03/10/2025
একজন মানুষের প্রতি সবসময় মুগ্ধতা ও তীব্র ভক্তি অনুভব করি। সায়্যিদুনা আব্দুল কাদির জিলানী রাহিমাহুল্লাহ।
শৈশবে পিতাকে হারালেন। এরপর কৃষি জমিতে অল্প কিছুদিনের কাজ করা। ক্ষেতের পশুর কথা বলা। সুদূর ইরানের জিলানে, বাসার ছাদে বসে দেখা আরাফাহর ময়দান। মায়ের অশ্রুসজল বিদায়। জ্ঞানের জন্য জ্ঞানের শহরের দিকে যাত্রা।
এরপর একের পর এক ইতিহাস রচিত হয়েছে তাঁর হাত ধরে। আমরা কি আসলে কিছু করি? নাকি আল্লাহ আমাদেরকে নির্বাচন করেন, সবকিছু প্রস্তুত করেন এরপর করান?
জ্ঞানী গুণীতে ঠাসা সেই বাগদাদ কিসের জন্য? আমার তো মনে হয় এমন একজন জ্ঞানান্বেষণে আসবেন বলেই। কিছুদিন আগে নিজামিয়া ছেড়ে ইমাম গাযালি নির্জনবাসে চলে গেছেন। কিন্তু হাম্মাদ আদ দাব্বাস রয়ে গেছেন। এই মানুষটি, যিনি কিনা পরবর্তীতে অসংখ্যবার আব্দুল কাদির জিলানীকে পরীক্ষা করবেন, নানান প্রশ্নের উত্তর দেবেন, আধ্যাত্মিক রহস্যের জগত তাঁর সামনে উন্মুক্ত করবেন, তিনি এখানেই কেন আছেন? কেন হেরাতে নয়, কেন মক্কায় নয়, কেন মিশরে নয়? আবু সাঈদ মুখাররিমি তিনিই বা কেন এখানে আছেন? কার জন্য আল্লাহ তায়ালা এদেরকে এখানে রেখেছেন?
কিছুই তো কাকতালীয় নয়।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষা। এমন অপেক্ষায় নির্জন খানকায় দরজা খুলে রেখে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়।
তিনি এরপর আসলেন। শরিয়াত-মারেফাত সর্বোচ্চ জ্ঞানার্জন করলেন। অযুত নিযুত মানুষ তাঁর মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্ত হলো। তাঁর খলিফারা বাytuk maকদিs জয় করলেন। এমনকি শত শত বছর পরেও তাঁর ফায়দ বারাকার মাধ্যমে হিদায়াতের ধারা জারি থাকলো। তাঁর বংশধররা সারা দুনিয়া ছড়িয়ে গেলেন। আমাদের দেশে শাহ আমনত, শাহ মিরান প্রমুখ আসলেন। কি বিরাট দুনিয়াজোড়া এক সালতানাত।
আল্লাহ তায়ালা আধ্যাত্মিক জগতের এমন বাদশাহী দিলেন, যা আজও শেষ হয়নি। শেষ হবেও না।