25/09/2025
এদেশের মানুষের এমন কিছু ছবি দেখলে আমার ভীষণ দুঃখ লাগে।
মরুভূমিতে গরম বাতাস ও আলোর প্রতিসরণের কারণে খুব কাছেই কোথাও পানি আছে মনে হয়, অথচ কাছে গেলে বোঝা যায় কিছুই নেই। বিজ্ঞানীরা এটাকে বলে optical illusion caused by atmospheric refraction.
মরুভূমির পথিকেরা দূর থেকে চকচকে পানির স্তর দেখে আশায় দৌড় দেয়, কিন্তু শেষে গিয়ে হতাশ হয়। কারণ ওটা আসলে শুধুমাত্র আলোর খেলা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
খেয়াল করে দেখবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থাটাও সেই মিরাজের মতই মনে হয়। শুরুতে মনে হয় এ যেনো একটা স্বপ্নের মতো অবস্থা। একটু দূরেই পানির ঝিলিক, অর্থাৎ ট্রফি কিংবা বড় জয়। টানা কিছু ম্যাচ জিতলেই দেশ জুড়ে আশা জেগে ওঠে, মনে হয় এবার হয়তো ভাগ্যের চাঁকা ঘুরবে।
অথচ বাস্তবে বারবার দেখা গেছে, ঠিক শেষ মুহূর্তে, জয় হাতছোঁয়া দূরত্বে থেকেও হেরে যায় দলটা।
দূর থেকে আশাজাগানিয়া ঝিলিক, কাছে গিয়ে ভরাডুবির এই গল্পও কিন্তু আবার আজকের না।
২০১২ এর এশিয়া কাপ ফাইনাল,
২০১৬ তে ভারতের বিরুদ্ধে সুপার ফোরে হার,
এমনকি ২০২৪ এর টি-২০ বিশ্বকাপেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১১৫ রান নিতে ব্যর্থ হয় এরা।
অনেক কাঁদছি, অনেক। মাঝে মাঝে হিসেব করতে গেলেও গুলায় ফেলি।
আর এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ট্রিক; আপনাকে বছরের পর বছর ধরে স্বপ্ন দেখাবে, প্রত্যাশার পাহাড় গড়াবে, তারপর একদম তীরে গিয়ে তরী ডুবিয়ে দেবে।
আর আপনিও এই ভেবে খুশি হয়ে যাবেন, "যাক এবার আমরা অন্তত ভালো খেলে হারছি"
কিন্তু এই 'এবার' আর কতবার?
কখনো প্রশ্ন আসে? দেশের ক্রিকেটের আজ প্রায় ২-৩ যুগ কেটে গেলো, একেকজন প্লেয়ারের এভারেজ বেতন গড়ে ৫ লক্ষ টাকা দাঁড়ালো, অথচ প্রাপ্তির খাতায় কয়টা শিরোপা উঠেছে তা গুনতে গেলেই কলমের কালি ফুরিয়ে যায়।
এখন আর আমার যদিও খারাপ লাগে না। ক্রিকেট দেখা ছেড়েছি প্রায় দেড় বছর হতে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ফেইছবুকের ফ্রেন্ডদের মাধ্যমে খোঁজ খবর জানা হয়। এইটুকুই!
তবে আমার আসলে আমার খারাপ লাগে ছবির এই মানুষগুলোর জন্য। মরুভূমিতে পানি পেয়েছে ভেবে যারা প্রতি ম্যাচে এভাবে কোন না কোন একটা টঙের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। অথচ দিনশেষে দেশের কাছ থেকে হতাশা ছাড়া আর কিছুই নিয়ে ফিরতে পারে না ঘরে। এইতো বছরখানেক আগে, আমিও এমনই ছিলাম।