17/07/2026
আর্জেন্টাইন মিড vs স্প্যানিশ মিড
আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ম্যাচটাই মূল লড়াই হবে মিডফিল্ডে। কারন স্পেন মিডফিল্ডার নির্ভর টিম। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও মাঠের সেন্টার দিয়ে আক্রমণ করে। তাই মধ্য মাঠে যে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে, সেই ম্যাচে অনেকটা এগিয়ে যাবে। অনেকেই ভাবছেন ফ্রান্সকে যেভাবে স্পেন পুরাই আউট প্লে করে দিল, আর্জেন্টিনাকেও সেভাবে আউটপ্লে করবে কিনা। কিন্তু সেটা সম্ভব না।
স্পেন ফ্রান্সের সাথে নেমেছিল ৩ হেভিয়েট মিড নিয়ে। যারা হলেন ব্যালন ডি'ওর জয়ী রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও বার্সা বয় অলমোকে নিয়ে। সাথে আলেক্স বায়েনাকেও মিড হিসাবেই ধরা যায়। আর ওদের স্ট্রাইকার ছিলো ওজারবাওজাল। যে পুরোপুরি স্ট্রাইকার না। মোটা দাগে বললে চলে, স্পেন তাদের স্বভাবসুলভ প্রায় ৪-৫টা মিড নামায়ছিলো। এমনিতেই স্প্যানিশ দের মিড ওয়ার্ল্ডের সেরা। তার উপর এতো গুলো মিড নামছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স কি করলো। ওয়ার্ল্ডের সেরা মিড থামাতে ফরোয়ার্ড দের উপরেই ফুল ভরষাটা করলো। তাই ৪ ফরোয়ার্ডের সাথে নামলো মাত্র দুই মিড নিয়ে। কিন্তু দুই মিড তো আর চার মিডের সাথে পেরে উঠবেনা। দেশম সেইটা নোটিশ করেও সাবে কেনো মিড নামালোনা, এইটা এখনও আমার মাথায় ঢুকেনি। যেকারনে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ডরা বলের সাপ্লাই না পেয়ে ম্যাচ থেকে পুরাই কাট অফ হয়ে যায়।
স্কলানি নিশ্চয়ই এইটা নোটিশ করছে। তাই আর্জেন্টিনা হয়তো ৪ মিড নিয়ে নামতে পারে। ২২ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালেও অনেকটা এমন সিচুয়েশন তৈরী হয়েছিলো। আর্জেন্টাইন মিডের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডাররা। এজন্য ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারদের থামাতে স্কলানি চারটা মিড এঞ্জো, ম্যাক আলিস্টার, ডি পল ও প্যারাদেসকে একসাথে নামিয়ে দেয়। সাথে মেসিও মিডে যোগ দেয়। ফলাফল স্বরুপ, ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে আর সুবিধা করতে পারেনি।
এবারো নামের ভারে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে স্পেনের মিডরা। তবে তাদের ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট মিড পেদ্রি ফর্মে নাই। যেকারণে কোচ তাকে বেঞ্চ করেছে। এদিকে আর্জেন্টিনার মিডদেরও ২২বিশ্বকাপ থেকে বয়স ৪বছর বেড়েছে। ম্যাক আলিস্টার, এঞ্জো তাদের ফুল রিদমে নাই। বিশেষ করে ডিপল একেবারেই ফর্মে নাই। যেকারণে স্কলানি তাকে লাস্ট ম্যাচে বেঞ্চ করেছে। শুধু প্যারাদেস ভালো ফর্মে আছে।
তবে এই ৪ জন যখন একসাথে খেলে তখন তারা একটি ইউনিট হয়ে খেলে। তাছাড়া লাস্ট ম্যাচে তারা ফর্মে ফেরারও ইঙ্গিত দিয়েছে। আবার মেসি যদি বলের সাপ্লাই না পায়, সে কিন্তু এমবাপ্পের মত বসে থাকবেনা। সে নিচে নেমে এসে বল কালেক্ট করে প্লে মেকিং শুরু করবে। থ্রু পাস দিতে চেস্টা করবে। ৪ মিডের সাথে মেসিও যদি যোগ দেয়, তখন কিন্তু মিডে আর্জেন্টিনাও সমান আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। আবার আলভারেজও মিডে অনেকটা সাহায্য করে।
সবমিলিয়ে ফ্রান্সের মত আর্জেন্টিনার আউটপ্লে হওয়ার কোন কারন দেখিনা। এখন দেখা যাক স্কলানি সিমিওনে কে দিয়ে শুরু করে, নাকি ডি পল কে নামায়। যেটাই হোক, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা আউটপ্লে হবেনা। এমনকি ম্যাচের সব ডিপার্টমেন্টে পিছিয়ে থাকলেও যেকোনো উপায়ে ম্যাচ বের করে ফেলতে পারে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনকে তারা বৃথা যেতে দেবেনা। সর্বোপরি তারা তাদের আইডলের জন্য শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।