11/06/2020
💥💥✔🚩সিগারেট বা স্মোকিং এর সাথে বডি বিল্ডিং এর সম্পর্ক কতটুকু, কি কি সমস্যার সম্মূখিন হওয়া লাগতে পারে বডিবিল্ডিং করতে?
তা নিয়েই মূলত আজকের এই পোস্ট
স্মোকিং এর আসলে হাজারটা ক্ষতি। প্রচুর খারাপ দিক। শারিরীক মানসিক প্রচুর সমস্যার কারন এই স্মোকিং।
কিন্তু আজ আমি মূলত সেই সকল প্রধান কিছু বিষয় তুলে ধরবো যে গুলো শুধুমাত্র বডি বিল্ডিং এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।কারন যেহেতু বডিবিল্ডি নিয়েই পোস্ট লেখা।তাই অন্য কিছু টেনে এনে অলোচনা বাড়াবো না।
🚩 ✔পয়েন্ট ১ঃ
💥ওভার হার্টবিট - ১ নং এ যে কথাটা না বললেই না,তা হলো ওভার হার্টবিট। সিগারেট খেলে একজন মানুষের হার্টবিট সাভাবিক এর তুলনায় ৩০% বেড়ে যায়। যা আমরা যখন হাই রেপ্স বা কার্ডিও টাইপের ওয়ার্ক আঊট করতে যাবো,তখন অনেকটাই যন্ত্রনার কারন হয়ে দাড়াবে।
ব্যাপারটা কেমন, আরো খুলে বলি।
দেখুন যখন আমরা দৌড়ানো, বা সাইকেলিং, স্কিপিং বা যে কোন কার্ডিও টাইপ ওয়ার্ক আঊট করি তখন কিন্তু এমনিতেই আমাদের হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়। এর ঊপর সিগারেট খাওয়ার কারনে যদি আরো ৩০% বেড়ে যায়, তো ব্যাপারটা কতটা কস্টকর হবে বুঝতে পারছেন, এতে তো আপনি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরবেন। যেখানে আপনি ২ ঘন্টা ন্যাচারালি জিম করতে পারতেন সেখানে মাত্র ১ ঘন্টা তেই হাপিয়ে যাচ্ছেন আপনি। ধীরে ধীরে শক্তি বাড়ার তুলোনায় ঊল্টো কমতেছে, এভাবে চললে একসময় জীম আপনার কাছে একটি বিরক্তির কারন হয়ে দাড়বে কোন একসময়, আর এর থেকে ডি মোটিভেট হয়েই আপনি পা পিছিয়ে নিবেন এই বডি বিল্ডিং থেকে।
🚩✔পয়েন্ট নং ২ঃ
💥মাসেল এ অক্সিজেন সরবারহ কমে আসাঃ
স্মোকিং এর জন্য বডি মাসেল এ ঠিক মত অক্সিজেন সাপ্লাই করতে ব্যার্থ হয়। এতে বডির ব্লাড সার্কুলেশন ও কমে যায়,ফলে মাসেল ঠিক মত রিকোভার ও পাম্প করতে অনেক ব্যাঘাত ঘটে। যার জন্য আপনি বডিবিল্ডিং এ আপনার কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়,অর্থাৎ যতটুকু প্ররিশ্রম করছেন, তাতে যে রেজাল্ট আসার কথা তা থেকে বেশ কম আসে।
এভাবে নিজের কাছে আপনি নিজেই হেরে যাচ্ছেন প্রতিদিন। আর প্রতিনিয়ত পিছিয়ে যাচ্ছেন দুর বহুদুর।
🚩✔এনার্জি লসঃ
💥স্মোকিং আপনার বডির এনার্জি লস করে। আস্তে আস্তে কমে আসে আপনার স্টামিনা। অল্পতেই হাপিয়ে যান আপনি। অবশেষ এ আপনি ডিমোটিভেট হয়ে যান। এমনিতেই দেখুন, একজন বিগেনার অবস্থায় কতই না খাদ্য দিতে পারে নিজেকে,কত না খরচ এই বডিবিল্ডিং এ। এত কস্ট করে টাকা নস্ট করে খাদ্য খেয়েও যদি পর্যাপ্ত রেজাল্ট না পান, তাতে এটি কিন্তু একদিক থেকে আপনার অর্থ অপচয় ও বলা যায়।
🚩🚩তো এবার বলি কি কি পরিবর্তন আসবে যদি আপনি এই সিগারেট খাওয়া অফ করে দেন তোঃ
ধূমপান ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় শরীরের সব অঙ্গ। ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে জানান ডাক্তাররা। এছাড়া সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার পর আমাদের শরীরে যেসব পরিবর্তন হয় সেগুলো হলো-
১. সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই আমাদের রক্তচাপ কমে গিয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়। হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
২. সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার শরীরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায় ফুসফুস থেকে ক্ষতিকারক ও অস্বস্তিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হবে।
৩. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসে জমে থাকা নিকোটিন শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। ফলে ঘ্রাণ ও স্বাদ বোধ বাড়বে।
৪. ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ৩ দিনের মধ্যে আপনার ব্রঙ্কিয়াল টিউব প্রসারিত হবে। ফলে অনেক স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে পারবেন, এনার্জি ফিরে আসবে, স্ট্রেস কমবে।বেশি খন ধরে ওয়ার্ক আঊট করতে পারবেন।
৫. ২ সপ্তাহের মধ্যে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়ে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে হাঁটাচলা করতে আগে যে হাঁফিয়ে উঠতেন, এই সময় থেকে তা কমে গিয়ে এনার্জি ফিরে পাবেন।
৬. ৩-৯ মাসের মধ্যে বুঝতে পারবেন আপনার আর নিশ্বাস নিতে বিশেষ কষ্ট হচ্ছে না। ধূমপানের কারণে যে খুকখুকে কাশি হতো তাও অনেক কমে এসেছে। এই সময় থেকে ব্রঙ্কিয়াল টিউবের ফাইবার আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে থাকে। যা ফুসফুস থেকে ব্যাকটেরিয়ার দূর করে পরিষ্কার রাখে।
৭. ধূমপান ছাড়ার ১ বছর পরও যারা কোনও দিন ধূমপান করেননি তাদের তুলনায় আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে দ্বিগুণ।
৮. সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার ৫ বছরের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। কোনও দিন ধূমপান না করলেও যে ঝুঁকি থাকে, ৫ বছর পর ঝুঁকির পরিমাণ ঠিক ততটাই কমে আসে।
৯. ধূমপানের ফলে ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর ১০ বছর সময় লাগে ফুসফুসের আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে।
তো আশা করি, এত কিছু জানার পরে হয়ত আজ থেকেই সরে যাবেন এই ধুমপান থেকে। তবে হ্যা, সবার ব্লাড লাইন এক না। ধুমপান করে ও অনেক এ বডিবিল্ডার হয়েছেন। তবে তারা যে সম্পূর্ন সুস্থ তা না। হাজার হাজার সমস্যা ভিতরে পুষে রেখে এগিয়ে চলছে তারা। এবং তাদের এই অবস্থানে আসতে যে টাইম লেগেছে, যদি সে সিগারেট না খেতো তো এর অর্ধেক সময়েই তা বানাতে সক্ষম হতো। তাই আমি আবারো বলবো,কারো সাথে নিজের তুলনা না করে, আজই ধুমপান ছেড়ে, সুস্থ জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। দেখবেন বডিবিল্ডিং আপনার জন্য আরো ইজি হয়ে গেছে।
সবার সুস্বাস্থ্য কামনায়
বিপ্লব দেবনাথ শুভ