ভূপেন্দ্রনাথের ঝাড়বাতিটা

  • Home
  • India
  • Burdwan
  • ভূপেন্দ্রনাথের ঝাড়বাতিটা

ভূপেন্দ্রনাথের ঝাড়বাতিটা কলমের আঁচড়ে জীবন্ত হোক ক্রীড়াজগতের মহানায়কেরা

ফেরান্দো খুঁজছিলেন এমন একজনকে যাকে আনলে আপফ্রন্ট ফ্লেক্সিবল থাকে।রয়কে দিয়ে হচ্ছিলোনা।আনলেন পেত্রাতোসকে।আদতে যিনি ফলস নাই...
20/05/2026

ফেরান্দো খুঁজছিলেন এমন একজনকে যাকে আনলে আপফ্রন্ট ফ্লেক্সিবল থাকে।রয়কে দিয়ে হচ্ছিলোনা।আনলেন পেত্রাতোসকে।আদতে যিনি ফলস নাইন।বুমোর সাথে জুড়ে দিলেন পেত্রাকে।শুরুতেই হিট।কেরালা ম্যাচে হ্যাট্রিক।তারপর ওইবছর আইএসএল ট্রফি জয়।সৌজন্যে ফাইনালে দিমির জোড়াগোল।ভুরিভুরি গোল করেছিলেন সেবার।পরের আই এস এলে হাবাস এলেন।বুমো সরলেন।কামিন্সরা এলেন।সেখানেও হিট পেত্রাতোস।শুধু হিট-ই না,হাবাস-পেত্রা-কাউকোর জন্যেই কার্যত শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। ফিরতি বছরে মোলিনা এলেন।আনলেন স্টুয়ার্টকে।দিমির ফর্ম পড়তি।তবুও ক্লাচ ম্যাচে ক্লাচ প্লেয়ার হয়ে ক্লাবকে শিল্ড জেতালেন সেই পেত্রাতোস। এ তো শুধু আই এস এলের গল্প।ডুরান্ড ফাইনালে ন জনের মোহনবাগানকে টেনে তুলে ডার্বি জেতালেন সেই পেত্রাতোস,সাথে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন। চার বছরে আই এস এল লিগ,শিল্ড,ডুরান্ড সব জিতেছেন পেত্রাতোস।শুধু জেতেনই-নি,কার্যত জিতিয়েছেন।তথ্য সেটাই বলছে।আই এস এল ট্রফি জেতার মরশুমে ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ দিমি,সাথে লিগে এগারো গোল।আই এস এল শিল্ড জেতার প্রথম বছরে দিমি গোল্ডেন বল বিজয়ী।শিল্ড জেতার দ্বিতীয় বছরে নির্ধারক ম্যাচে একমাত্র গোল ও সম্ভবত ম্যান অফ দ্য ম্যাচ সেই দিমিই।ডুরান্ডেও যেবার চ্যাম্পিয়ন হলাম ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ দিমি পেত্রাতোস।

একনাগাড়ে অনেকটা বলে ফেললাম।তথ্যে ভুল থাকতে পারে কিন্তু মোহনবাগানে দিমির ইম্প্যাক্ট বর্ণণায় নেই।এহেন দিমিযুগের অবসান হচ্ছে কাল।ব্যারেটো-ওডাফা-সোনির পর দিমি পেত্রাতোস। ট্রফি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন ক্লাবকে। আজ দেখলাম প্র‍্যাক্টিস শেষে আস্তে আস্তে মাঠ ছাড়ছেন দিমি।এই প্রথম হয়তো ইম্প্যাক্টলেস বছর কাটলো তার।কাল ভক্তদের কোল না পেয়েই হয়তো বিদায় নেবেন।তবু দিমিযুগ মোহনবাগানের সোনালী অধ্যায়।ওডাফা-সোনির পর এমন এক চরিত্র যার চুড়ান্ত অফ ফর্মেও নব্বই মিনিটের পর মোহনজনতা চেয়ে থাকে তার দিকে,কিছু একটা করবে বলে।

যেতে হয় সবাইকেই;একদিন।আর ময়দানে তো কোনোকিছুই স্ট্যাটিক নয়।তবে আমরা মনে রাখবো কাদাপাড়ার একগুচ্ছ শিশুকে নিয়ে স্ট্রিট ফুটবলে মেতে ওঠা কোনো এক ফুটবল মাফিয়া একদা মাসিহা হয়ে উঠেছিলো আমাদের;ট্রফিতে ভরিয়ে দিতো,প্রতিপক্ষের চোখ উপরে নিতো।আমরা তাকে দিমিগড বলে ডাকতাম।

কলমে~যীশু নন্দী

পুরাতন পল্লী থেকে --সন্ধ্যে নামার ঠিক আগে।ক্লান্ত জাহিরেরা ফিরে যাচ্ছেন ড্রেসিংরুমে।জাহিরের সবুজাভ চোখ,দেখলেই জ্বলজ্বল ক...
20/05/2026

পুরাতন পল্লী থেকে --

সন্ধ্যে নামার ঠিক আগে।ক্লান্ত জাহিরেরা ফিরে যাচ্ছেন ড্রেসিংরুমে।জাহিরের সবুজাভ চোখ,দেখলেই জ্বলজ্বল করে।ঝাঁকড়া চুল থেকে সাদা সাহারা জার্সিতে ঝরে পড়ছে ঘাম।এমনই প্রাকসন্ধ্যায় আমরাও ফিরছি বাড়ি,জাহিরদের মতোই।হাতে বাঁশকাটা ব্যাট।খড়ের উইকেট সরিয়ে রাখা হয়েছে মড়াইয়ে।সারাদিন স্কুলের ফাঁকে পাকিস্তান ম্যাচের তরজা চলেছে।মোহালির মাঠ।মার্চের দুপুর।ভারত এই জেতে তো সেই জেতে।নাহ,ভারত জেতেনি।কামরান আকমল মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিলো।সাথে রাজ্জাকও।কুম্বলে-বালাজি-জাহির-ভাজ্জি-পাঠানে মুখর ক্লাসরুম।কিশলয় বইয়ের 'তালগাছ' কবিতা ফিকে হয়ে যায় তাতে।এক পায়ে দাঁড়িয়ে তখন কামরান আকমল। স্কুল শেষ হলেই বিকালের বকুলতলা।তারপর কতগুলো বল যে বকুলগাছের ডালে লেগে বাউন্ডারি খুঁজে পেলোনা!ভারত জিতলে ভালো হতো বেশ।তবে পরের ম্যাচ ইডেনে।জিতবে বই কি।এই বলে শেষ বল খেলেই বাড়ি ফেরা হলো।সন্ধ্যা নামার আগে।জাহিরদের মতোই।লন্ঠনের আলোয় দুহাত মেলে বসে আছে 'কিশলয়'।কবি নজরুলের 'একই বৃন্তে দুটি কুসুম' পড়ছেনা কেউ।মনের মাঝে উত্তাল শুধু সৌরভ,শচীন,দ্রাবিড়, কুম্বলে,জাহির,ইনজামাম,আফ্রিদি।রাত বাড়তে মুছে গেলো তারা একে একে।কারণ পরের দিনই স্কুল;আবার।মাস্টারমশাইয়ের কানমোলা শুনবেনা কোনো জাহিরদের হয়রানি হবার গল্প।পাঠ চুকিয়ে ঘুমোতে গেলাম।উঠলাম যখন, তখন দেখলাম কেমন যেন সব নতুন। জাহির -আফ্রিদিরা আর নেই।উবে গেছে মড়াইয়ের কোণে লুকিয়ে রাখা বাঁশের ব্যাট,খড়ের উইকেট।স্কুলের ব্যাগটাও হারিয়ে গেছে,গতকালের টিফিনবক্সটা ছিলো তাতে।আয়নায় দেখলাম গোটা মুখে গজিয়েছে গোঁফ দাড়ি।বেলা বাড়ে।ক্লিনিক যাই।সন্ধ্যা নামার আগে মনের গভীরে উত্তাল হয়ে ওঠে বিকালের বকুলতলা;এখনও।জাহিরদের মতো বাড়ি ফেরা হয়না আর।একুশ বছর পেরিয়ে গেছে মাঝে।তবু ভরাট সন্ধ্যায় কোনো এক পুরাতন পল্লীতে জাহিরের ইনস্যুইংগার ছিটকে দেয় আফ্রিদির স্টাম্প;এখনও। আর আমাদের ব্যাটপেটানো বলটা বকুলগাছের ডালে লেগে বাউন্ডারি খুঁজে পায়না;আবারও!

কলমে~যীশু নন্দী

ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেটের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি নিয়ে সংবাদপত্রে লিখলাম দুকথা।।। উত্তরবঙ্গ সংবাদ।।পড়ার জন্য রইলো লিঙ্ক -https:/...
22/02/2026

ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেটের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি নিয়ে সংবাদপত্রে লিখলাম দুকথা।
।। উত্তরবঙ্গ সংবাদ।।
পড়ার জন্য রইলো লিঙ্ক -https://uttarbangasambad.in/

Tamoghna Brahma কে ধন্যবাদ আমাকে লেখার সুযোগ দেবার জন্য

তবে হ্যাঁ এই লেখাটির সমস্ত স্ট্যাট -ক্রিকইনফো, হাউস্ট্যাট থেকে সংগৃহীত।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ।দক্ষিণ আফ্রিকান পিচে আমাদের যে ধরনের বোলিং কোয়ালিটি প্রয়োজন সেগুলি হলো নিম্নলিখিত :-১) পাওয়ারপ্...
04/12/2025

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ।দক্ষিণ আফ্রিকান পিচে আমাদের যে ধরনের বোলিং কোয়ালিটি প্রয়োজন সেগুলি হলো নিম্নলিখিত :-

১) পাওয়ারপ্লে স্যুইং বোলার।এই জন্য সিরাজ-বুমরা রয়েছে।অর্শদীপ থাকবেন বামহাতি হওয়ায়

২) মিডল ফেজ হিট দ্য ডেক।উদাহরণ -প্রসিধ,হর্ষিত।

৩) হাই আর্ম রিলিজ হিট দ্য ডেক।ভারতের অন্যতম উদাহরণ প্রসিধ কৃষ্ণা।

৪)উবল সিম স্পেশালিষ্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে উবল সিম প্রচণ্ড এফেক্টিভ।ওদের নরখিয়ে খুব ভালো উবল ফেলে।আমাদের উবল সিম স্পেশালিস্ট মহম্মদ সিরাজ।

৫) ব্যক অফ দ্য লেন্থ বোলার। হার্দিক পাণ্ডিয়া উল্লেখযোগ্য। সাথে হর্ষিত,প্রসিধও গ্রুমড হবে।

৬) ডেথ বোলার,স্লোয়ার,স্লো বাউন্সার।অর্শদীপ,বুমরাহ,হর্ষিত।

সুতরাং ভারতের সম্ভাব্য বোলিং ব্রিগেডে বুমরাহর নেতৃত্বে প্রসিধ,সিরাজ,অর্শদীপ,হর্ষিত,পান্ডিয়া এরাই পোটেনশিয়াল ব্রিগেড।এর সাথে মুকেশকে গ্রুম করা যেতে পারে কিন্তু ওর স্পিড কম,দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রাউন্ডও ছোটো।

গাম্ভীর যে বোলারদের নারচার করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ লক্ষ্য করে ওখানকার কন্ডিশন অনুযায়ী ঠিকই আছে।নখদাঁত বার না করে লজিকালি ভাবলে ব্যাপারটা এটাই দাঁড়াই।আগামী আই পি এল থেকে আমরা আরও কিছু হিট দ্য ডেক বোলার পেতে পারি।ওরাও সুযোগ পাবে। গাম্ভীর ভুলটা কি করছেন?

সিরাজের একটা উবল সিম লেংথ বল আরেকটা টিল্টেড সিম ইয়র্ক পরপর উইকেট ছিটকে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকার।ওপ্রান্তে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন ...
16/11/2025

সিরাজের একটা উবল সিম লেংথ বল আরেকটা টিল্টেড সিম ইয়র্ক পরপর উইকেট ছিটকে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকার।ওপ্রান্তে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন বাভুমা।ব্যাট হাতে এতক্ষণ তিনি যতবার বলের লালদাগ মলিন করেছেন, ততবার মলিন হয়েছে আন্তর্জাতিক খেলদুনিয়ার বহুচর্চিত বর্ণবাদ,দৈহিক কটুক্তি।বাভুমার সিংহহৃদয়ের পরিধি জানা নেই।এতোবছর ধরে তাঁকে বলের চেয়ে বেশী বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে হয়েছে।কিন্তু হয়তো আমরাই ভুলে গেছি দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্টের সিংহাসন পাইয়ে দেওয়া কাঁধ ঠিক কতোটা চওড়া।বাভুমা স্ট্রাইকের ওপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অল আউট।অসম লড়াইয়ে ইতি পড়লো।বাভুমার মনে নেই বছর পনেরো আগে এই ইডেনেই তাঁরই অগ্রজ এভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।লম্বা দাড়ির সেই ব্যাটার এমনই এক অসম লড়াইয়ে বাঁচাতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ভারত জিতেছিলো।পেয়েছিলো প্রথমবারের জন্য টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থান।ইডেন স্ট্যান্ডিং ওবেশন দিয়েছিলো;ধোনির ভারতকে নয়; লম্বা দাড়ির সেই সাউথ আফ্রিকান ব্যাটারকে।লেখালেখি হয়েছিলো ইডেনদর্শকের উচ্চরুচিকে নিয়ে।

খেলা এখনও শেষ হয়নি।শক্ত পিচ আর তার চেয়েও শক্ত দুনিয়ায় বাভুমা লড়াই ছড়িয়ে দিলেন।পিচের খেলার ফল যাই হোকনা কেনো,দুনিয়ার বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে ইডেন আজ আরেকবার দক্ষিণ আফ্রিকান কোনো ব্যাটারকে দণ্ডায়মান অভিবাদন জানাবে কি?

কি জানি, এই কিছুকাল আগেই মহিলা বিশ্বকাপে ভারতের অধিকপক্ক নেতা-মন্ত্রীর লিঙ্গবৈষম্যমূলক এবং বর্তমানকালে ক্রিকেটারদের দৈহিকবৈষম্যমূলক মন্তব্যের প্রায়শ্চিত্ত যদি এতে হয়!

কলমে~যীশু নন্দী

একসাথে...❤️হরমনপ্রীত জড়িয়ে ধরেছেন স্মৃতিকে।কাঁদছেন।নাক লাল।দু হাতে দুটো ব্যান্ডেড টেপ।নবি মুম্বই রাত জেগেও ক্লান্ত নয়।এক...
02/11/2025

একসাথে...❤️

হরমনপ্রীত জড়িয়ে ধরেছেন স্মৃতিকে।কাঁদছেন।নাক লাল।দু হাতে দুটো ব্যান্ডেড টেপ।নবি মুম্বই রাত জেগেও ক্লান্ত নয়।এক লক্ষ ভারতীয় একসাথে গাইছে বন্দেমাতরম। ভারত বিশ্বজয়ী।ঝুলন,মিতালী,আঞ্জম প্রত্যেকের চোখে জল।প্রমিলাবাহিনী শুধু নিজেরাই ট্রফি তুলে ক্ষান্ত নয়। ডেকে নিচ্ছে একে একে অতীত শরিকদের।এ ট্রফি তাদেরও। নিজেকে সামলাতে না পেরে ঝুলন তখন অঝোরে কেঁদে চলেছেন স্মৃতিকে জড়িয়ে। প্রতীকা রাওয়াল হুইলচেয়ারে বসে মেখে নিচ্ছে বিশ্বজয়ীর আঁচ।টেলিকাস্ট চ্যানেলে একই ফ্রেমে দেখানো হচ্ছে ১৯৮৩,২০১১ আর ২০২৫ এর বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত...একসাথে।সত্যি এই 'একসাথে'র জন্যেই কতোটা লড়াই লড়তে হলো একসাথে হয়ে।ঝুলনের মতো প্রাক্তন একসাথে হয়ে যায় শেফালীর মতো নবীনের সাথে।রোহিতের স্বপ্নীল চোখ একসাথে হয়ে যায় মাঠের এগারোজনের সাথে।গ্যালারির নারী-পুরুষ একসাথে।বিশ্বকাপ জিতলো ভারত।ভারতের ক্রিকেট ইকোনমিতে আসতে চলেছে বড়োসরো পরিবর্তন।মহিলা আইপিএলে দল বাড়বে।ভারতের মহিলা ক্রিকেটারের চাহিদা বাড়বে উইমেন্স বিগব্যাশ কিংবা উইমেন্স হান্ড্রেডস টুর্নামেন্টে।স্পনশরশিপ আছড়ে পড়বে জেমাইমা বা শেফালিদের আঙিনায়।আজকের পর থেকে স্মৃতির সাথে আরও একঝাঁক মুখ হয়ে উঠবে ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টারগার্ল।জুনিয়র লেবেলে মহিলা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজকর্ম বাড়বে।এতোকিছু হতে চলেছে নিকট ভবিষ্যতে।বড়োসরো পরিবর্তন আসতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট অর্থনীতিতে। কিন্তু শেফালি,জেমাইমাদের শৈত্য উঠোনে একসাথেপনার যে মেঠো রোদ ঢুকে পড়লো যাতে উত্তাপ নিলাম আমি,আপনি,আপনারা সেটাই কি সবচেয়ে বড়ো পরিবর্তন নয়?

এই পরিবর্তনটার জন্য একটা শিরোপার যে বড্ডো দরকার ছিলো...বড্ডো দরকার।ভারত কি শুধু বিশ্বকাপটাই জিতলো...নাকি আরও অনেক কিছু?

কলমে~যীশু নন্দী
সহযোগীতায়~দেবদত্তা মুখার্জি

ম্যাকগ্রা শচীনকে তুলে নিতে কতো টিভি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।স্মৃতি আউট হতে কতো ল্যাপটপ শাটডাউন হয়ে গিয়েছিলো।তবু কিছুজন থাকে,জা...
30/10/2025

ম্যাকগ্রা শচীনকে তুলে নিতে কতো টিভি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।স্মৃতি আউট হতে কতো ল্যাপটপ শাটডাউন হয়ে গিয়েছিলো।তবু কিছুজন থাকে,জার্সি ময়লা করেও ময়লা হতে দেয়না একটা দেশের পরিধান।১১' এর গাম্ভীরের মতো,২৫' এর জেমাইমার মতো। জনৈক বা জনৈকা কমেন্টেটর বলে উঠলেন—"to beat Australia, think like Australia"।প্রতিকূলতম পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটা সত্তা যখন চরিত্র হয়ে ওঠে, তখন অস্ট্রেলিয়াও ভাঙে বইকি।হিলি তাই তো ক্যাচ ফেলে, স্কুট নো বল করে,ম্যাকগ্রা আরেকবার সুযোগ করে দেয় জেমাইমাকে।০৩' ফাইনালে জাহির-শ্রীনাথের ছায়া যখন মনে করাচ্ছে আজ,ঠিক তখনই শ্রীচারাণি রাশ টেনে ধরে,উইকেট পড়ে, আচম্বিতে রানআউটও হয়।ভারতের সবচেয়ে বড়ো কৃতিত্ব এটাই যে আজকে ভারত ম্যাচ থেকে হারাতে গিয়েও হারিয়ে যায়নি।তাই তো ধোনি-গম্ভীরের ছায়ামাখা একটা পার্টনারশিপ মায়ের আঁচলের মতো বিছিয়ে দেন হরমনপ্রীত-জেমাইমা।তাই তো আস্কিং রেট যখন বাড়বো বাড়বো করছে ঠিক তখনই কুইক নক খেলেন রিচা ঘোষ।তাই তো লোয়ার অর্ডার চোক করবে যখন ভেবে নিচ্ছি ঠিক তখনই আমনজ্যোত কউর বের করে নেন জোড়া বাউন্ডারি।সুমন গেয়েছিলেন—"একটুর জন্যে কতকিছু হয় নি"। কিন্তু আপাতত আজ,একটু একটু করে ভারত ছিনিয়ে নিলো নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়ানডেবিজয়। জোহানেসবার্গের সচিন-সৌরভ কিংবা আহমেদাবাদের রোহিত-কোহলির আজকের নিদ্রা সুখময় হোক।কারণ ভারত '০৩ আর '২৩ এর বদলা নিয়ে নিয়েছে;মেয়েদের হাত ধরেই।

ক্রিকেট এক অদ্ভুত কাটাকুটি খেলা।বিন্দু বিন্দু বল লাইন টেনে দেয় বিজিত আর পরাজিতের মাঝে।ম্যাচ শেষ হবার আগেই হরমনপ্রীতের ভেজা চোখ কিংবা ম্যাচ শেষ হবার পর জেমাইমার চোখের অঝোর বর্ষা বুঝিয়ে দেয় ঠিক কতোটা পথ তাদের পেরোতে হলো জয়ীর গন্ধ গায়ে মাখতে।

নবি মুম্বইয়ের রাত, বিন্দু বিন্দু আলো জ্বলে ওঠা স্টেডিয়াম,বেজে ওঠা 'বন্দেমাতরম' এসবকিছুকে সরিয়ে হরমনপ্রীতদের চোখভরা রজতধারা আপাতত প্রধান শরিক হয়ে থাকলো ভারতের এই ঐতিহাসিক অর্জনের; স্মৃতিসৌধের মতো যাকে প্রতিবছর অন্তত একবার পুজো করা উচিত।

কলমে-যীশু নন্দী

এক চিলতে ওডাফা..."ডেম্পোকে হারাতে গেলে ব্যারেটোকে ফিট হতে হবে"-এক নিকটাত্মীয়ের মুখে কথাটা শুনে চেগে গেলাম।সত্যিই,সুব্রত ...
28/10/2025

এক চিলতে ওডাফা...

"ডেম্পোকে হারাতে গেলে ব্যারেটোকে ফিট হতে হবে"-এক নিকটাত্মীয়ের মুখে কথাটা শুনে চেগে গেলাম।সত্যিই,সুব্রত ভটচায্যি যেভাবে মাঝপথে হাল ধরে টিমকে ফিরিয়ে নিয়ে এলো তা অবিশ্বাস্য। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ডেম্পোকে হারাতেই হবে।সীমিত সাধ্যের মাথাভারি টিম আমাদের।তাও কিংশুক-আনোয়ার-সুরকুমারদের নিয়ে ডিফেন্সকে দাঁড় করিয়েছেন সুব্রত।কিন্তু লাগামছাড়া ডেম্পোকে মারতে ফিট ব্যারেটোকে চাই।শেষ বছরে বুড়ো ব্যারেটো একবার ছোবল মারবে বইকি।

এপ্রিলের গরম।বোধহয় রোববার।মাংসভাত সাঁটিয়ে কোলকাতা দিনদুপুরে চ্যানেল ঘুরিয়ে ধরে নিচ্ছে মোহনবাগান -ডেম্পো ম্যাচ।সাল ২০১২। গ্ল্যামারলিগ আসেনি।ডেম্পোর সোনার টিম।লিগের ফার্স্ট বয়।মোহনবাগান বোধহয় দু নম্বরে ছিলো।ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টিতে র‍্যান্টি এগিয়ে দেয় ডেম্পোকে। কিছুসময় পরে মোহনবাগান পেনাল্টি পায়।কিন্তু স্বয়ং ওডাফা মিস করেন।স্টেডিয়ামের প্রচুর দর্শকের মাথায় হাত।ধরে নিচ্ছি ম্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ধরলেও ওডাফা-ব্যারেটো ধরেননি।দুরন্ত ডজে ডিফেন্স টপকে ওডাফার প্রথম ছোবল।ততোধিক দুরন্ত শটে শুভাশিসকে দাঁড় করিয়ে ওডাফার দ্বিতীয় ছোবল।মোহনবাগান লিড ২-১ গোলে। ওডাফা স্বপ্নের ফর্মে,ব্যারেটোও দুরন্ত। স্বপ্নে বিভোর যুবভারতী।স্বপ্ন দেখালেন ওডাফা-ব্যারেটো।কোকোর গোলে ডেম্পো ড্র করে ম্যাচটা।কিন্তু জিতে যেতাম যদি রেফারি নিশ্চিত হ্যান্ডবলটা আমাদের দিয়ে দিতেন।

যে সমীর নায়েকের ডেম্পো আজ মোহনবাগানকে আটকে দিলো, সেই সমীর নায়কসহ গোটা ডেম্পো ডিফেন্সকে একদা তছনছ করেছিলেন ওডাফা ওকোলি।ওই মরশুমে আমরা চ্যাম্পিয়ন হইনি।এমনকি যে ম্যাচের কথা বলছি ওই ম্যাচটাও আমরা ড্র করেছিলাম।কিন্তু কি যেনো এক অদৃশ্য ভালোলাগা ওই ম্যাচটা আমাদের দিয়েছিলো।আর্মান্দো কোলাসোর স্বর্ণযুগের ডেম্পোকে প্রায় হেলিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের এক চিলতে ওডাফা।সমীর নায়েক নিজেও হয়তো ভোলেননি পেনাল্টি মিসের পর সেদিনের ওডাফার রুদ্রমূর্তি।

যুগ পেরিয়ে যায়। কিন্তু ওডাফাকে ভোলা যায় কি?জীবনটা যদি শেক্সপিয়ারের নাটকের মতো নাটকীয় হতো তাহলে হয়তো আমার স্ক্রিপ্টে মধ্যচল্লিশের ওডাফাকে আজও ছেড়ে দিতাম ডেম্পোডিফেন্সের সামনে।

আসলে ওডাফা আমাদের কিশোর বয়সের এমনই এক ফ্যান্টাসি যাকে হয় ভয় পেতে হয়,নয়তো ভালোবাসতে হয়...কিন্তু আড়াল করে রেখে দেওয়া যায় না!

কলমে~যীশু নন্দী

আরেক 'ঘোষ'ও আছে   বাইশ গজের মাঝেসবাই ফেরে সাজঘরেতে, সে ব্যাটিং করে ঝাঁঝেভাইজ্যাগেতে জন্ম হচ্ছে   আরেক বীরের তাজে
09/10/2025

আরেক 'ঘোষ'ও আছে বাইশ গজের মাঝে
সবাই ফেরে সাজঘরেতে, সে ব্যাটিং করে ঝাঁঝে
ভাইজ্যাগেতে জন্ম হচ্ছে আরেক বীরের তাজে

দরজায় কড়া নাড়তে গতকালের  অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষটি বেরিয়ে এলেন।নতুন ধুতি,নতুন ফতুয়া গায়ে দিয়েছেন।মুখে ফোকলা হাসি হেসে বললেন—...
07/10/2025

দরজায় কড়া নাড়তে গতকালের অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষটি বেরিয়ে এলেন।নতুন ধুতি,নতুন ফতুয়া গায়ে দিয়েছেন।মুখে ফোকলা হাসি হেসে বললেন—"জানতুম আসবি তুই।ভেতরে আয়"। ডেকে নিয়ে গেলেন পুরোনো ঘরটাতে।লম্বা দাওয়া পেরিয়ে ঘরটাতে গেলাম।মেঝেতে শতরঞ্জি পাতা।ধারগুলো থেকে সুতো বেরিয়ে এসছে।তবে পরিস্কার করে কাচা।মেঝেটাও সুন্দর করে নিকানো।বসে পড়লাম। বৃদ্ধ জবুথুবু পায়ে অ্যামিবার মতো গতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।খানিক পরেই আবার ঘরে এলেন।হাতে সুদৃশ কাচের প্লেটে মিষ্টি আর সিঙারা। "বিজয়া জানালি, একটু মিষ্টিমুখ কর বাবু", বললেন বৃদ্ধ।

প্লেটটা নিলাম। বললাম—" কিন্তু আমি তো বাবু নই"।
—জানি তো বাবা। বাবু আসেনা আর। আগে আসতো। খুব ভালো ছাত্র। বাবুর মতো একপাল ছাত্র আসতো।এই ঘরেই বসত সারি মেলে। ছোটো থেকে বড়ো সবাই একসাথে দুলে দুলে পড়তো।পুজোর ছুটির পর বিজয়ার প্রণামের সে কি হুড়োহুড়ি। মিষ্টি আর সিঙারার বায়না। সবই মেটাতুম।ওইদিন নতুন ধুতি ফতুয়া পরতুম।তারপর আস্তে আস্তে বুড়িয়ে গেলাম।ফুরিয়েও গেলাম হয়তো।দীর্ঘ ৯ বছর পড়াইনা আর।বাবু আমার খুব প্রিয় ছিলো।দেখা হয়না আর।বাবু,মানিক,ভোম্বল....।

পশলা বৃষ্টি হয় বৃদ্ধের চোখ বেয়ে।ধুতির কাপড়ে চোখ মুছে বলতে থাকলেন—" তাই প্রতিবছর পুজোর পর তোমার মতো কাউকে পেলে একটু বাড়ি আসতে বলি।বাবুদের ছায়া দেখি তোমাদের মধ্যে।মিষ্টি খাওয়াই।তুমি তো বাবা কাল এসেছিলে আমাদের কলটা সাড়াতে।তোমাকে দেখেই বাবুদের কথা মনে পড়লো।তাই আজকেও কলটা গন্ডগোল করছে বলে তোমায় ডাকলাম।মিষ্টি খাওয়াবো বললে তো আর আসতেনা।তোমরা কাজের মানুষ। বাবুও নিশ্চয়ই খুব কাজে ব্যস্ত।"

প্রণাম করলাম।

—"বিজয়ার প্রণাম নেবেন মাস্টারমশাই"।
—কিছু মনে করলেনাতো বাবা?
—অনেক কিছু।আমার ছেলেটাকে টিউশনি দিতে পারিনি, স্যার।আপনি পড়াবেন?

বিস্ময়ে আঁখি বিস্ফারিত করলেন জুলজির ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট,এলাকার এককালের ব্যস্ততম মাস্টারমশাই, বললেন—"বাবুকে পাঠিয়ে দিও কাল থেকে তাহলে।"

উমার বিদায়ের পর বিষণ্ণ এই ধরাধামে আগমনীর সুর বেজে উঠলো কোনো এক উঠোনে.....❤️

কলমে—যীশু নন্দী

মণ্ডপের কলারশিপ গেট টানা হয়ে যায়। পুজো শেষ। উষ্ণীষ ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ফাঁকা বেদীটার দিকে।কিছুক্ষণ আগেই মা ...
03/10/2025

মণ্ডপের কলারশিপ গেট টানা হয়ে যায়। পুজো শেষ। উষ্ণীষ ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ফাঁকা বেদীটার দিকে।কিছুক্ষণ আগেই মা ছিলো সেখানে।ছিলো চালচিত্র,ঝলমলে ঝাড়;ছিলো মৃদুলাও।চলে গেছে সবাই।মা ফিরেছেন কৈলাশে আর মৃদুলা কোলকাতায়।কাল থেকে প্রাত্যহিক সান্ধ্য টিউশনি পড়াতে যাবার সময় উষ্ণীষ তাকাবে ফাঁকা মণ্ডপটার দিকে।যেনো কোনো রাজরাজেশ্বর জমিদার নি:স্ব হয়ে গেছে মুহূর্তের ঝড়ে।উষ্ণীষ বলে যদি সত্যি কেও নাও থাকে,যদি নাও থাকে মৃদুলার মতো কেউ,তবু উষ্ণীষের মতোই এই শোক মেখে নিচ্ছে কেউ। মায়ের কৈলাশগমনের সাথে কতলক্ষ মনে শোকের অন্তর্জাল বিস্তার নেয় তা কে জানে!শুভ বিজয়া দশমী সকলকে।মনখারাপের অতল সাগরের কোনো এক কোণে সত্যিই হয়তো লুকিয়ে আছে কোনো এক আলোর জাহাজ। এক বছর পরে জেগে উঠবে আবারও। কোনো এক উষ্ণীষের আবারও দেখা হবে মৃদুলার সাথে।তার আগে আপাতত শুধুই অপেক্ষা।

~যীশু নন্দী

Address

Tejganj
Burdwan

Telephone

+916294608097

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভূপেন্দ্রনাথের ঝাড়বাতিটা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ভূপেন্দ্রনাথের ঝাড়বাতিটা:

Shortcuts

Share

Category