14/04/2014
বাংলা বর্ষবরণের বৈশাখী উৎসব ও মেলার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের রয়েছে ২৩৭ বছরের প্রামাণ্য ইতিহাস। শহরের দেওভোগের শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ার মেলা হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণের সবচেয়ে পুরোনো মেলা। দেওভোগ আখড়ার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ শহরে বৈশাখী মেলার ইতিহাস।
১৭৭৬ সালের ঘটনা। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাসঘাতক সভাসদ ছিলেন জগৎ শেঠ। জগৎ শেঠের ঢাকা শাখার ম্যানেজার ছিলেন জনৈক বিখনলাল পা-ে। ওই সময়ে একটি গুজবের খবরে ইংরেজরা ঢাকা ছেড়ে কোলকাতায় পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ফেলে রেখে যায়। বিশ্বস্ত বিখনলাল পা-ে তাদের সম্পদ লুকিয়ে রেখেছিল ঢাকার লালবাগ কেল্লায়। ইংরেজরা ফিরে আসার পর সে তাদের সম্পদ তাদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিল। এতে ইংরেজরা খুশি হয়ে বিখনলাল পা-েকে বিশ্বস্ততার পুরস্কার দিতে চায়। তখন ধর্মপরায়ণ বিখনলাল পা-ে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় একটি লক্ষ্মী নারায়ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া। এই আখড়ার আশেপাশের জমি লক্ষ্মী নারায়ণের নামে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে বরাদ্দ দেয় ইংরেজ সরকার। এই আখড়া প্রতিষ্ঠার পর এর খরচ নির্বাহের জন্য তৎকালীন খিদিরপুর (বর্তমান নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদি জেলা) ও লক্ষ্মীবাজার পরগনার জমিদারি বিখনলাল পা-েকে দেয়া হয়। শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ার নাম থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলার নামকরণ হয়েছে।
এই আখড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৭৭৭ সালে হিন্দু ব্যবসায়ীরা তাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখে আখড়ার ঠাকুরের চরণ ছুঁয়ে হালখাতা খুলতো। এই হালখাতা খোলার সাথে জড়িত ছিল মেলার শুরু পর্ব। এর পর প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে শুরু হত মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা। সুদীর্ঘ ২৩৭ বছর যাবৎ এ বৈশাখী মেলা টিকে আছে। এখনও এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৬৪ সালের ১২ মার্চ শুক্রবার মূলত সাহিত্য চর্চার জন্য নারায়ণগঞ্জে গড়ে তোলা হয় সাহিত্য সংগঠন ‘সাহিত্য বিতান’। সংগঠনটির ব্যানারে সর্বপ্রথম নারায়ণগঞ্জ শহরে বাংলা বর্ষবরণ শুরু হয়। এই সাহিত্য সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তোলারাম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নাট্যকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া এ সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন লেখক শাহেদ আলী মজনু, প্রয়াত ছড়াকার মোঃ আবদুল মান্নান, কবি আমজাদ হোসেন, সেলিম সারোয়ার, কবি বুলবুল চৌধুরী, মোঃ শাহজাহান, মোঃ নূরউদ্দিন, লেখক অধ্যাপক করুণাময় গোস্বামী, শাহীন আমজাদ, মমতাজ আহম্মেদ, ইকরাম হোসেন রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট কফিলউদ্দিন প্রমুখ।
১৯৭৬ সাল থেকে পলাশ সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ষবরণ উৎসব পালন শুরু করে। তখন বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের আয়োজন করা হত। ১৯৮১ সালে সাহিত্য বিতান, শাপলা সাংস্কৃতিক সংগঠন, পলাশ সাংস্কৃতিক সংগঠন, ডেফোডিল এবং দারুচিনি এই পাঁচটি সংগঠন একত্রিত হয়ে সম্মিলিতভাবে বাংলা বর্ষবরণ পালন করে। ১৯৮২ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে বাংলা বর্ষবরণ শুরু হয় Ñ যা এখন পর্যন্ত চলে আসছে
- See more at: http://dundeebarta.com/news/index.php?option=com_content&view=article&id=7218:2014-04-13-19-15-46&catid=5:2012-03-24-19-57-47&Itemid=3 .bLXvm2QX.dpuf