18/08/2026
শহীদ হোসেন স্বপন ভাই কে আমাদের বন্ধন ফুটবল কোচিং সেন্টারের পক্ষ শুভকামনা রইল 💖⚽💐
শহীদ হোসেন স্বপন: সবুজ মাঠের খেলোয়াড় থেকে সম্ভাবনাময় এক ক্রীড়া সংগঠক 💙💛
নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী কিংবা শীতলক্ষ্যার তীরের বাতাস যেন আজও গায়ে মেখে আছে আশির-নব্বই দশকের এক রূপকথার গল্প। ফুটবল মাঠের সবুজ গালিচায় যার পায়ে লুকিয়ে ছিল ছন্দ, তিনি শহীদ হোসেন স্বপন।
পদ্মা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটি ধোয়া এই জনপদ যেন জন্ম দিয়েছে একের পর এক ফুটবল জাদুকর। স্বপন একা নন, তাদের রক্তেই মিশে ছিল ফুটবলের সুবাস বাংলাদেশ জাতীয় দল ও আবাহনীর একসময়ের কৃতি ফুটবলার সম্রাট হোসেন এমিলি হলেন তাঁর বড় ভাই। দুই ভাই মিলে এ দেশের সবুজ গালিচায় এঁকেছিলেন গৌরবের একেকটি সোনালী ক্যানভাস। তবে কেবল এমিলির ভাই হিসেবে নয়, নিজের অসাধারণ প্রতিভার গুণেই তিনি আলোকিত করেছেন আমাদের ফুটবল অঙ্গন।
মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সাজেদা বেগম দম্পতির কোল আলো করে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন স্বপন। ১৯৯৮ সালে তিনি মুন্সীগঞ্জের মেয়ে রাফেজা তাজ চিনুর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি দুই মেধাবী কন্যার গর্বিত জনক-জননী। মাঠের কোলাহল ছেড়ে বর্তমানে পেশাগত জীবনে তিনি পুরোপুরি একজন সফল ব্যবসায়ী। যতটুকু অবসর পান, সেটুকু সময় তিনি তাঁর পোষা প্রাণী নিয়েই কাটাতে ভালোবাসেন। তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও ফুটবলের খনি নারায়ণগঞ্জ থেকে একদিন আবারও সোনার ফুটবলার বেরিয়ে আসবে—সেই সোনালী স্বপ্নেই বিভোর থাকেন তিনি। যেকোনো মূল্যে দেশের ফুটবলের সার্বিক উন্নতি দেখতে চান এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটি।
৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই মানুষটি মিডফিল্ডে নান্দনিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ঢাকার ফুটবলে তিনি পিডাব্লিউডি, আবাহনী লিমিটেড, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সিতে মাঠ মাতান। জাতীয় দল ও বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ফুটবল পায়ে তিনি ভ্রমণ করেছেন বহু দেশ। তাঁর এই বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বহু মানুষের অবদান। জীবনের এই সাফল্যের বড় একটা কৃতিত্ব তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সুজিত সমাদ্দার ও শামছুদ্দোহা চাঁদ ভাইকে। আবাহনীর সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই কৃতি ফুটবলার মাঠের খেলায় গতি, ড্রিবলিং এবং ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
ঘরোয়া ফুটবলে তাঁর ট্রফি কেবিনেট সমৃদ্ধ হয়েছে বহু মূল্যবান শিরোপায়। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কাপ, আবাহনী লিমিটেডের হয়ে লিগ শিরোপা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে লিগ শিরোপা, চার্মস কাপ ও ম্যাকডুয়েল কাপের শিরোপা উল্লেখযোগ্য।
পছন্দ ও আদর্শের ক্ষেত্রেও স্বপন শহীদের রুচি বেশ প্রখর। ক্লাব ফুটবলে তিনি আবাহনী এবং বিশ্ব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের কট্টর সমর্থক। ফুটবল মাঠে তাঁর আদর্শ বা প্রিয় মুখগুলোর মধ্যে দেশের মাটিতে নিজের বড় ভাই এমিলি ও প্রয়াত কিংবদন্তি মুন্না, আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাদুকরী জিদান ও লিওনেল মেসি তাঁর বিশেষ পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।
খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানিয়ে কিছুদিন নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে (জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে) কাজ করলেও ফুটবলের টান কি সহজে ভোলা যায়? মাঠ যার রক্তে, তাঁর মন তো পড়ে থাকে ওই সবুজ চত্বরেই! তাই তো সময়ের এক দীর্ঘ চক্র পেরিয়ে, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনী লিমিটেড নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে যখন নতুন মৌসুমের দল গঠনের লড়াইয়ে নামে, ঠিক তখনই দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপুর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্লাবের নতুন টিম ম্যানেজারের গুরুদায়িত্ব মৌখিকভাবে এসে বর্তায় সেই পুরনো সেনানী শহীদ হোসেন স্বপনের কাঁধে—যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো বাকি। অভিজ্ঞ কোচ মারুফুল হকের সাথে মিলে তিনি আকাশি-হলুদ শিবিরকে পুনরায় গৌরবের ধারায় ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
মাঠের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও উদীয়মান ম্যানেজার—সব মিলিয়ে স্বপন শহীদ বাংলাদেশের ফুটবলে এক অবিচ্ছেদ্য ও প্রিয় নাম।