12/10/2024
প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রিকেট কোচদের জন্য সিলেবাস: সময়ের দাবি
বয়স ভিত্তিক অনূর্ধ্ব ১৪,১৬ও ১৮ ক্রিকেটারদের প্রাক-বাছাই অনুষ্ঠিত হচ্ছে সারা দেশ জুড়ে। বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রতিভার অভাব নেই, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। এইসব অঞ্চলে অনেক খুদে ক্রিকেটার নিজেদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিতে চায়। তবে তাদের সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সঠিক প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শের অভাব। বেশিরভাগ প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী কোচরা , বড় ভাই, যাদের নিজস্ব দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ সীমিত, শুধু ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে (হয়তো সামান্য কিছু পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন) কাজ করে যান। তাদের হাত ধরেই ক্রিকেটারদের ক্রিকেটে প্রবেশের যাত্রা শুরু হয়।
এই কোচদের পক্ষে সঠিকভাবে খেলোয়াড়দের গড়ে তোলা তখনই সম্ভব, যখন তাদের জন্য একটি সঠিক প্রশিক্ষণ সিলেবাস থাকবে। বিসিবি এবং অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাগুলো এই ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারে।
চ্যালেঞ্জ / সমস্যা যেখানে-
( বিকেএসপি এবং কয়েকজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোচ ছাড়া,) অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোচই জানেন না কীভাবে সঠিক কৌশল শেখাতে হয়। এতে করে অনেক খেলোয়াড় শারীরিকভাবে প্রতিভাবান হলেও, কৌশলগত ও প্রয়োগিক দক্ষতার অভাবে উচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়। এই সমস্যার সমাধানে একটি কমন সিলেবাসের প্রয়োজন, যা দেশের সব কোচকে একসাথে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে পারে।
# একটি মানসম্মত সিলেবাসের প্রয়োজনীয়তা- প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোচ এবং অভিভাবকদের জন্য একটি সাধারণ সিলেবাস থাকা অপরিহার্য, যা দেশের সব ক্রিকেট প্রশিক্ষক অনুসরণ করতে পারে। এই সিলেবাসের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের বয়সভিত্তিক দক্ষতার উন্নয়ন, টেকনিক্যাল এবং ট্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ, এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা যাবে। এটি কোচদের একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেবে, যা অনুসরণ করে তারা খেলোয়াড়দের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে।
# # কোচ ও অভিভাবকের দূরত্ব কমানো -
একজন অভিভাবক জানা উচিত কোচ তার সন্তানকে কি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেকেই প্রয়োগিক দক্ষতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকে, কারণ ছোটবেলা থেকেই তারা সঠিক গাইডলাইন পায় না। ১০-১২ বছর বয়সে কি প্রশিক্ষণ দরকার, আবার অনূর্ধ্ব ১৪ বা অনূর্ধ্ব ১৬ বছরের খেলোয়াড়দের জন্য কি দক্ষতা প্রয়োজন এক্ষেত্রে, একটি সাধারণ সিলেবাস কোচদের খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে সাহায্য করবে। এতে খুদে ক্রিকেটাররা ছোটবেলা থেকেই টেকনিক এবং কৌশলগত দক্ষতায় পারদর্শী হয়ে উঠবে এবং অভিভাবক ও জানতে পারবে তার সন্তান সঠিক রাস্তায় আছে কিনা।
# # # বিসিবির ভূমিকা-
বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এই সিলেবাস তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোচদের জন্য ট্রেনিং কর্মশালা আয়োজন করা, সিলেবাসের মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা বিসিবির একটি দায়িত্ব হতে পারে। এতে করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের খেলোয়াড়-ই সমান সুযোগ হয়তো পাবেনা, তবুও জানতে পারবে যে , তার কি করা উচিত, সে কতটুকু করতে পারছে, কোন কোন দিকে পিছিয়ে আছে, নিজেদের দক্ষতা বিকাশে তার আর কি পদক্ষেপ গ্রহণ উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, স্বেচ্ছাসেবী কোচদের সহায়তায় অনেক খেলোয়াড় তাদের ক্রিকেট জীবনের শুরু করে, কিন্তু সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর আগেই পিছিয়ে পড়ে। এজন্য একটি মানসম্মত সিলেবাস তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর কোচ এবং অভিভাবকরা অনুসরণ করতে পারে। বিসিবি এবং অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত এবং এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করা উচিত যা সারাদেশের কোচদের জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। এভাবে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক প্রতিভা উঠে আসবে, এবং তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
-শেখ মেহেদী হাসান
12/10/24