11/02/2026
বিষয়ঃ #গণভোট
👉 “৩০টি সংশোধনী” এখনো সরকারিভাবে একক গেজেট/চূড়ান্ত তালিকা আকারে প্রকাশ হয়নি।
নিচের তালিকাটি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে যেসব পয়েন্ট নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বারবার এসেছে, সেগুলো থিমভিত্তিক করে পয়েন্ট গুলো দেওয়া।
অর্থাৎ এটা প্রস্তাবিত/আলোচিত সংস্কারগুলোর সংকলন, চূড়ান্ত আইনি ভাষা নয়।
🇧🇩 গণভোটে আলোচিত ৩০টি সংশোধনী/সংস্কার
🏛️ A. রাষ্ট্র ও সংবিধান কাঠামো (১–৬)
১. সংবিধান সংশোধনের নতুন পদ্ধতি
→ ভবিষ্যতে সংবিধান বদলাতে শুধু সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়,
গণভোট বা উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।
২. ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks & Balances)
→ প্রধানমন্ত্রী যেন সব ক্ষমতার কেন্দ্র না হন—
রাষ্ট্রপতি, সংসদ ও আদালতের ক্ষমতা তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ করা।
৩. জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা সীমিতকরণ
→ জরুরি অবস্থা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্ত বন্ধ করে
সংসদ/রাষ্ট্রপতির অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।
৪. রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শক্তিশালী করা
→ রাষ্ট্রপতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়,
কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা দেওয়া।
৫. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানে স্বচ্ছতা
→ সাজা মওকুফে ভুক্তভোগীর মতামত ও আইনি সুপারিশ যুক্ত করা।
৬. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলনিরপেক্ষ করা
→ ইসি, দুদক, পিএসসি ইত্যাদিতে নিয়োগে স্বাধীন কমিশন।
🏛️ B. সংসদ সংস্কার (৭–১২)
৭. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু
→ একটি নিম্নকক্ষ (বর্তমান সংসদ) + একটি উচ্চকক্ষ।
৮. উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR)
→ জাতীয় ভোটের অনুপাতে দলগুলো আসন পাবে।
৯. সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
→ হঠাৎ বা একতরফা সংশোধন ঠেকাতে।
১০. বিরোধী দলের ক্ষমতা বৃদ্ধি
→ ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতিতে বিরোধী দল।
১১. সংসদীয় কমিটিকে বাস্তব ক্ষমতা দেওয়া
→ মন্ত্রণালয় তদারকি, দুর্নীতি তদন্তের ক্ষমতা।
১২. সংসদের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার বাধ্যতামূলক
→ জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
🗳️ C. নির্বাচন ব্যবস্থা (১৩–১৭)
১৩. স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন
→ নিয়োগে সার্চ কমিটি + রাজনৈতিক ঐকমত্য।
১৪. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন
→ নির্বাচনকালে প্রশাসনের দলীয় প্রভাব নিষিদ্ধ।
১৫. তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা
→ কোন না কোন নিরপেক্ষ কাঠামো সাংবিধানিক স্বীকৃতি।
১৬. নির্বাচনী এলাকার সীমা পুনর্নির্ধারণ
→ জনসংখ্যা অনুযায়ী আসন বণ্টন।
১৭. কালো টাকা ও পেশিশক্তি বন্ধে কঠোর আইন
→ প্রার্থী ব্যয়ের সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ।
⚖️ D. বিচার বিভাগ ও আইন (১৮–২২)
১৮. বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা
→ নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৯. বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কমিশন
→ রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা।
২০. আঞ্চলিক হাইকোর্ট বেঞ্চ
→ ঢাকার বাইরে বিচার সহজলভ্য করা।
২১. সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়
→ অর্থ ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত।
২২. স্বাধীন তদন্ত সংস্থা (পুলিশের বাইরে)
→ রাষ্ট্রীয় অপরাধ তদন্তে নিরপেক্ষতা।
👥 E. মৌলিক অধিকার ও সমাজ (২৩–২৬)
২৩. মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা শক্তিশালী করা
→ ডিজিটাল/বিশেষ আইন দিয়ে দমন বন্ধ।
২৪. মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার
→ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বাধা।
২৫. সংখ্যালঘু ও আদিবাসী স্বীকৃতি ও সুরক্ষা
→ ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার।
২৬. নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি
→ সংরক্ষিত আসনের পদ্ধতি সংস্কার।
🏢 F. স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন (২৭–৩০)
২৭. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
→ এমপি নয়, জনপ্রতিনিধির হাতে স্থানীয় ক্ষমতা।
২৮. প্রশাসনে দলীয়করণ নিষিদ্ধ
→ পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা।
২৯. বড় আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সংসদের অনুমোদন
→ গোপন চুক্তি বন্ধ।
৩০. ভবিষ্যৎ সরকার এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে
→ গণভোটে “হ্যাঁ” হলে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
🗳️ গণভোটে ভোট দেওয়ার ধরন
✔️ একটি প্রশ্ন
✔️ উত্তর: হ্যাঁ / না
✔️ মানে: এই সংস্কার-আপনি সমর্থন করেন কি না