20/10/2017
কী এই Omega?
ওমেগা হচ্ছে একধরনের পলিআনস্যাটুরেটেড(Polyunsaturated) ফ্যাটি এসিড। একে বলা হয়
অত্যাবশ্যকিয় ফ্যাটি এসিড যা শরীরের জন্য প্রয়োজন কিন্তু মানব শরীর তা উৎপন্ন করতে পারে না। সুতরাং, খাবারের মাধ্যমে
এটি আমাদের গ্রহন করতে হয়। তিন ধরনের ওমেগা আছে-omega-3, omega-6, omega-9.
এর মধ্যে ওমেগা-৩ সবচেয়ে উপকারি।
ওমেগা-৩ একগুচ্ছ ফ্যাটি এসিডের সমন্বয়। এর ভিতর ৩টা আমাদের স্বাস্থের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ন।
EPA(eicosapentaenoic acid), DHA(docosahexaenoic acid) যা আমরা মাছের তেল থেকে
পেতে পারি। অন্যটি ALA(alphalinolenic acid) ,এটি পাওয়া যায় উদ্ভিদ থেকে।
এই ফ্যাটি এসিড আমাদের শরীরের সেল মেমব্রেন এ থাকে। কোষের ভিতর দিয়ে যেসব সাবস্টেন্স চলাচল করে তা নিয়ন্ত্রণ করা
এবং একটি সেলের থেকে অন্য সেলের মধ্যকার যোগাযোগ রক্ষা করে। যেসব সেলে বেশি ওমেগা-৩ থাকে সেসব সেলে ফ্লুইড এর
পরিমান বেশি থাকে এবং কার্যকর ভাবে কাজ করে। ওমেগা ফ্যাটি এসিড হরমোন উৎপাদনও নিয়ন্ত্রন করে।
ওমেগা-৩ এর উপকারিতা কি?
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ওমেগা-৩ ফ্যাট হার্ট ডিজিস রোধ করে। এটা রক্ত জমাট বাধা(Blood clotting) কমায় এবং হার্ট এটাক এর ঝুঁকি কমায়; যদি হার্ট এটাক হয় তবে তা মারাত্নক হবার সম্ভাবনা কমায়। স্ট্রোক এবং অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন কমাতে সাহায্য করে।
ব্লাড প্রেসার থিক রাখে। শিশুর মস্তিস্ক গঠনেও সাহায্য করে ওমেগা-৩। মাছ ব্যাতিত বুকের দুধ হচ্ছে DHA এর একমাত্র বিকল্প উৎস।
বিভিন্ন ইনফ্ল্যামেন্টরি ডিজিস (যেমনঃ রিউমাটাইড আথ্রাইটিস) এর বিরুদ্ধে লড়াই করে ওমেগা-৩।
আরো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ ডিপ্রেশন এবং মনোসংযোগ ব্যাঘাত জনিত সমস্যার ক্ষেত্রেও কাজ করে।
প্রাথমিক কিছু গবেষণায় বলা হচ্ছে-ওমেগা-৩ ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার বৃদ্ধির ঝুঁকি হ্রাস করে।
এজমা, এক্সিমা, নেফ্রটিক সিনড্রম, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি রোগের উপর এর উপকারি ভূমিকা নিয়ে কাজ করে চলছেন গবেষকরা।
ওমেগা-৩ কিভাবে পাবেন?
তেলযুক্ত মাছ হচ্ছে ওমেগা-৩ এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উৎস।সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সী ফুডে EPA এবং DHA থাকে।
অন্য ফ্যাটি আসিড ALA পাওয়া যায় উদ্ভিদ থেকে- বাদাম, ভেজিটেবল ওয়েল এবং ওলিভ ওয়েল।
কি পরিমান ওমেগা-৩ দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন ৬১০মিলিগ্রাম EPA ও DHA দরকার। মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৩০mg