13/04/2026
যি*নার ধারে কাছেও যেও না:- কুরআন ও হাদিসের কঠোর সতর্কবার্তা.!
ইসলাম মানুষের চরিত্র, লজ্জা ও পবিত্রতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। যেসব গুনাহ মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়, যিনার গুনাহ তার মধ্যে অন্যতম। যিনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি সমাজ, পরিবার এবং ঈমান—সবকিছুকে ধ্বংস করে দেয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে যিনার ভয়াবহ পরিণতি বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ এই ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
🔸 যি*না কী? শুধু অবৈধ শারীরিক সম্পর্কই কি যিনা?
অনেকেই মনে করে, কেবল বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কই যিনা। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে যিনার অর্থ অনেক ব্যাপক। হাদিসের ভাষায় যিনা বহু স্তরে বিভক্ত, এবং এর সূচনা হয় অন্তর ও দৃষ্টির গুনাহ দিয়ে। মূল যিনায় পৌঁছানোর আগেই মানুষ ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার যিনায় লিপ্ত হয়ে পড়ে।
▫️হাদিস অনুযায়ী যি*নার বিভিন্ন প্রকার
রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমেও যিনা সংঘটিত হয়। বেগানা নারী বা পুরুষের প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়া হলো চোখের যিনা। যৌনতা সম্পর্কিত অশ্লীল কথাবার্তা বলা বা শোনা হলো জিহ্বা ও কানের যিনা। বিবাহ ছাড়াই কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা। ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা। এমনকি যিনার কল্পনা করা, আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা—এগুলো মনের যিনা। শেষ পর্যন্ত লজ্জাস্থান হয় এই সব কিছুকে বাস্তবে পূর্ণতা দেয়, অথবা তা থেকে বিরত থাকে।
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ)
🔸 আমাদের ভয়ংকর ভুল ধারণা
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা যি*নার এই সব প্রাথমিক স্তরকে গুনাহই মনে করি না। আমরা শুধু শেষ ধাপকেই যিনা বলে থাকি। অথচ চোখের দৃষ্টি, কথাবার্তা, চলাফেরা এবং কল্পনার মাধ্যমেই শয়তান ধীরে ধীরে মানুষকে মূল যিনার দিকে নিয়ে যায়। আত্মসমালোচনা করে দেখা উচিত—আমরা কি এসবের কোনো একটির সাথেও জড়িত নই?
🔸 যি*না স্পষ্ট হারাম—কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা যি*নাকে শুধু হারামই করেননি, বরং এর ধারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন—
“তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।”
— (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২)
এই আয়াত প্রমাণ করে, যিনার দিকে নিয়ে যায়—এমন সব রাস্তা, পরিবেশ ও সম্পর্ক থেকেও দূরে থাকা ফরজ।
🔸 যি*নার ভয়াবহ শাস্তি: নবী ﷺ–এর স্বপ্ন
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ভয়ংকর স্বপ্নের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি একটি চুলা সদৃশ গর্ত দেখেছেন, যার নিচে আগুন জ্বলছিল এবং ভেতরে নগ্ন নারী-পুরুষ চিৎকার করছিল। আগুনের শিখা উঠলে তারাও উপরে উঠে আসছিল, আর আগুন কমলে আবার নিচে নেমে যাচ্ছিল। এ অবস্থা চলতেই থাকছিল। যখন তিনি জিবরাইল (আ.)–কে জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা—তখন উত্তর দেওয়া হলো, এরা হলো অবৈধ যৌনাচারকারী নারী ও পুরুষ।
— (সহিহ বুখারি)
🔸 যি*নাকারীর দুর্গন্ধে জাহান্নামবাসী অতিষ্ঠ হবে
হাদিসে আরও এসেছে, যি*নাকারীর লজ্জাস্থান থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হবে, যা সহ্য করতে না পেরে জাহান্নামবাসীরাও অস্থির হয়ে উঠবে। তাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য দেওয়া হবে পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানীয়। এটি কেবল শাস্তি নয়; বরং দুনিয়ায় গোপনে করা পাপের প্রকাশ্য লাঞ্ছনা।
▫️আমাদের করণীয়
আজ সমাজে প্রেমিক-প্রেমিকা নামে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলা হয়েছে, অথচ এসব সম্পর্কই যিনার দিকে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় দরজা। একজন মুমিনের উচিত দৃষ্টি সংযত করা, কথাবার্তায় পবিত্রতা বজায় রাখা, অশ্লীল পরিবেশ ও সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা এবং হালাল বিবাহের পথে অগ্রসর হওয়া।
▫️উপসংহার ও দোয়া
যি*না শুধু একটি গুনাহ নয়, এটি ঈমানকে ধ্বংস করার এক ভয়ংকর পথ। তাই যিনার প্রতিটি স্তর থেকে নিজেকে রক্ষা করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন, চোখ, মন ও অন্তরকে পবিত্র রাখার তাওফিক দান করুন—আমিন।