26/03/2025
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা এই রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত প্রকাশ করে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করা হলো:
১. লাইলাতুল কদরের মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
(সহিহ বুখারি: ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
২. লাইলাতুল কদর খোঁজার নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“তোমরা রমজানের শেষ দশ রাতের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।”
(সহিহ বুখারি: ২০১৭, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯)
৩. লাইলাতুল কদরে দোয়া
আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি জানতে পারি যে কোন রাত লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কোন দোয়া করব?”
তিনি বললেন, “তুমি বলবে: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাআফু আন্নি)”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।”
(সুনান তিরমিজি: ৩৫১৩)
৪. লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
"লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।"
(সূরা আল-কদর: ৩)
৫. লাইলাতুল কদরে ফেরেশতাদের অবতরণ
"সে রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে প্রত্যেক বিষয়ে অবতরণ করেন। এটি শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।"
(সূরা আল-কদর: ৪-৫)
লাইলাতুল কদরের রাত আল্লাহর অপার রহমতের রাত, যখন বান্দার জন্য ক্ষমা, দোয়া কবুল হওয়া এবং জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত থাকে। তাই, এই রাত ইবাদত-বন্দেগি, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করার মাধ্যমে কাটানো উচিত।