20/05/2026
ফেরান্দো খুঁজছিলেন এমন একজনকে যাকে আনলে আপফ্রন্ট ফ্লেক্সিবল থাকে।রয়কে দিয়ে হচ্ছিলোনা।আনলেন পেত্রাতোসকে।আদতে যিনি ফলস নাইন।বুমোর সাথে জুড়ে দিলেন পেত্রাকে।শুরুতেই হিট।কেরালা ম্যাচে হ্যাট্রিক।তারপর ওইবছর আইএসএল ট্রফি জয়।সৌজন্যে ফাইনালে দিমির জোড়াগোল।ভুরিভুরি গোল করেছিলেন সেবার।পরের আই এস এলে হাবাস এলেন।বুমো সরলেন।কামিন্সরা এলেন।সেখানেও হিট পেত্রাতোস।শুধু হিট-ই না,হাবাস-পেত্রা-কাউকোর জন্যেই কার্যত শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। ফিরতি বছরে মোলিনা এলেন।আনলেন স্টুয়ার্টকে।দিমির ফর্ম পড়তি।তবুও ক্লাচ ম্যাচে ক্লাচ প্লেয়ার হয়ে ক্লাবকে শিল্ড জেতালেন সেই পেত্রাতোস। এ তো শুধু আই এস এলের গল্প।ডুরান্ড ফাইনালে ন জনের মোহনবাগানকে টেনে তুলে ডার্বি জেতালেন সেই পেত্রাতোস,সাথে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন। চার বছরে আই এস এল লিগ,শিল্ড,ডুরান্ড সব জিতেছেন পেত্রাতোস।শুধু জেতেনই-নি,কার্যত জিতিয়েছেন।তথ্য সেটাই বলছে।আই এস এল ট্রফি জেতার মরশুমে ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ দিমি,সাথে লিগে এগারো গোল।আই এস এল শিল্ড জেতার প্রথম বছরে দিমি গোল্ডেন বল বিজয়ী।শিল্ড জেতার দ্বিতীয় বছরে নির্ধারক ম্যাচে একমাত্র গোল ও সম্ভবত ম্যান অফ দ্য ম্যাচ সেই দিমিই।ডুরান্ডেও যেবার চ্যাম্পিয়ন হলাম ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ দিমি পেত্রাতোস।
একনাগাড়ে অনেকটা বলে ফেললাম।তথ্যে ভুল থাকতে পারে কিন্তু মোহনবাগানে দিমির ইম্প্যাক্ট বর্ণণায় নেই।এহেন দিমিযুগের অবসান হচ্ছে কাল।ব্যারেটো-ওডাফা-সোনির পর দিমি পেত্রাতোস। ট্রফি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন ক্লাবকে। আজ দেখলাম প্র্যাক্টিস শেষে আস্তে আস্তে মাঠ ছাড়ছেন দিমি।এই প্রথম হয়তো ইম্প্যাক্টলেস বছর কাটলো তার।কাল ভক্তদের কোল না পেয়েই হয়তো বিদায় নেবেন।তবু দিমিযুগ মোহনবাগানের সোনালী অধ্যায়।ওডাফা-সোনির পর এমন এক চরিত্র যার চুড়ান্ত অফ ফর্মেও নব্বই মিনিটের পর মোহনজনতা চেয়ে থাকে তার দিকে,কিছু একটা করবে বলে।
যেতে হয় সবাইকেই;একদিন।আর ময়দানে তো কোনোকিছুই স্ট্যাটিক নয়।তবে আমরা মনে রাখবো কাদাপাড়ার একগুচ্ছ শিশুকে নিয়ে স্ট্রিট ফুটবলে মেতে ওঠা কোনো এক ফুটবল মাফিয়া একদা মাসিহা হয়ে উঠেছিলো আমাদের;ট্রফিতে ভরিয়ে দিতো,প্রতিপক্ষের চোখ উপরে নিতো।আমরা তাকে দিমিগড বলে ডাকতাম।
কলমে~যীশু নন্দী