24/09/2024
আমাকে জান্নাতে না পেলে যে খুঁজবে.. ...
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়কার স্মৃতিচারণ করবে। তখন তাঁদের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে।
তাঁরা ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছি না। সে কোথায়? বলা হবে, সে তো জাহান্নামে। ফেরেশতাদের কথা শুনে সেই মু'মিন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে বলবে, হে আমার রব! আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছে না।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহুয়া তা'আলা আদেশ করবেন অমুক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে।"
তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেলো এই কারণে নয় যে সে রাতভর ইবাদাত করতো, কিংবা কুরআন পড়তো, কিংবা বেশি বেশি সাদাকাহ করতো, কিংবা দিনের পর দিন রোজা রাখতো। বরং সে মুক্তি পেলো কেবল এই কারণে যে, তার বন্ধু তাকে স্মরণ করেছে। তাঁর জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে আজ তাঁকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হলো!
জাহান্নামিরা তখন অবাক হয়ে জানতে চাইবে, কী কারণে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হলো?
তার বাবা কি শহিদ?
তার ভাই কি শহিদ?
তার জন্য কি কোনো নবী বা ফেরেশতা সুপারিশ করেছেন?
বলা হবে, না, বরং দুনিয়াতে তাঁর যে নেককার বন্ধু ছিলো সেই বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে সুপারিশ করেছেন।
এই কথা শুনে জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে, হায়! আজ আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী নেই। হায়! আজ আমাদের এমন কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই।
এরপর তিনি এই আয়াত দু'টি তিলাওয়াত করেন,
فَمَا لَنَا مِن شَـٰفِعِینَ
وَلَا صَدِیقٍ حَمِیمࣲ
"আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই।
আর কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।" [সূরা আশ শু'আরা, আয়াত : ১০০-১০১]
এই ঘটনা উল্লেখের পর ইমাম হাসান আল বসরী রহমতুল্লাহি 'আলাইহি বলেন, অতএব, তোমরা নেক লোকদের সাহচর্য বেশি বেশি অবলম্বন করো। তাদের ভালোবাসো, যাতে কিয়ামতের কোনো ঘাটে আটকে গেলে তারা তোমাকে ছাড়িয়ে আনতে পারেন। [তাফসীরে বাগাভী; সূরা শু'আরা, আয়াত নাম্বারঃ ১০০-১০১]
আমাকে জান্নাতে না পেলে যে খুঁজবে, এমন ব্যক্তিকেই বন্ধু বানানো উচিৎ.. ...