03/07/2026
**কেন আমি রোনালদোর ভক্ত হলাম? আর আজকের CR7-কে নিয়ে কিছু বাস্তব কথা...
অনেকেই এখনো রোনালদোর কাছে প্রতি ম্যাচে ১০/১০ পারফরম্যান্স আশা করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন ৪১+ বছর বয়সী** ফুটবলারের কাছে এমন প্রত্যাশা কি আদৌ যৌক্তিক?
বর্তমান রোনালদো কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেন। তিনি মূলত বক্সের ভেতরে অবস্থান করেন, সতীর্থরা তাকে বল দেয়, আর সুযোগ পেলে তিনি গোল করার চেষ্টা করেন। এই বয়সে তার পক্ষে আর Erling Haaland বা Kylian Mbappé-এর মতো পুরো মাঠ দৌড়ে বেড়ানো সম্ভব নয়। এটাই স্বাভাবিক। কারণ বয়স কারও জন্যই থেমে থাকে না।
কিন্তু একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। আজ যেভাবে হালান্ড বা এমবাপ্পে খেলছে, ঠিক সেই বয়সেই রোনালদোও খেলেছেন। মিডফিল্ড থেকে বল নিয়ে একের পর এক ডিফেন্ডার কাটিয়ে গোল করা, অসাধারণ গতি, ড্রিবলিং, হেড, ফিনিশিং—সবকিছুই তিনি বছরের পর বছর করে দেখিয়েছেন। তার প্রাইম সময়ের ম্যাচগুলো একটু দেখলেই বোঝা যাবে তিনি কী ধরনের ফুটবলার ছিলেন।
আমরা যারা রোনালদোর সমর্থক, তারা তার বর্তমান খেলা দেখে নয়, **তার প্রাইম সময়ের ফুটবল** দেখেই তার ভক্ত হয়েছি।
আমার নিজের কথাই বলি। ছোটবেলায় ফুটবলের প্রতি খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। বরং খেলাটাকে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতো। তাই নিয়মিত খেলা দেখতাম না। তবে ফেসবুক, ইউটিউব বা বিভিন্ন জায়গায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ক্লিপ সামনে আসত। অনেক খেলোয়াড়ের ভিডিওই দেখেছি, কিন্তু রোনালদোর ভিডিওগুলো সবসময় আলাদা লাগত। তার শারীরিক ফিটনেস, গতি, গোল করার ধরন, আত্মবিশ্বাস, উদযাপন—সবকিছুতেই একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল।
২০১০-২০১২ সালের দিকে যখন ফুটবলকে একটু গভীরভাবে বুঝতে শুরু করি, তখনই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়। তার খেলা দেখেই ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রেমে পড়ে যাই।
তাই আজ যখন কেউ বলে, "রোনালদো হালান্ডের মতো খেলতে পারছে না", "এমবাপ্পের মতো স্পিড নেই", কিংবা "Lionel Messi-র মতো খেলতে পারছে না"—তখন প্রশ্ন জাগে, কীভাবে পারবে? একজনের বয়স ৪১+, আর অন্যদের বয়স অনেক কম। একই তুলনা করাটাই তো অন্যায়।
আজকের মেসি ভবিষ্যতে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলেনও, তখনকার মেসিও আজকের মেসির মতো থাকবেন না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
অনেকে রোনালদোর ম্যাচ রেটিং নিয়ে হাসাহাসি করেন। বলেন, "দশে সাত পেয়েছে", "বল কম পেয়েছে", "প্রভাব ফেলতে পারেনি"—ইত্যাদি। কিন্তু তারা হয়তো এটা ভাবেন না যে একজন ৪১+ বছর বয়সী** মানুষ এখনো বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই মাঠে, একই গতির ফুটবলে, একটি বড় দলের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন। এটিই তো অবিশ্বাস্য।
আমরা চারপাশে দেখি, এই বয়সে অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আগের মতো শক্তি ধরে রাখতে পারেন না। অথচ রোনালদো এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলছেন। এটা ছোট কোনো অর্জন নয়।
আমরা যারা রোনালদোর সমর্থক, আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো আমরা এখনো তাকে মাঠে দেখতে পাচ্ছি। হয়তো এটাই তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। হয়তো আর কখনো এই মঞ্চে তাকে দেখা যাবে না। তাই তার প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি উদযাপন আমাদের কাছে স্মৃতির অংশ।
হ্যাঁ, তার হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি নেই। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—Portugal national football team-এর বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেড়েছে রোনালদোর উত্থানের পর। পর্তুগাল আগে কখনো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
আজ পর্তুগালের দলে একের পর এক প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। ইউরোপের বড় বড় লিগে তারা নিয়মিত খেলছে। তাই যদি রোনালদো বিশ্বকাপ জিততে না-ও পারেন, তবুও আমি বিশ্বাস করি—একদিন পর্তুগাল অবশ্যই বিশ্বকাপ জিতবে।
হয়তো আজ আমরা সেই ট্রফি উদযাপন করতে পারিনি। কিন্তু ভবিষ্যতে, ইনশাআল্লাহ, পর্তুগালের সমর্থক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দও একদিন উদযাপন করব।সেই আশাতেই রইলাম।