15/09/2024
পোস্ট নং - ২০
বর্তমানে বহুল আলোচিত ড. ইউনূসের মেগাফোন কূটনীতি। আসুন জেনে নেই এই কূটনীতি আসলে কি ও কখন ব্যবহার করা হয়?
★★ Megaphone Diplomacy (মেগাফোন কূটনীতি):
মেগাফোন শব্দে দুইটি আলাদা শব্দ আছে। মেগা - অর্থ বৃহৎ, ফোন - অর্থ কথা বলার মাধ্যম। মেগাফোন’ প্রকৃত অর্থে একটি যন্ত্র, যা মানুষের কণ্ঠস্বরকে উচ্চমাত্রায় বাড়িয়ে জনসমক্ষে পৌঁছে দেয়।
মেগাফোন কূটনীতির উৎপত্তি ১৯৭০/১৯৮০ এর দশকে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলমান ছিল। তারা নিজেদের অবস্থান জানাতে প্রতিপক্ষকে হুশিয়ার করতে এই কূটনীতি ব্যবহার করত। এই কূটনীতি Quiet Diplomacy বা Softy Softy Approach এর বিপরীত।
❝সহজ ভাষায়, কোন বিতর্কিত ইস্যু বা জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা নিরসনের জন্য গোপন কোন কূটনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন না করে সরাসরি হুশিয়ার বা প্রতিবাদ করে যে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয় বিভিন্ন মাধ্যমে (জনসম্মুখে কড়া ভাষায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি, রাষ্ট্রীয় ঘোষণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি হুশিয়ারি করা ইত্যাদি), সেই কূটনীতিকে মেগাফোন ডিপ্লোম্যাসি বলা হয়।❞
এটি সাধারণত চাপ প্রয়োগ বা জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে করা হয়, যাতে সমঝোতার পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধি গোপন বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবর্তে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বা জনসমক্ষে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে বক্তব্য দেয়। জনসম্মুখে বিবৃতি, বক্তব্য, বা সতর্কতা দেয়া হয়।
মোট কথা দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না করে, মিডিয়ার মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করে পরস্পরের উপর চাপ সৃষ্টি করায় এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য। লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানকে জোরালো করা, জনমতকে প্রভাবিত করা।
According to Longman Dictionary, ❝ The practice of making strong or threatening statements in order to make another country do what you want.❞
>> বৈশিষ্ট্যঃ
১. নানাভাবে প্রতিপক্ষের উপর হুশিয়ারি প্রদান করা।
২. অফিশিয়াল কূটনীতির কোন প্রয়োগ নেই।
৩. সামরিক হুমকি, আক্রমনাত্মক স্টেটমেন্ট ও দেওয়া হয়ে থাকে।
৪. প্রতিবাদের জন্য গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
>> বাস্তব উদাহরণঃ
মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক তাইওয়ান সেনাবাহিনীকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন যেন তাইওয়ানের সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ভাল ফলাফল বয়ে আনবে না।
#মেগাফোনকুটনীতি