06/04/2025
শুধু প্যালেস্টাইন না - সমগ্র আরব বিশ্বও যদি ধ্বংস হয় , সৌদি আরব সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যাবে না ।
সৌদি আরবের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক কি রকম তা একটু খোলামেলা করে বলি ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্যালেস্টাইনে গণহত্যায় কিছু দেশকে নেতানিয়াহু বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করে পতাকা দেখায় ।
তিনটা দেশের কথা আমার মনে আছে—
" যুক্তরাষ্ট্র , ভারত এবং সৌদি আরব...
জাস্ট ইমাজিন , নেতানিয়াহুর মতো ইহুদী সৌদিকে বন্ধু রাষ্ট্র ভাবে ।
কেনো?
আমেরিকা চায় মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ করুক ইসরায়েল । তাদের এই মধ্যপ্রাচ্য দখলে সবচেয়ে বড় শত্রু কে?
ইরান ।
আর মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ সৌদিও চায় । তারাও ইরানকেই সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে ।
ইহুদী রাষ্ট্র ও মুসলিম রাষ্ট্রের শত্রু
আরেকটা শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র — ইরান।
ইরানের সাথে সৌদির দ্বন্দ রয়েছে শিয়া সুন্নি নিয়ে । দ্বন্দ রয়েছে ঐতিহাসিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে।
ইরান পারমাণবিক শক্তি সঞ্চয় করছে । ইসরায়েল ভয় পাচ্ছে — সাথে ভয় পাচ্ছে সৌদিও ।
আর ইরানের সন্ত্রাসবাদের ভয় দেখিয়ে আমেরিকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে সৌদি আরবের কাছে ।
আর সৌদি আরব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আমেরিকায় বিনিয়োগ করছে তাদের খুশি রাখার জন্য।
সমগ্র আরব বিশ্ব এক হওয়ার বদলে সৌদি আরব তাদের মাথার উপর আমেরিকার হাত চায় ।
সম্প্রতি সৌদি আরবকে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যু্দ্ধ বন্ধ করার ভেন্যু হিসেবে ঠিক করেছে ।
ট্রাম্প অল্পদিনেই সৌদি সফর করবে । এই সফরের উদ্দেশ্য —
— আমেরিকায় সৌদি আরব ৬০০ বিলিয়ন বিনিয়োগ করবে । তা চুক্তি করা ।
— সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক উন্নয়ন।
— আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণ করা । এই চুক্তিতে আওতাভুক্ত দেশ সমূহ ইসরায়েলকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ।
আরব আমিরাত , বাহরাইন, মরক্কো , সুদান এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে ।
এই চুক্তি সম্প্রসারণ করা মানে আরও আরব বিশ্ব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া ।
এসব চুক্তি সম্পাদিত হইলে শুধু প্যালেস্টাইন না , সমগ্র আরব বিশ্বের কপালে খারাপি আছে ।
আগের মেয়াদে প্রথমবার সৌদি আরব সফরে ট্রাম্পের পরামর্শেই সৌদি নেতৃত্বধীন ৫ টি মুসলিম দেশ কাতারকে এক ঘরে করে দেয় ।
রমজানের মতো পবিত্র মাসে মুসলিম বিশ্ব কাতারে খাদ্য রফতানি বন্ধ করে কাতারকে সংকটে ফেলে দেয়।
তাই এবার যখন ট্রাম্প সৌদি আরব সফর করছে , আমি বলি, ভয় পাও মুসলিম বিশ্ব , ভয় পাও ।
আমেরিকা ইতোমধ্যে ভারতের দ্বীপ ডিয়েগো গ্রাসিয়াতেও ঘাঁটি গেড়েছে । ভারত মহাসাগরে দেখা যাচ্ছে আমেরিকার যুদ্ধ বিমান ।
আমেরিকা যদি ইরানে হামলা করে — সৌদি আরব চুপ থাকবে । ইরান পাল্টা হামলা চালাইলেও ইরানকে একাই যুদ্ধ করতে হবে ।
চীন যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করবে । রাশিয়ার সমর্থন পাবে ইরান ।
কিন্তু সমগ্র আরব বিশ্বই চুপ থাকবে । কেউ চুপ থাকবে অক্ষমতায় , কেউ চুপ থাকবে ভয়ে -
ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল–এর ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাস Nineteen Eighty-Four এ একটা বিখ্যাত উক্তি আছে —
" Big brother is watching you . "
আমেরিকা এই বিখ্যাত ডায়ালগকে খানিকটা পাল্টে দিয়েছে ,
" Big brother is ready to swallow you'
শিকারী হায়েনার ধূর্ততায় মহিষের দল আলাদা হইলো । নিঃসঙ্গ হইলো । তারপর তারা বেঁচে থাকতে শুরু করলো মরণের ভয় নিয়ে । তারা আশ্রয় চাইছে শত্রুর তাবুতে ।
শুধু প্যালেস্টাইনের দুঃখ দেখে যারা কাঁদছেন , তাদের বলি , সামনে মুসলিমদেরও একই ভাবে গণহারে অসহায় মৃত্যু দেখবেন ।
একদিন হয়তো মুসলিমরা জয়ী হবে , সেই জয় দেখার জন্য আপনি থাকবেন না ।
মুসলিম বিশ্ব এখন আমেরিকার পুতুল হয়েই নাচবে ।
ইতিহাস যখন এই আরব ইসরায়েল যুদ্ধের কথা লিখবে - তারা দেখতে পাবে , এখানে যুদ্ধ হয় নি। হয়েছে কেবল একচেটিয়া গণহত্যা ।
কারণ হিসেবে ইতিহাস লিখে রাখবে —
" আরব ইসরায়েলের এই যুদ্ধ জিতে নিতে আমেরিকা ব্যবহার করেছে আধুনিক অস্ত্রের চেয়ে বড় অস্ত্র -
মুসলিম বিশ্বের বিভাজন ও নিরবতা...