05/08/2026
এক নদীর ধারে ছোট্ট একটা গ্রাম ছিল। গ্রামের ঠিক শেষ মাথায় ছিল বিশাল এক পুরনো বকুল গাছ। সেই গাছে বাস করত একটা ছোট পাখি, নাম তার 'নীল'। নীলের ডানা দুটো ছিল একদম শান্ত নদীর জলের মতো নীল।
নীল খুব গান গাইতে ভালোবাসত। কিন্তু গ্রামের অন্য পাখি—কাক, চড়ুই, শালিকরা সারা দিন হুড়োহুড়ি আর কিচিরমিচির করে ব্যস্ত থাকত। তাদের এত তাড়া ছিল যে, কেউ থামত না, কেউ কারো কথা শুনত না। নীল যখনই সুর তুলে কোনো গান গাইতে যেত, চারপাশের এই ভিড় আর শোরগোলে তার গান হারিয়ে যেত। আস্তে আস্তে নীল গান গাওয়াই বন্ধ করে দিল। তার মনে হতো, এই ব্যস্ত দুনিয়ায় তার গান শোনার মতো কেউ নেই, সে একদম একা।
একদিন সন্ধ্যার ঠিক পর, পুরো গ্রাম যখন শান্ত হয়ে এলো, আকাশে মস্ত একটা রূপালী চাঁদ উঠল। চারপাশটা যেন হুট করেই খুব থমথমে আর নিঝুম হয়ে গেল। নীল গাছের ডালে চুপচাপ বসে দূরের নদীর দিকে তাকিয়ে ছিল।
ঠিক তখন, নদীর ওপার থেকে ভেসে এলো খুব নরম এক বাতাস। বাতাসে বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধ। বাতাসটা যেন নীলকে ফিসফিস করে বলল, "আজকে তো চারপাশ শান্ত, আজ কি তোমার গানটা আমাকে শোনাবে না?"
নীল আস্তে করে চোখ দুটো বন্ধ করল। আর কোনো দ্বিধা না রেখে, নিজের মনের সবটুকু আবেগ উজাড় করে একটা সুর তুলল। সেই সুর নদীর হালকা তরঙ্গের সাথে মিশে গেল, বকুল ফুলের সুবাসের সাথে বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগল। অদ্ভুত বিষয় হলো, নীলের গানের সুরে গাছের পাতাগুলো হালকা দোলা দিতে শুরু করল, আর রাতের জোনাকিরা এসে তার চারপাশে আলো জ্বালিয়ে নাচতে লাগল।
নীল সেদিন বুঝতে পারল, নিজের সুন্দর অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার জন্য হাজার মানুষের ভিড়ের দরকার হয় না। যখন চারপাশ শান্ত হয়ে আসে, তখন সবচেয়ে গভীর কথা আর সুন্দর সুরগুলো ঠিকই নিজের মতো করে তার জায়গা খুঁজে নেয়।
ADDA BAAZ GOLRI
$aju