30/08/2022
মৃত্যু একবার দরজায় কড়া নাড়লে জীবনঘণ্টা বেজে যাবে। শেষ হয়ে যাবে। আমাদের পরীক্ষার নির্ধারিত সময়। তখন আর থাকবে না কোনো সৎকর্ম করার সময়, থাকবে না ভুল শোধরানোর কোনো সুযোগ। তাই মৃত্যু আসার আগেই আমাদের পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
আল্লাহ বলেন-
اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَّ اَنَّكُمْ اِلَیْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ
“তোমরা কি ভেবেছ, আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? (সূরা মুমিনুন: ১১৫)
আল্লাহ তায়ালা এখানে 'আবাছা' শব্দ ব্যবহার করেছেন যার অর্থ খেলাচ্ছলে বা খেলার জন্য। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যহীন নিছক আমোদ-আহ্লাদের জন্য সৃষ্টি করেননি; বরং তাঁর ইবাদত বা গোলামির জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এই গোলামির বদৌলতে আমরা নির্ধারিত পরিমাণ নম্বর পাব, যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে আমাদের পরকালীন জীবনের ভাগ্য। যদি আমাদের ‘খুলুসিয়াত' ও চেষ্টা হয় নিখাদ, তাহলে পরীক্ষায় কিছুটা কম নম্বর পেলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিচার দিনে নিজ গুণে তা বর্ধিত করে জান্নাতে পার করে দেবেন। আর যদি নিয়্যাত হয় ভেজালযুক্ত, তাহলে কর্মফল হবে ফাঁপা বেলুনের মতো অন্তসারশূন্য, মূল্যহীন।
যা কিছু করার দুনিয়ার জীবনেই করতে হবে। কারণ, পরকালীন জীবনের পুরো ভাগ্যই নির্ভর করে আমাদের দুনিয়াবি জীবনের ওপর। মৃত্যু যেহেতু অবধারিত এবং এর সময় অনিশ্চিত, তাই সর্বদাই আমাদের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।