06/07/2014
ধূ ধূ মাঠ । যতদূর দেখা যায় বালি আর বালি । সাহারার কথা মনে করিয়ে দেয় । চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল । বালির রাজ্যে স্বাগতম জানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুইটি ফুটবল বার। সদা কালো ডোরা কাটা দাগের বার । দুরবার রক্ষণ আর অসাধারণ শৈল্পিক আক্রমণের প্রতীক যেন এই বার গুলো ।দূরে মরিচিকার মত কিছু প্রাণের আভাস পাওয়া যায়। সবসময় । চিরন্তন নিয়ম । বর্ষার ঠিক আগে যখন বাতাসের সাথে বালির সাগরে ঢেউ উঠে সেই বালির ঢেউ’এর ফাঁকে ফাঁকে দুরন্ত প্রাণের উচ্ছাসিত স্পন্দনের ছোঁয়া পাওয়া যায় । কিংবা তপ্ত দুপুরে যখন সুন্দরি ললনা কোন শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিত খাবার দোকানে বসে ঠাণ্ডা লাচ্ছিতে তৃপ্তির চুমুক দিচ্ছে ঠিক একি সময়ে কিছু কিশোর তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে বিপক্ষ দলের গোল বারে শৈল্পিক ছোঁয়ায় বলটি পার করে দিয়ে । কিংবা তীব্র শীতের ভোরে স্কুল পড়ুয়া কিশোর ছেলেগুলো কম্বলের নিচে যখন শীতের সাথে আপোষ করছে তখনই কিছু কিশোর স্কুলের সাদা সার্ট প্যান্ট ইন করছে আর বাবার চোখ ফাকি দিয়ে ফুটবল খেলার জন্য লুকিয়ে এংলেট কিংবা হাফপ্যান্টটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিচ্ছে। ইলা ম্যাডাম যখন বাংলা ২য় পত্রের মত বেরসিক বিষয়টাকে অমৃত বানানোর চেষ্টায় বেস্ত সেই কিশোর গুলো তখন বেস্ত আগাম ম্যাচের রণকৌশল নির্ধারণে । ১ম ক্লাসটা শেষ করে বিএনসিসি ভবনের ২ তলায় উঠে তাড়কাটায় পা দিয়ে মাঠের মাটিতে পা দেওয়াটায় তাদের প্রথম চিন্তা । আর কত কত কিশোর কিশোর করবো? নাম দেওয়া যাক । হুম্মম্মম্মম্মম্ম... শাহাদাৎ ইমরান নুরুল মামুনরা । উহু !! তাও হল না । কি হতে পারে নাম টা ?? ‘এফসি ব্রাদারহুড’ । এটা ভালো হতে পারে । হ্যাঁ । এফসি ব্রাদারহুড । অনেক বলার আছে এই এমেচার ফুটবল ক্লাবটাকে ঘিরে । অনেক কিছু। ছোট ছোট কয়েকটা প্রান ছুটে বেড়াচ্ছে মাঠ জুড়ে । মাঠের প্রান ছিলাম আমরা কজন । কিংবা বলা যায় একটি এফসি ব্রাদারহুড । ২০১০ সালের এক দুপুরে ব্রাজিল – আর্জেন্টিনা ম্যাচ দিয়ে এই দলের প্রতিভা অন্বেষণ সুরু । ২০১১ সালের এক হেমন্তের সুরুতে ব্রাদারহুডের যাত্রা শুরু । কালো রঙের জার্সির উপর সাদা রঙের লেখাটা শুধু সাদা রঙের আঁচড় ছিল না । ছিল সোনালি এক প্রজন্মের যাত্রার আগ্রবানি । আমাদের এই ফুটবল টিমের একজন প্লেয়ারের কথা আমার এখনো মনে পড়ে। ‘রাব্বি’ । হি ওয়ায টু গুড । অসাধারণ স্লো মুভ করতে পারতো ছেলেটা । বিদ্যালয়ের প্রথম সারির ছাত্র হাওয়াতে ঝরে পরল প্রতিভাটা । অসাধারণ একজন মিডফিল্ডার হারাল চট্টগ্রামের আন্ডারগ্রাউন্ড ফুটবল । আমাদের মিডফিল্ডটা ছিল ভালো । আক্রমণভাগের একমাত্র সফল অস্ত্র ছিল আতাউর রাহমান ইরাদ । তবে আমাদের মুল অস্ত্র ছিল ডিফেন্স । সকাল বেলা স্কুলে এসে খেলা শুরু করে দিতাম , শেষ করতাম দুপুরে। এভাবে সুন্দর সুন্দর ছেলেগুলর দল দেখতে ঘানার কিশোর একাদশ হয়ে গেলেও কার কোন আখখেপ নেই । আমার মনে আছে, কলেজিয়েট থেকে প্রথম টীম নিয়ে বাইরের কোন স্কুলের সাথে খেলতে গিএছিলাম । ব্রাদারহুড VS ইস্পাহানী স্কুল । আমারা যথারীতি সাদা সার্ট সাদা প্যান্ট (ময়লা ও রংচটা ) নিয়ে ঢুকলাম ইস্পাহানী স্কুলে । অরেব্বাপ! দুখতেই দেখি বুট পড়া জার্সি পড়া শর্টস পড়া একদল ছেলে চমৎকার ভাবে ফুটবল খেলছে । ভয় পেলাম । তবে কাওকে দেখালাম না ।মোট ২৫ মিনিট খেলা হয়েছিলো । ৪-০ গোলে জিতেছিলাম আমরা । ঐ দিন থেকে আমি বিশ্বাস করলাম আমি বিশ্বাস রাখলাম । চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আমাদের দলে আছে । সম্মানের সাথে স্মরণ করতে চাই আমাদের প্রাক্তন দলনায়ক ইমরান হাসান (CM) ও শাহাদাৎ মুরশেদের (LB) কথা । তাদের অসামান্য ত্যাগ ও প্রচেষ্টা ভোলার নয় । গুটি গুটি পায়ে প্রতিষ্ঠার ৩ বছর হল । অনেকেই অল্প বয়সে বুড়িয়ে গেছে । ছায়া হয়ে মাঠে খুজে ফিরছে নিজেকে । তারপরও আমাদের ডিফেন্স লাইন এখনো যে কাওকে চ্যালেঞ্জ দিতে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম । ডিফেন্স আমাদের ঐতিহ্য ছিল , আছে , থাকবে । আলাদা করে বলতে হয় আকিব তাহমিদের কথা । তার দীর্ঘ ধৈর্য চেষ্টা সাধনায় আমরা আজ চট্টগ্রামের ফুটবল অঙ্গনের পরিচিত মুখ । ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিল আমাদের ক্লাবের । তার অসাধারণ চেষ্টা আমাদের পরিস্রম আমাদের দলকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে । এ লেখাটা লিখার কোন কারন খুঁজে পাচ্ছি না ।
-Babux Being Crax