10/08/2026
🌸গুড প্যারেন্টিং'র একটা কোর্স করেছিলাম বাচ্চা দত্তক নেবো বলে। তার ভিত্তিতেই পোস্টটা দেয়া। সন্তানকে সবার আগে মানবিকতা শিক্ষা দিন, বিনয়ী হতে শেখান। দেখবেন নৈতিকতা, ভদ্রতা সে এমনিতেই শিখে যাবে। ঈদে বা পূজা-পার্বণে আপনার সন্তানের জন্য ৫ টা দামী ড্রেস কেনেন, ৫ জোড়া দামী জুতা কেনেন। কিন্তু, কখনো কি তাকে একবারও বলেছেন, "বাবা, ঈদে বা পূজা-পার্বণে তোমার কোন বন্ধুর বাসায় বাজার হয়েছে কিনা তা কিন্তু খোজ রেখো। যদি না হয় তাহলে তোমার টিফিনের জমানো টাকা থেকে তাকে বাজার করে দিও এমনভাবে যেনো অন্য কেউ না জানে। প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেও।" দেখবেন আপনার সন্তান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ হবে এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান হবে। সে এতোটাই খুশি হবে যা সে নিজের জন্য কিছু করলেও হতো না।
যে বাচ্চাটা বিভিন্ন উৎসবে ৪/৫ টা ড্রেস বা ৪/৫ জোড়া জুতা না পেলে খুশি হয়না আপনি তাকে যদি বলেন, "এবার তুমি মাত্র একটা করে নেবে। বাকি জিনিসগুলো কেনার টাকা দিয়ে তোমার বন্ধু-বান্ধবী যারা গরীব আছে তাদেরকে নিয়ে গিফট করবে।" দেখবেন আপনার বাচ্চাটা এতোটা খুশি হবে যা সে আগে কখনো হয়নি। তবে, এখানে একটা কথা থাকে। আপনি যদি তার ৪/৫ টা পন্য ক্রয়ের টাকা বাচিয়ে তার আরো দুই একজন বন্ধুর জন্য বেশি অর্থ্যাৎ ৬/৭ টা কিনে দিতে চান বা কিনে দিতে বলেন তাতে তার মস্তিষ্কে খুবই বাজে প্রভাব পড়বে। সে অন্যদের থেকে নিজেকে বড় ভাবতে থাকবে। তাই, সংখ্যা বাড়ানোর দরকার নেই আপনার বাচ্চার জন্য যে বাজেট সেই সমপরিমাণ বাজেটই আপনার সামর্থ্যের ভেতর অন্য যেকজন বাচ্চা পারেন রাখুন না। শুধু এই ছোট ছোট কিছু ত্যাগ আপনার বাচ্চাকে করতে শেখান। তার ভেতর নেতৃত্বের গুণাবলি, মানবিকতা, নৈতিকতা, বিনয় সবই চলে আসবে। আপনার বাচ্চাটা সবসময়ই হাসি-খুশি এবং আনন্দে থাকবে। তবে, এটা অবশ্যই শেখাবেন যে, ঝগড়া বন্ধুদের ভেতর হতেই পারে, তবে, ঝগড়া বাধলেও যেনো সে ওই সবকিছুর খোটা তার বন্ধুকে না দেয়।
ইরানের প্রধান উৎসব নওরুজ। নওরুজের সময় আমি দেখি যে, যার সামর্থ্য আছে সে কয়েকটা আইটেম বাজার করে একেকটা প্যাকেট করে পার্কের বেঞ্চে রেখে যায়। যার যতোটুকু দরকার সে তা নিয়ে যায়।
আমার বাসার পূর্বের কেয়ারটেকার হামজার দুইটা বাচ্চা ছিলো। হামজা সুন্নি হওয়ায় তার প্রধান উৎসব ছিলো ঈদ। ঈদে হামজার সামর্থ্য ছিলোনা তার, তার স্ত্রী বা তার বাচ্চাদের জন্য কিছু কেনার। অবাক হয়ে দেখলাম ঈদ পালন না করা বাসার অন্যান্য সব অ্যাপার্টমেন্টের বাচ্চারা এক হয়ে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা তুললো। আমাকে এসে বললো, "আংকেল তোমার সার্ভিস চার্জ এমাসে ২০ ডলার বেশি দেবে? আমরা পরে তোমাকে ১/২ ডলার করে দিয়ে দেবো?" আমি বললাম, "তোমাদের ফেরত দিতে হবেনা, সার্ভিস চার্জ আমি তোমাদের ঈদ উপলক্ষ্যে ৫০ ডলার বেশি দেবো।" ভেবেছিলাম বাচ্চারা ঈদের কোন আয়োজন করবে। কিন্তু, কি আশ্চর্য তারা সব টাকা দিয়ে হামজা, হামজার স্ত্রী, হামজার বাচ্চাদের জন্য বাজার করলো জামা-কাপড় কিনলো। বিশ্বাস করুন, এই বাচ্চাদেরকে এটা করার সময় যতোটা খুশি আমি দেখেছি জীবনে এতো খুশি অন্য বাচ্চাদেরকে হতে দেখিনি।
আরেকটা বিষয়, আপনার বাচ্চাকে যদি শিক্ষা দেন অমুকে আমাদের শত্রু তার বা তার পরিবারের সাথে মিশবেনা, তাদের জন্য কিছু করবেনা দেখবেন আপনার বাচ্চা একদিন বড় হয়ে আপনাকেই এড়িয়ে চলবে। আপনার জন্য যেকোন কিছু করাই বন্ধ করে দেবে। তাই, শত্রুতা থাকলে আপনার বা আপনাদের ভেতর নিজের সার্থেই তা বাচ্চাদের মস্তিষ্কে ঢোকাবেন না। কারণ, তার জেরে আপনার বাচ্চাই একদিন আপনার পর হবে।
@ওয়ালিদ ইসলাম