04/06/2026
নন্দনকানন ইসকন মন্দিরকে নিয়ে অপপ্রচারের নেপথ্যের প্রকৃত সত্য উন্মোচন! ❗নজর দিন আসল ঘটনায়❗
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দিরের পূজারী ও সাধুদের বিরুদ্ধে "উচ্ছেদ ও নারী নির্যাতনের" যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চাতুর্যের সাথে তৈরি সেই ভিডিওর পেছনের আসল এবং আইনি সত্যটি এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
আসুন জেনে নিই নেপথ্যের প্রকৃত ঘটনা ও সত্য তথ্য:
১️⃣ মালিকানা ও ঐতিহাসিক সত্য: ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এই ঐতিহ্যবাহী ভবন ও শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহের মূল মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের অভিজাত সনাতনী 'এন পাল' (ভারতী পাল) পরিবার। তাদের ইচ্ছাতেই ১৯৮০ সালে বিগ্রহের সেবা, তত্ত্বাবধান এবং এই সম্পত্তির সম্পূর্ণ দখল ও মালিকানা স্বত্ব ইসকনের নিকট হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ইসকন অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এখানে সেবা-পূজা ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন উৎসব পরিচালনা করে আসছে।
২️⃣ উচ্ছেদের মিথ্যা বানোয়াট দাবি: পালিত পরিবার মূলত এই সম্পত্তির একজন ভাড়াটিয়া মাত্র। ইসকন কাউকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে যায়নি। মূল বিরোধটি সৃষ্টি হয়েছে তাদের অবৈধ নির্মাণকাজ নিয়ে। সিডিএ (CDA)-এর কোনো অনুমোদন ছাড়াই তারা মন্দিরের প্রধান চলাচলের রাস্তা ও আঙ্গিনা ব্লক (বন্ধ) করে অবৈধভাবে স্থাপনা সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছিল। যার ফলে সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসার পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
৩️⃣ আইন অমান্য ও সাধুদের হেনস্তা: এই রাস্তা বন্ধের বিষয়ে ইসকন কর্তৃপক্ষ আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ এসে দুই পক্ষকে ডেকে আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ইসকন আইন মেনে শান্ত থাকলেও, পালিত পরিবার পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ইট ও নির্মাণ সামগ্রী ঢোকানোর চেষ্টা করে। মন্দিরের ব্রহ্মচারীরা এতে বাধা দিলে, সৌমেন পালিত ও তার স্ত্রী অকথ্য ভাষায় সাধু-পূজারীদের গালমন্দ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার জন্য তেড়ে আসেন।
৪️⃣ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খণ্ডিত ভিডিও: নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং মন্দিরের জায়গা দখলের অসৎ উদ্দেশ্যে তারা সাধুদের ওপর চড়াও হওয়ার অংশটুকুকে কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে, একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সাধু সমাজ তথা ইসকনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "নারী নির্যাতন ও উচ্ছেদ" নাম দিয়ে অপপ্রচার হিসেবে ছড়িয়ে দেয়।
সনাতনী ভাই-বোনদের প্রতি আকুল আবেদন:
আমাদের পূর্বপুরুষদের তৈরি এই ঐতিহাসিক দেবালয় ও পবিত্র স্থান রক্ষা করা প্রতিটি সনাতনীর দায়িত্ব। কোনো অসৎ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন জাল দলিল বা সস্তা আবেগের অপপ্রচার চালিয়ে মন্দিরের জায়গা গ্রাস করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
আসুন, সত্যকে জানুন এবং যেকোনো ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
#সনাতন_ধর্ম_ও_সনাতনী_সমাজের_কল্যাণে_ইসকনের_বিভিন্ন_কার্যক্রম:
১. ধর্মান্তরকরণ প্রতিরোধ ও ধর্মীয় চেতনা জাগরণ:
ইসকন সনাতন ধর্মের শিক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে বহু যুবক-যুবতীকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। যারা ইসকনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তারা সাধারণত ধর্মীয় অনুশীলনে আরও দৃঢ় হয় এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করে। ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মান্তরকরণের প্রবণতা রোধে ইসকন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২. নৈতিক ও চরিত্র গঠনমূলক শিক্ষা:
ইসকনের সদস্যদের চারটি মূলনীতি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হয়—
মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন
অবৈধ যৌনাচার বর্জন
জীবে দয়া ও নিরামিষ প্রসাদ গ্রহণ
জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যকলাপ বর্জন
এর মাধ্যমে যুবসমাজকে নৈতিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আদর্শ জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করা হয়।
৩. শিশু ও কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা:
গুরুকূল ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার সনাতনী শিশু-কিশোরকে গীতা শিক্ষা, বৈদিক সংস্কৃতি, কীর্তন, ভজন, শ্লোক পাঠ এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সনাতনী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষিত হচ্ছে।
৪. দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও মানবসেবা:
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারী ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় ইসকন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
৫. শীতবস্ত্র বিতরণ ও সমাজসেবা:
শীতকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সেবামূলক কর্মসূচিও পরিচালিত হয়।
৬. সনাতনী সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ:
হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, শাস্ত্র আলোচনা, রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, গৌর পূর্ণিমা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা বহু সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে।
৭. প্রসাদ বিতরণ কর্মসূচি:
ইসকন নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ ও অন্নসেবার আয়োজন করে। অনেক স্থানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও পরিচালিত হয়।
৮. মন্দির নির্মাণ ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়ন:
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মন্দির প্রতিষ্ঠা, সংস্কার ও ধর্মীয় কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সনাতনীদের জন্য ধর্মচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
৯. গীতা ও বৈদিক সাহিত্য প্রচার:
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতমসহ বিভিন্ন বৈদিক গ্রন্থ প্রকাশ ও বিতরণের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
১০. যুবসমাজকে সংগঠিত করা:
বিভিন্ন যুব কার্যক্রম, সেমিনার, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনাতনী যুবসমাজকে একত্রিত ও সচেতন করা হয়।
১১. বিশ্বব্যাপী সনাতন ধর্মের পরিচিতি বৃদ্ধি:
বিশ্বের বহু দেশে মন্দির, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সনাতন ধর্মের দর্শন ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করা হচ্ছে।
১২. গো-রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতা:
গো-সেবা, কৃষিভিত্তিক জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বৈদিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালানো হয়।
১৩. ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সনাতনী পরিবারের পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে ইসকনের ভক্ত ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বহু পরিবারকে পুনর্বাসনে সহায়তা করেছেন।
শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।