18/08/2026
আজকের পরিচিতি | এক প্রিয় প্রবাসীর অনুপ্রেরণার গল্প
আসসালামু আলাইকুম।
আজ আমরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি একজন সম্মানিত প্রবাসী বাংলাদেশি, সফল পেশাজীবী, ক্রীড়াপ্রেমী, ক্রিকেট সংগঠক এবং অনুকরণীয় ব্যক্তি
জনাব আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা কুমিল্লার সন্তান আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাতারে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কর্মজীবন পরিচালনার পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
কর্ম, নেতৃত্ব এবং খেলাধুলার প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে একজন শ্রদ্ধেয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
কুমিল্লা থেকে কাতার এক দীর্ঘ পথচলা
১৯৮৮ সালে কাতারে পাড়ি জমান আমিনুল ইসলাম। প্রবাসজীবনের শুরু থেকেই নিজের কর্মক্ষেত্রে সততা, দায়িত্ববোধ ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি আল মানা গ্রুপের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
তাঁর শিক্ষাজীবনের শিকড়ও কুমিল্লার মাটিতে। কুমিল্লা হাই স্কুল, এইচএসসি কুমিল্লা কলেজ এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে মাস্টার্স শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন।
কর্মজীবনের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন পরিচয়ের পথে।
ক্রিকেটই যেখানে ভালোবাসার আরেক নাম
ক্রিকেটের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
একজন ডানহাতি ওপেনার হিসেবে তিনি মাঠে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
কুমিল্লার রেনবো ক্রিকেট ক্লাব, কুমিল্লা ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেট ক্লাব এবং কাতারের আল মানা গ্রুপ ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ক্রিকেট পথচলা জড়িয়ে আছে।
তবে সময়ের সঙ্গে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটার হয়ে থাকেননি। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁকে একজন সংগঠক, পরামর্শদাতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের অভিভাবকের ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।
কাতার ক্রিকেটে বিশেষ ভূমিকা
কাতার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আমিনুল ইসলাম।
কাতারের ক্রিকেট অঙ্গনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সফরে দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাতার ক্রিকেটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি নিজের
অভিজ্ঞতা ও সময় দিয়ে অবদান রেখে চলেছেন।
তাঁর অন্যতম বিশেষ পরিচয় হলো তিনি ICC অনুমোদিত কাতারের ম্যাচ অফিসিয়াল।
আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রিকেটকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে BCF-Q-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্রিকেটের বাইরেও সাফল্যের গল্প
খেলাধুলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা শুধু ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়।
২০০৭–২০০৮ সালে All Qatar Open Badminton Championship-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি নিজের ক্রীড়া প্রতিভার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ব্যাডমিন্টনে তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে
🏆 ১ বার চ্যাম্পিয়ন
🥈 ২ বার রানার্সআপ
কাতারের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই অর্জনগুলো নিঃসন্দেহে গর্বের।
খেলোয়াড় তৈরির কারিগর
আমিনুল ইসলামের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো এখানেই।
তিনি শুধু নিজে খেলেননি; বরং অন্যদের খেলার সুযোগ তৈরি করেছেন। কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণদের মাঠমুখী করা, নতুন খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া এবং ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তিনি একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তাঁর বিশ্বাস, একটি ক্রিকেট ব্যাট বা ফুটবল শুধু খেলার সরঞ্জাম নয়
এগুলো একজন তরুণকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারে।
খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
মানুষ হিসেবে আমিনুল ইসলাম
পেশাগত ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও খেলাধুলার জন্য সময় বের করে নেওয়া সহজ নয়।
কিন্তু আমিনুল ইসলামের কাছে ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গন শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি করার একটি মাধ্যম।
তাঁর হাত ধরে অনেক তরুণ মাঠে এসেছে, অনেক নতুন খেলোয়াড় উৎসাহ পেয়েছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের এক সুন্দর বন্ধন।
প্রবাসে বাংলাদেশের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম
১৯৮৮ সালে যে মানুষটি কুমিল্লা থেকে কাতারে এসেছিলেন, আজ কয়েক দশক পর তিনি শুধু একজন সফল পেশাজীবী নন প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রীড়াঙ্গনেরও একজন পরিচিত মুখ।
কর্মক্ষেত্রে সফলতা, খেলাধুলায় অর্জন, সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধ—সব মিলিয়ে আমিনুল ইসলাম একজন অনুকরণীয় প্রবাসী বাংলাদেশি।
তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, প্রবাসে থেকেও নিজের দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করা যায়।
শেষকথা
জনাব আমিনুল ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ভবিষ্যতের আরও সাফল্য কামনা করছি।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর কল্যাণময় কাজগুলো কবুল করুন এবং ভবিষ্যতেও প্রবাসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আরও বেশি কাজ করার তৌফিক দান করুন।
প্রবাসের মাটিতে থেকেও যারা নিজেদের কর্ম, সততা ও অবদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেন, আমিনুল ইসলাম তাঁদেরই একজন।
তাঁর প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা