Zainul Karate Centre & Judo Art Center

Zainul Karate Centre & Judo Art Center Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Zainul Karate Centre & Judo Art Center, Stadium, Chandpur.

06/05/2026
29/04/2026

★সূরা ফীলের দারস ও তাফসির
শ্রেণীঃমাক্কী সূরা

সূরার ক্রমঃ১০৫

আয়াতের সংখ্যাঃ৫

পারার ক্রমঃ৩০

অনুবাদ ঃ

اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ فَعَلَ رَبُّکَ بِاَصۡحٰبِ الۡفِیۡلِ

তুমি কি দেখনি যে, তোমার রব হস্তি অধিপতিদের কিরূপ (পরিণতি) করেছিলেন?

اَلَمۡ یَجۡعَلۡ کَیۡدَہُمۡ فِیۡ تَضۡلِیۡلٍ

তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি?

وَّ اَرۡسَلَ عَلَیۡہِمۡ طَیۡرًا اَبَابِیۡلَ

তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পক্ষীকূল প্রেরণ করেছিলেন –

تَرۡمِیۡہِمۡ بِحِجَارَۃٍ مِّنۡ سِجِّیۡلٍ

যারা তাদের উপর প্রস্তর কংকর নিক্ষেপ করেছিল

فَجَعَلَہُمۡ کَعَصۡفٍ مَّاۡکُوۡلٍ

অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ সদৃশ করে দেন

সময়কালঃ

মক্কায় নাজিল হওয়া একটি সময়কাল। এই সূরাটি হস্তিবাহিনীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়েছিল, যা ছিল ইয়েমেনের শাসক আবরাহার একটি প্রচেষ্টা ছিল কাবা ধ্বংস করার। এই ঘটনাটি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মের কাছাকাছি সময়ে ঘটেছিল এবং আরবদের মধ্যে এটি "হস্তী বাহিনী বর্ষ" নামে পরিচিত।

#শানেনূযুলঃ

মক্কার কুরাইশদের উপর হস্তিবাহিনী দ্বারা কাবা শরীফ ধ্বংস করার জন্য পরিচালিত আক্রমণ থেকে আল্লাহর সুরক্ষা। ইয়েমেনের বাদশাহ আবরাহা কাবা ধ্বংস করতে বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হন। আল্লাহ তাঁর অপার কুদরত ও ঐশ্বরিক শক্তি দিয়ে ছোট ছোট পাখি (আবাবিল) পাঠিয়ে হস্তীবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।

★আক্রমণ:

ইয়েমেনের শাসক আবরাহা কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে মক্কায় একটি বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

★আল্লাহর সুরক্ষা:

আল্লাহ তা’আলা এই আক্রমণ থেকে কাবা ঘরকে রক্ষা করার জন্য ছোট ছোট পাখি (আবাবিল) পাঠান।

★হস্তীবাহিনীর ধ্বংস:

পাখিরা তাদের উপর পাথরের টুকরা নিক্ষেপ করে এবং হস্তীবাহিনীর সবাই ধ্বংস হয়ে যায়।

★কুরআন নাজিলের তাৎপর্য:

এই ঘটনাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়, যা কুরাইশদের আল্লাহর ক্ষমতার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং ইসলামের দাওয়াতের প্রতি মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

#দারসঃ

আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঘর (কাবা) রক্ষা করার জন্য একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, যেখানে হস্তীবাহিনীকে আবাবিল নামক ছোট পাখি দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। এই ঘটনার মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, ইসলামের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করা, এবং আল্লাহতে ভরসা রাখলে তিনি তাঁর বান্দাদের রক্ষা করেন।

মূল ঘটনা

ঐতিহাসিক পটভূমিঃ

হাবশা (বর্তমান ইথিওপিয়া) সম্রাটের কাছ থেকে যখন ইয়েমেন একজন সরদার ইয়ামনের গভর্নর হবার পরোয়ানা হাসিল করে তখন হাবশী সৈন্যরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। তারা আবরাহাকে তার জায়গায় গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত করে। আবরাহা ছিল হাবশার আদুলিস বন্দরের একজন গ্রীক ব্যবসায়ীর ক্রীতদাস। নিজের বুদ্ধিমত্তার জোরে সে ইয়েমেন দখলকারী হাবশী সেনাদলে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টিতে সক্ষম হয়। হাবশা সম্রাট তাকে দমন করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠায়। কিন্তু এই সেনাদল হয় তার সাথে যোগ দেয় অথবা সে এই সেনাদলকে পরাজিত করে। অবশেষে হাবশা সম্রাটের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী তাকে ইয়ামনে নিজের গভর্নর হিসাবে স্বীকার করে নেয়।ক[›]) পরে সে ধীরে ধীরে ইয়ামনের স্বাধীন বাদশাহ হয়ে বসে। ৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে সদ্দে মাআরিব এর সংস্কার কাজ শেষ করে সে একটি বিরট উৎসবের আয়োজন করে। এই উৎসবের বিভিন্ন দেশ থেকে লোক আসে। সদ্দে মাআ’রিবে আবরাহা স্থাপিত শিলালিপিতে এ সম্পর্কিত পূর্ণ আলোচনা সংরক্ষিত রয়েছে।[২]

সে ইয়ামনের রাজধানী সান্‌আ'য় একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করে। আরব ঐতিহসিকগণ একে 'আল কালীস' বা 'আল কুলীস' অথবা 'আল কুল্লাইস' নামে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, এ কাজটি সম্পন্ন করার পর সে হাবশার বাদশাহ্‌কে লিখে জানায়, আমি আরবদের হজ্জকে মক্কার কা'বার পরিবর্তে সানআর গীর্জার দিকে ফিরিয়ে না দিয়ে ক্ষান্ত হবো না। সে মক্কা আক্রমণ এবং কুরাইশদেরকে ধ্বংস ও সমগ্র আরববাসীকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে দিতে সফলকাম হতে পারবে বলে মনে করছিল। আবরাহার কাছে যখন এ খবর পৌঁছুল যে কাবার ভক্ত-অনুরক্তরা তার গীর্জার অবমাননা করেছে তখন সে এ রকম কসম খায় যে, ‘কা'বাকে গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমি স্থির হয়ে বসবো না’।

অতঃপর ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে সে ৬০ হাজার পদাতিক, ১৩টি হাতি (অন্য বর্ণনা মতে ৯টি হাতি) সহকারে মক্কার পথে রওয়ানা হয়। পথে প্রথমে যু-নফর মানক ইয়ামনের একজন সরদার আরবদের একটি সেনাদল সংগ্রহ করে তাকে বাধা দেয়। কিন্তু যুদ্ধে সে পরাজিত ও ধৃত হয়। তারপর খাশ'আম এলাকায় নুফাইল ইবনে খাশ'আমী তার গোত্রের লোকদের নিয়ে তার পথ রোধ করে। সে-ও পরাজিত ও গ্রেফতার হয়ে যায়। সে নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য আবরাহার সেনাদলের পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ সেনাদল তায়েফের নিকটবর্তী হলে বনু সকীফ অনুভব করে যে এত বড় শক্তির মোকাবিলা করার ক্ষমতা তাদের নেই এবং এই সংগে তারা এ আশঙ্কাও করতে থাকে যে হয়তো তাদের লাত দেবতার মন্দিরও তারা ভেঙে ফেলবে। ফলে তাদের সরদার মাসউদ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে আবরাহার সাথে দেখা করে। তারা তাকে বলে, আপনি যে উপাসনালয়টি ভাঙতে এসেছেন আমাদের এ মন্দিরটি সে উপাসনালয় নয়। সেটি মক্কায় অবস্থিত। কাজেই আপনি আমাদেরটায় হাত দেবেন না। আমরা মক্কার পথ দেখাবার জন্য আপনাকে পথ প্রদর্শক সংগ্রহ করে দিচ্ছি।

আবরাহা তাদের এ প্রস্তাব গ্রহণ করে। ফলে বনু সাকীফ আবু রিগাল নামক এক ব্যক্তিকে তার সাথে দিয়ে দেয়। মক্কা পৌঁছতেই যখন আর মাত্র তিন ক্রোশ পথ বাকি তখন আলমাগান্মাস বা আল মুগান্মিস নামক স্থানে পৌঁছে আবু রিগাল মারা যায়।খ[›]) এরপর সে মক্কাবাসীদের কাছে নিজের একজন দূতকে পাঠায়। তার মাধ্যমে মক্কাবাসীদের কাছে এই মর্মে বাণী পাঠায়ঃ আমি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি। আমি এসেছি শুধুমাত্র এই ঘরটি (কাবা) ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে। যদি তোমরা যুদ্ধ না করো তাহলে তোমাদের প্রাণ ও ধন-সম্পত্তির কোনো ক্ষতি আমি করবোনা। তাছাড়া তার এক দূতকেও মক্কাবাসীদের কাছে পাঠায়। মক্কাবাসীরা যদি তার সাথে কথা বলতে চায় তাহলে তাদের সরদারকে তার কাছে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়।

(রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।-এর দাদা) আবদুল মুত্তালিব তখন ছিলেন মক্কার সবচেয়ে বড় সরদার। দূত তার সাথে সাক্ষাৎ করে আবরাহার পয়গাম তার কাছে পৌঁছয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘আবরাহার সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই।’ এটা আল্লাহ্‌র ঘর; তিনি চাইলে তার ঘর রক্ষা করবেন। দূত বলে, ‘আপনি আমার সাথে আবরাহার কাছে চলুন।’ তিনি সম্মত হন এবং দূতের সাথে আবরাহার কাছে যান।

আবদুল মুত্তালিব বলেন, ‘এব্যাপারে আপনি জানেন ও তিনি জানেন ‘ এ কথা বলে তিনি সেখান থেকে উঠে পড়েন। আবরাহা তাকে তার উটগুলো ফিরিয়ে দেয়।

আবরাহা সেনাদল কাছে থেকে ফিরে এসে আবদুল মুত্তালিব কুরাইশদেরকে বলেন, ‘নিজ-নিজ পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পাহাড়ের ওপর চলে যাও, এভাবে তারা ব্যাপক গণহত্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।’ অতপর তিনি ও কুরাইশদের কয়েকজন সরদার হারম শরীফে হাযির হয়ে যান। তারা কাবার দরজার কড়া ধরে আল্লাহ্‌র কাছে এই বলে দোয়া করতে থাকেন যে, তিনি যেন তার ঘর ও তার খাদেমদের হেফাজত করেন। সে সময় কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। কিন্তু এই সংকটকালে তারা সবাই এই মূর্তিগুলির কথা ভুলে যায়। তারা একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করার জন্য হাত ওঠায়। ইতিহাসের বইগুলিতে তাদের প্রার্থনার বাণীগুলি উদ্ধৃত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হল নিম্নরূপঃ



হে আমার রব! তাদের মোকাবিলায়

তুমি ছাড়া কারো প্রতি আমার আশা নেই,

হে আমার রব! তাদের হাতে থেকে

তোমার হারমের হেফাজত করো।

এই ঘরের শত্রু তোমার শত্রু,

তোমার জনপদ ধ্বংস করা থেকে

তাদেরকে বিরত রাখো।



এ দোয়া করার পর আবদুল মুত্তালিব ও তার সাথীরাও পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরের দিন আবরাহা মক্কায় প্রবেশ করার জন্য এগিয়ে যায়। কিন্তু তার বিশেষ হাতি মাহমুদ ছিল সবার আগে, সে হঠাৎ বসে পড়ে। কুড়ালের বাঁট দিয়ে তার গায়ে অনেকক্ষণ আঘাত করা হয়। বারবার অঙ্কুশাঘাত করতে করতে তাকে আহত করে ফেলা হয়। কিন্তু এত বেশি মারপিট ও নির্যাতনের পরেও সে একটুও নড়ে না। তাকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব দিকে মুখ করে চালাবার চেষ্টা করলে সে ছুটতে থাকে কিন্তু মক্কার দিকে মুখ ফিরিয়ে দিলে সংগে সংগেই গ্যাঁট হয়ে বসে পড়ে। কোনো রকমে তাকে আর একটুও নড়ানো যায় না।

এ সময় আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষুদ্রাকৃতি আবাবিল পাখি ঠোঁটে ও পাঞ্জায় ‘পাথর কণা’ (কঙ্কর) নিয়ে উড়ে আসে। তারা সেনাদলের ওপর পাথর কণা (কঙ্কর) বর্ষণ করতে থাকে। যার ওপর পাথর কণা পড়তো তার দেহ সংগে সংগে গলে যেতে থাকতো। ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে, যার ওপরই পাথর কণা পড়তো তার সারা গায়ে ভীষণ চুলকানি শুরূ হতো এবং চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ছিঁড়ে গোশত ঝরে পড়তে থাকতো। আবরাহা নিজেও এই অবস্থার সম্মুখীন হয়। তার শরীর টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়তো এবং যেখান থেকে এক টুকরো গোশত খসে পড়তো সেখান থেকে রক্ত ও পুঁজ ঝরে পড়তে থাকতো। বিশৃংখলা ও হুড়োহুড়ি ছুটাছুটি মধ্যে তারা ইয়ামনের দিকে পালাতে শুরু করে। খাশ'আম এলাকা থেকে যে নুফাইল ইবনে হাবীব খাশ'আমীকে তারা পথ প্রদর্শক হিসাবে নিয়ে আসে তাকে খুঁজে পেয়ে সামনে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে ফিরে যাবার পথ দেখিয়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু সে সরাসরি অস্বীকার করে বসে। আবরাহা খাশ'আম এলাকায় পৌঁছে মারা যায়।

#শিক্ষণীয় বিষয়

#আল্লাহর ক্ষমতা: আল্লাহর ক্ষমতা অসীম এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না।

#কাবা শরীফের সুরক্ষা: আল্লাহ তাঁর পবিত্র ঘরকে রক্ষা করেন এবং এই ঘর ধ্বংস করার কোনো শক্তি কারো নেই।

#আল্লাহতে ভরসা: নাফরমানদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি রয়েছে।

#ষড়যন্ত্রের ব্যর্থতা: আল্লাহ ইসলামের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ও কৌশলকে ব্যর্থ করে দেন।

#তাফসিরঃ

১. আপনি কি দেখেন নি(১) আপনার রব হাতির অধিপতিদের প্রতি কী করেছিলেন?

(১) এখানে أَلَمْ تَرَ “আপনি কি দেখেননি” বলা হয়েছে। বাহ্যত এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে, অথচ এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের কিছুদিন পূর্বেকার ঘটনা। কোন কোন মুফাসসির এর সমাধানে বলেন, এখানে শুধু কুরাইশদেরকেই নয় বরং সমগ্র আরববাসীকেই সম্বোধন করা হয়েছে। তারা এই সমগ্র ঘটনা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত ছিল। কুরআন মজিদের বহু স্থানে ‘আলাম তারা’ বা আপনি কি দেখেননি? শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নয় বরং সাধারণ লোকদেরকে সম্বোধন করাই উদ্দেশ্য। [কুরতুবী]

অপর কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, যে ঘটনা এরূপ নিশ্চিত যে, তা ব্যাপকভাবে প্রত্যক্ষ করা হয়, সে ঘটনার জ্ঞানকেও দেখা বলে ব্যক্ত করা হয়; যেন এটা চাক্ষুষ ঘটনা। তাছাড়া, এক পর্যায়ে দেখাও প্রমাণিত আছে; যেমন কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, আয়েশা ও আসমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা দুজন হস্তীচালককে অন্ধ, বিকলাঙ্গ ও ভিক্ষুকরূপে দেখেছিলেন। বাইহাকী: দালায়েলুন নাবুওয়াহ, ১/৫২] [আত-তাহরীর ওয়াততানওয়ীর]

২। তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন নি? [1]

[1] অর্থাৎ, সেই ব্যক্তি, যে কা’বাগৃহকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসেছিল তাকে তাতে অসফল করলেন। এখানে জিজ্ঞাসা সাব্যস্তের জন্য

৩. আর(১) তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান(২)

(১) যদি আয়াতটিকে পূর্বের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ধরা হয়, তখন এ আয়াতটির অর্থ হয়, “তিনি কি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান নি?” পক্ষান্তরে যদি আয়াতটিকে প্রথম আয়াতটির সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন এর অর্থ হবে, “আপনি কি দেখেন নি, তিনি তাদের উপর ঝাকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন?” [আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর]

(২) أبابيل শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে, ঝাঁকে ঝাঁকে, যা একটার পর একটা আসে। কারও কারও মতে, শব্দটি বহুবচন। অৰ্থ পাখির ঝাঁক-কোন বিশেষ প্রাণীর নাম নয়। [তাবারী] বলা হয়ে থাকে যে, এ জাতীয় পাখি পূর্বে কখনও দেখা যায়নি। [কুরতুবী]

৪. যারা তাদের উপর শক্ত পোড়ামাটির কঙ্কর নিক্ষেপ করে।(১)

(১) উপরে سجيل এর অর্থ করা হয়েছে, পোড়া মাটির কঙ্কর। [মুয়াস্‌সার] কারও কারও মতে, ভেজা মাটি আগুনে পুড়ে শক্ত হয়ে যে, কংকর তৈরি হয়, সে কংকরকে سجيل বলা হয়ে থাকে। [জালালাইন] আবার কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ অতি শক্ত পাথরের কঙ্কর। [আদওয়াউল বায়ান

৫. অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ-সদৃশ করেন।(১)

(১) عصف এর অর্থ শুষ্ক তৃণ-লতা, শুকনো খড়কুটো।। কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে আবরাহার সেনাবাহিনীর অবস্থা শুষ্ক তৃণ ভক্ষিত হওয়ার পর যা হয়, তদ্রুপই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। [তাবারী, ইবন কাসীর]

Address

Stadium
Chandpur
3600

Telephone

+8801839380385

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Zainul Karate Centre & Judo Art Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Zainul Karate Centre & Judo Art Center:

Share