21/07/2025
ভারতবর্ষের হিন্দু সংস্কৃতিতে শ্রাবণ মাস এক বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ববাহী সময়। বাংলা ক্যালেন্ডারের পঞ্চম মাস শ্রাবণ, মূলত বর্ষার সময়। আকাশ মেঘে ঢাকা, নদী-নালা ভরা টইটম্বুর, প্রকৃতিতে এক অপূর্ব সৌন্দর্যের আবির্ভাব ঘটে। ঠিক এই সময়েই ভক্তদের মনে জাগে শিবভক্তির জোয়ার।
শ্রাবণ মাসকে বলা হয় শিবের প্রিয় মাস। এই মাস জুড়ে শিবের পূজায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। বিশেষ করে প্রতি সোমবার—যাকে বলা হয় ‘শ্রাবণ সোম’—শিবভক্তরা উপবাস করেন, গঙ্গাজল সংগ্রহ করে মহাদেবের মাথায় ঢালেন। এই জল ঢালাকে বলা হয় 'জলাভিষেক'। বিশ্বাস করা হয়, এই জল অর্পণের মাধ্যমে ভক্তরা পাপ মুক্ত হন এবং ঈশ্বরের কৃপা লাভ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ‘তারকেশ্বর’ নামটি উঠে আসে এক বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে। হুগলি জেলার তারকেশ্বর মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শিবতীর্থ। ‘তারকেশ্বরের বাবা তারকনাথ’ নামে পরিচিত এই শিবলিঙ্গে শ্রাবণ মাসে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগমে তীর্থধাম পরিণত হয়। বহু মানুষ মাথায় করে গঙ্গাজল নিয়ে হেঁটে আসেন হুগলির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে—যাদের বলা হয় ‘কাঁওড়িয়া’ বা ‘জলদাতা ভক্ত’। তারা দিনের পর দিন হাঁটে, পথে রাত্রিযাপন করে, শুধুমাত্র তারকেশ্বর মন্দিরে পৌঁছে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ ধ্বনিতে বাবার মাথায় জল ঢালবেন বলে।
তারকেশ্বর শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি এক আবেগ, এক বিশ্বাস। শিবকে উৎসর্গ করা এই প্রেম, ত্যাগ ও নিষ্ঠার মূর্ত রূপ দেখতে পাওয়া যায় শ্রাবণ মাসে। জল ঢালার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা প্রার্থনা করেন পরিবারে শান্তি, রোগমুক্তি, আর জীবনের সকল বাধা দূর হোক।
শেষকথা, শ্রাবণ মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে ঈশ্বরের, আর ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের অপূর্ব সংযোগের কথা। আর তারকেশ্বরের বাবার মাথায় একফোঁটা গঙ্গাজল ঢেলে যেন আমরা সেই সংযোগকে অনুভব করি আরও গভীরভাবে।