09/05/2026
একটু ধৈর্য্য ধরে পড়বেন🙏
কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই পোস্ট দিচ্ছেন মেয়ে সন্তানকে যে কোন মার্শাল আর্ট শেখাতে।আর পরক্ষণেই সেই পোস্টে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন মূলত মহিলারাই, যে কেন সেল্ফ ডিফেন্স শিখতে লাগবে?কেন সমাজ পরিবর্তন হবে না।আগে নিজের ছেলেকে শেখান।
এই ধরণের ফাঁপা নারীবাদ আমাদের জন্য খুব বিপজ্জনক।সমাজ পরিবর্তনের বুলি শুনতে খুব ভালো লাগে,শয়ে শয়ে লাইক,প্রোফাইলের রিচও প্রচুর বাড়ে।কিন্তু খুব অবাস্তব কথা।আমাদের মত দেশে আজ আগুনজ্বালা ভাষণ দিলাম আর কালকেই আমায় ফলো করে সবাই বদলাতে শুরু করলো তা হয় না।জাস্ট হয় না।এই সমস্যার মূল অনেক গভীরে।সেগুলো সমাজবিদ্যার পড়ুয়াদের গবেষণার বিষয়। আমার মোটা বুদ্ধিতে বলে সমাজের কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ বদলানোর কথা ভাবতে পারেন হয়ত কিন্তু জাত ধর্ম বর্ণ এবং আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সং্খ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাইরে যাই বলুন না কেন নিজের বাড়িতে বদলানোর কথা ভাবেন না।খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত ছাপোষা গৃহবধূকেও দেখেছি বাড়ির ছেলেকে মানুষ হিসাবে তৈরি করতে আবার শিক্ষিত অতি আধুনিক(?) মানুষকেও দেখেছি নিজেকে উচ্চাসনে বসিয়ে পাশের জনকে অশ্রদ্ধার চোখে দেখতে।
এমন অবস্থায় কবে সমাজ বদলাবে তার অপেক্ষায় সেজেগুজে বসে না থেকে অবশ্যই সেল্ফ ডিফেন্স ক্লাসে ভর্তি হোন।শুধু মেয়ে না ছেলেরাও।কারণ যে মার্শাল আর্ট শিক্ষার একটা অংশ সেল্ফ ডিফেন্স, সেটা কেবল মারামারি নয়।ফোকাস, সেল্ফ কন্ট্রোল এবং সেল্ফ ডিফেন্স সবকটি দিককেই শেখানো হয় এবং মার্শাল আর্ট অন্যকে মারা জন্য নয় নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োগ করা হয়।হিন্দি সিনেমার মারামারির সঙ্গে অনেক অনেক তফাৎ।এটাও অনেকেই বলছেন একজনকে দশ জন আক্রমণ করলে সেল্ফ ডিফেন্স শিখে কি হবে?এটাও খুব বোকাবোকা অজ্ঞানতা।সঠিকভাবে শিখলে একজন মানুষ তার থেকে দৈহিক আকারে বড় সশক্ত একাধিক মানুষের মোকাবিলা করতে পারে।একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর মূল পার্থক্য তার দৈহিক গঠন এবং শক্তিতে।দৈহিক গঠন তো বদলাতে পারব না।শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা তো করতে পারি।যেকোনো শারীরিক কসরতের মাধ্যমে।কবে সমাজ বদলাবে হাতে হাত দিয়ে তার অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেকে বাঁচানোর প্রথম চেষ্টাটুকু না হয় নিজেই শুরু করি।