10/12/2025
রাত ১২টা।
একটা ফোন…আর সেই ফোন থেকেই শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে আবেগী একটা গল্প।
একসময়ের ছোট্ট তেঁতুলিয়া গ্রামের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান তখনো জানত না, তার জীবনটা সেদিন থেকেই বদলে যাবে। ফোন করেছিলেন কোচ শেখ সালাউদ্দিন — “কাল ঢাকায় আসতে হবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেটে বল করবি।”
ভয়, ঘাম, দ্বিধা—সবকিছু নিয়ে সে দৌড়ায় ভাই পল্টুর কাছে। পল্টু কোনো প্রশ্ন করেননি। শুধু বলেছিলেন,
“তুই শুধু রেডি হ, বাকিটা আমি দেখব।”
পরদিন হরতাল। চারদিকে ভাঙচুর, রাস্তায় ভয়। তবুও ভোরে বাইক স্টার্ট নিল পল্টুর। সেই পুরোনো বাজাজ ডিসকভারি — পেছনে বসা এক স্বপ্ন, সামনে বসা এক ভাই।
তেঁতুলিয়া → চুকনগর → ঢাকা।
রাস্তায় বাধা, বুকের ভেতর দোয়া আর চোখে আগুন।
ঢাকায় পৌঁছে যখন মুস্তাফিজ বল হাতে নিল, কেউ জানত না—এই ছেলেটাই একদিন ভাঙবে ব্যাটসম্যানদের অহংকার।
কিন্তু গল্পটা এখানেই না।
এরও আগে…গ্রামের মাঠে টেনিস বলের ম্যাচ।প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান একাই সব শেষ করে দিচ্ছিল।তখন পল্টুই বল তোলে দেয় ছোট ভাইয়ের হাতে—“শেষ ভরসা তুই।”
প্রথম দুই বলে ব্যাটসম্যান কুপোকাত।তৃতীয় বল—কাটার! স্টাম্প উড়ে যায়। সেদিনই জন্ম নেয় “কাটার মাস্টার”-এর বীজ।
এরপর শুরু হয় যুদ্ধের জীবন।
প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙানো। শীতে কাঁপতে কাঁপতে বাইকে বসা। ৪০ কিমি পথ শুধু ক্রিকেটের জন্য। পল্টু জানত — সে শুধু একজন ভাই না, সে একটা স্বপ্নের বাহন।
ক্রিকেট বলেই খেলতে হবে—এই জেদও ছিল ভাইয়ের। টেনিস বল বাদ। বাড়ির পেছনে নিজের হাতে বানানো পিচ। কারণ একটাই: তার ভাই যেন দেশের হয়ে খেলতে পারে।
যখন জেলা দলে ট্রায়াল হলো— প্রায় ৩০০ ছেলে, জায়গা মাত্র ১৪ জনের।
পল্টু সত্যটা জানত, কিন্তু ভাইকে বলেনি। শুধু বলেছিল— “একবার সুযোগ পেলে, তোকে কেউ বাদ দিতে পারবে না।”
সে সুযোগ পায়। সে-ও পার করে দেয়।
আজ আমরা যে **মোস্তাফিজুর রহমান**কে দেখি— সে শুধু একজন বোলার না।
সে একটা ভাইয়ের ত্যাগ, একটা পুরোনো মোটরসাইকেল, আর নিঃশব্দ ভালোবাসার ফল। ❤️
প্রতিটা উইকেটের পেছনে লুকানো আছে পল্টুর ঘাম, দোয়া আর আত্মত্যাগ।
এই গল্প শুধু ক্রিকেট না—
এই গল্প ভাই-ভালোবাসার ইতিহাস 🇧🇩