02/06/2026
তাফাক্কুর, তাদাব্বুর, ধ্যান বা মেডিটেশন আসলে একই বিষয়।
সেই অর্থে ধ্যান বা মেডিটেশন কোরআন এরই শিক্ষা।
ইসলাম এর অন্যতম রুকন হলো নামাজ। সুরা মাউন এর ৪-৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে দুর্ভোগ সেই নামাজীদের জন্য যারা সচেতন ভাবেই নামাজে অমনোযোগী শুধু লোক দেখানোর জন্য নামাজে শামিল হয়...
তিরমীজ শরিফে বলা হয়েছে, " একাগ্রচিত্ততা ( হুদরিল ক্বালব ) ছাড়া নামাজ আল্লাহ গ্রহন করেন না। " তাই আমরা বলতে পারি, নামাজ কবুল হবার অন্যতম শর্ত হচ্ছে একাগ্রচিত্ততা বা মনোযোগ ।
সূরা সাবা, আয়াত ৪৬ এ বলা হয়েছে
قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُم بِوَاحِدَةٍ أَن تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَىٰ وَفُرَادَىٰ ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا ۚ مَا بِصَاحِبِكُم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ لَّكُم بَيْنَ يَدَىْ عَذَابٍ شَدِيدٍ
“(হে নবী! ওদের) বলো, আমি তোমাদের একটি মাত্র পরামর্শ দিচ্ছি—
এককভাবে বা যৌথভাবে আল্লাহর সামনে সচেতন হয়ে দাঁড়াও।
নিজের গভীরে ধ্যানে নিমগ্ন হও, (তাহলেই উপলব্ধি করতে পারবে) তোমাদের সঙ্গী আদৌ উন্মাদ নয়।
আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সে একজন সতর্ককারী মাত্র।”
এখন আমরা যদি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি এভাবে নামাজ পড়তে পাড়ি? তাহলে অনেকের উত্তরই হবে, " না, পাড়িনা।" কারন, আমাদের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত, নামাজে দাড়ালেই দুনিয়ার সব চিন্তা চলে আসে।
এখন আমি যদি প্রশ্ন করি, আমাদের কি মনোযোগ বাড়ানো উচিৎ?
এক বাক্যে সবার উত্তর হবে, "হ্যাঁ। উচিৎ।"
তাই আমি বলবো নামাজ তো বটেই, যে কোনো কাজে মনোযোগ বাড়াতে আমাদের দরকার অনুশীলন।
আর এই মনোযোগ বাড়ানোর বৈজ্ঞানিক স্বীকৃত কৌশলই হলো ধ্যান বা মেডিটেশন।
২০০৫ সালের একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাদের ব্রেইন এর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স এবং রাইট এন্টিরিয়র ইনসুলা এই দুইটি অংশের ঘনত্ব বাড়ে। আর এই দুইটি অংশই সরাসরি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাদের যে কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। তারা সহজেই নামজেও মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হন।
আমাদের প্রিয় রাসুল ( সঃ ) নিজে হেরা গুহায় ধ্যান বা মেডিটেশন করতেন। নবুয়্যত প্রাপ্তির আগে প্রতি রমজানে চলে যেতেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এই ভাবে নিরবে, নিভৃতে ধ্যান করতেন। তিনি ধ্যান করতেন এবং ধ্যান কে গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু রাসুল ( সঃ ) উনার অনুসারীদের ওপর এই কঠোর অনুশীলনের ধ্যান চাপিয়ে দেন নি। কাউকে করতে নিষেধ করেন নি। তাই যে কেউ করতে পারেন।
আল্লামা শেখ ইউসুফ আল কারযাভী ( ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহ ) বলেছেন ধ্যান একটি উচ্চস্তরের ইবাদত।
বিভিন্ন ধর্মের মনিষীরাও ধ্যান করতেন বা করছেন। ধ্যান বা মেডিটেশন কোনো ধর্ম মেটার করেনা। আপনি আপনার মতো করে করতে পারেন। তবে মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের মতো মন্ত্র পাঠ যার অর্থ ইসলামের সাথে সাংঘার্ষিক, তা পাঠ না করাই সর্বোত্তম।
প্রকৃত ঈমানদার বা মুত্তাকী হতে চাইলে ধ্যান আপনাকে সাহায্য করবে।
ধ্যান আপনার কাজে মনোযোগ বাড়াবে, প্রডাক্টিভিটি বাড়াবে, আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। সর্বোপরি আপনাকে পরিবর্তন করবে।
নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইলে TriKayaএবং PranOra সাথে থাকুন।