২০২৬)। পুরো ম্যাচ মিলিয়ে তাদের সামগ্রিক এক্সজি (xG) ছিল মাত্র ০.১৩–০.২০ এর মধ্যে, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
মাঠের বাইরের আচরণেও আর্জেন্টিনা রেকর্ড গড়েছে, তবে সেটাও ভালো অর্থে নয়। স্পেনের বিপক্ষে তারা ২৬টি ফাউল করেছে, যা কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ (২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদেরই করা ২৬ ফাউলের রেকর্ডের সমান বা তার চেয়ে বেশি)। পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখানো শেষ ৯টি কার্ডের সবকটিই পেয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩টি, স্পেনের বিপক্ষে ৬টি)। এনজো ফার্নান্দেজ হয়ে ওঠেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে ষষ্ঠ খেলোয়াড় যিনি লাল কার্ড দেখেছেন, আর মজার বিষয় হলো এই ছয়জনের অর্ধেকই (৫০%) আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়— এর আগে ১৯৯০ সালে পেদ্রো মনসোন ও গুস্তাভো দেসোত্তিও লাল কার্ড দেখেছিলেন।
মেসির জন্যও এই ফাইনাল ছিল এক তেতো অভিজ্ঞতা। এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ যেখানে শুরুর একাদশে থেকেও তিনি সতীর্থদের জন্য একটিও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি দ্বিতীয় হয়ে শেষ করেন, প্রথম হন কিলিয়ান এমবাপে, যিনি একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার (২২ গোল, মেসির ২১ এর বিপরীতে) রেকর্ডও নিজের করে নেন।