31/05/2026
📢 দাসউরা–বিয়ানীবাজার সিএনজি ভাড়া কমানোর দাবিতে এলাকাবাসীর যৌক্তিক বক্তব্য
দাসউরা থেকে বিয়ানীবাজার পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া বর্তমানে ৪০ টাকা, যা বিয়ানীবাজারের অন্যান্য রুটের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ এই অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা বহন করে আসছেন।
প্রথমদিকে বন্যার কারণে রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় এই রুটের ভাড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাস্তা সম্পূর্ণ সংস্কার ও চলাচল উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও ভাড়া এখনও আগের মতোই রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—রাস্তা ভালো হওয়ার পরও কেন ভাড়া কমানো হচ্ছে না?
বিয়ানীবাজার স্ট্যান্ডের বিভিন্ন রুটের বর্তমান ভাড়া ও দূরত্ব
• বিয়ানীবাজার → কুনাগ্রাম: ৩.৯ কিমি = ১৫ টাকা
• বিয়ানীবাজার → চানগ্রাম: ৮.৫ কিমি = ৩০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → থানাবাজার: ৬.৪ কিমি = ২০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → সরওপার: ১১ কিমি = ৪০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → দাসবাজার: ১৩ কিমি = ৪০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → শাহবাজপুর: ১৬ কিমি = ৬০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → বড়লেখা: ১৭ কিমি = ৬০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → চারকাই: ২১ কিমি = ৫০ টাকা
• বিয়ানীবাজার → চন্দরপুর: ২২ কিমি = ৫০ টাকা
উপরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিয়ানীবাজার স্ট্যান্ডে গড়ে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া প্রায় ৩.৩৮ টাকা।
অথচ দাসউরা থেকে বিয়ানীবাজারের দূরত্ব মাত্র ৭.৭ কিলোমিটার। সেই হিসেবে এই রুটের ভাড়া হওয়া উচিত প্রায় ২৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা, যা যৌক্তিক ভাড়ার তুলনায় প্রায় ১৫ টাকা বেশি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষ
একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতিদিন কলেজ, কোচিং বা টিউশনে যাতায়াত করে, তাহলে তার দৈনিক ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৮০ টাকা। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা পায়। ফলে যাতায়াত খরচ মেটানোর পর তার হাতে মাত্র ২০ টাকা অবশিষ্ট থাকে, যা দিয়ে নাস্তা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ চালানো অত্যন্ত কষ্টকর।
একইভাবে এলাকার বহু কর্মজীবী মানুষ, দোকান কর্মচারী ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
চালকদের বক্তব্য
এ বিষয়ে স্থানীয় সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিয়ানীবাজার স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তারাও ভাড়া কমাতে পারছেন না। অর্থাৎ সমস্যার সমাধানের জন্য স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আমাদের দাবি
আমরা দাসউরা এলাকাবাসী, সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—
বিয়ানীবাজার স্ট্যান্ডের অন্যান্য রুটের ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাসউরা–বিয়ানীবাজার রুটের সিএনজি ভাড়া পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত কমানো হোক।
জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান
আমাদের এলাকার চেয়ারম্যানসহ সকল জনপ্রতিনিধির প্রতি বিনীত আহ্বান, জনগণের প্রতিনিধি হওয়া শুধু একটি পদে বসার বিষয় নয়; জনগণের সমস্যা, কষ্ট ও ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। আমরা আশা করি, আপনারা সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এটি শুধুমাত্র একটি ভাড়ার বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আমরা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
দাসউরা এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীবৃন্দ