07/03/2021
ম্যারাথনের জানা অজানা তথ্য
ফেইডিপ্পিডেস এবং আজকের ম্যারাথন
ম্যারাথনের উৎপত্তি জানতে হলে আমাদের প্রথমেই যেতে হবে সেই প্রাচীন গ্রিসে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দাঙ্গায় সয়লাব এথেন্স শহরের অভিমুখে। পার্শ্ববর্তী পার্সিয়ানরা তখন নিজেদের শক্তিশালী সৈন্যদলকে লেলিয়ে এথেন্স দখলের চেষ্টায় প্রায় সফল হওয়ার পথে। সংখ্যালঘু এথেন্সবাসী, শক্তিশালী, ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পার্সিয়ান সৈন্যদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধই বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট ছিল না। এমতাবস্থায় বাইরের সাহায্য না পেলেই নয়।
সেই কালে যুদ্ধ চলাকালে গ্রিক সৈন্যরা পদাতিক দ্রুতগামী বার্তাবাহকদের উপর নির্ভর করতো। ঐ সমস্ত বার্তাবাহকেরা দুর্গম এলাকা, পাহাড়ি ভূখণ্ডগুলোতে বার্তা আদান-প্রদান করা সহ কূটনৈতিকের ভূমিকা পালনে দক্ষ ছিল। জেফ গ্যালোওয়ের মতে, তারা শুধু বার্তা আদান-প্রদানই করতো না, সাথে সাথে মূল পয়েন্টগুলোর উপর গুরুত্ব দিয়ে পুরো বার্তাটি প্রাপকের কাছে ব্যাখ্যা করা, প্রত্যুত্তর দেওয়ার সময় প্রাপকের চেহারারা অভিব্যক্তি, কণ্ঠের আবেগের বর্ণনাও গ্রিক সেনাপ্রধানদের কাছে পৌঁছে দিতো।
সময়টা খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ সাল। পার্সিয়ানদের সাথে গ্রিকদের যুদ্ধ চলাকালে ম্যারাথন শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত দুর্গ থেকে পার্সিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতা করার জন্য গ্রিসের দক্ষিণে অবস্থিত স্পার্টার দিকে বার্তাবাহক হিসেবে ফেইডিপ্পিডেস(Pheidippides)কে পাঠানো হয়। সে সময় স্পার্টা ডোরীয় গ্রিক সামরিক সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। পুরো দেড় দিন টানা দৌড়ে ফেইডিপ্পিডেস স্পার্টায় পৌঁছলেও স্পার্টানদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে হতাশার সাথে ম্যারাথনে ফিরে আসেন। এসেই শুনতে পান, বিশাল পার্সিয়ান সৈন্যদলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ম্যারাথনের যোদ্ধারা বড় জয় নিশ্চিত করেছে। কিংবদন্তি অনুসারে, এ সংবাদ এথেন্সে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফেইডিপ্পিডেসকে আবার রাস্তায় নামতে হয়। তিনি প্রায় ২৬ মাইল পুরোদমে দৌড়ে শহরের কেন্দ্রে পৌঁছান এবং "নানিকাক্যাম্যান" বা "আমরা বিজয়ী হয়েছি" বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ম্যারাথন রোড বরাবর অবস্থিত ফেইডিপ্পিডেসের ভাস্কর্য