I was Always READY to say ‘It’s OKAY’, but You NEVER said ‘Sorry'

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • I was Always READY to say ‘It’s OKAY’, but You NEVER said ‘Sorry'

I was Always READY to say ‘It’s OKAY’, but You NEVER said ‘Sorry' Community Page for Sharing Thoughts on different topics.

Great ACHIEVEMENT sir! We are Proud of you..!! 💀🔥
20/06/2026

Great ACHIEVEMENT sir! We are Proud of you..!! 💀🔥

20/06/2026

সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অর্থ, সম্পদ কিংবা হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছুই হয়তো আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় আর কখনোই ফিরে আসে না। তাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।

সময় ব্যবস্থাপনা শুধু কাজের তালিকা তৈরি করা নয়; বরং এটি হলো নিজের লক্ষ্য, দায়িত্ব এবং অগ্রাধিকারগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে নেওয়ার একটি দক্ষতা। যারা সময়কে গুরুত্ব দেয়, তারা সাধারণত তাদের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে পারে, নতুন সুযোগ গ্রহণ করতে পারে এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে সময়ের অপচয় ধীরে ধীরে আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় ব্যয় করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পিছিয়ে যায়, চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সম্ভাবনাময় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই প্রতিদিনের কাজগুলো পরিকল্পনা করে করা, গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

মনে রাখতে হবে, সফল মানুষদের সবার কাছেই দিনে ২৪ ঘণ্টা সময় থাকে। পার্থক্য শুধু এই যে, তারা সময়কে কাজে লাগায়, আর অনেকেই সময়কে অবহেলা করে। তাই আজ থেকেই সময়ের মূল্য বুঝুন, প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তুলুন এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যান।

কারণ সময় হারালে শুধু সময়ই হারায় না, হারিয়ে যায় অসংখ্য সম্ভাবনা ও সুযোগও।

17/04/2026

লিখেছেন ইরফান সাদিক :

One thing about social media is that it brings out the worst in people.
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের সবচেয়ে খারাপ যে বৈশিষ্ট্য, সেটাকে বের করে আনে। মানুষ সত্যিকার অর্থে কেমন, তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটা প্রোফাইলের আড়ালে, যেখানে কেউ আপনাকে ছুঁতে পারবে না, কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—সেখানেই কিছুটা বোঝা যায় সত্যিকার অর্থে আপনি অন্তরে কী লালন করেন।
ফেসবুকে আসতে আমার প্রায় সময় আতঙ্কগ্রস্থ লাগে। কোনোদিন সকাল থেকে ফেসবুকে না ঢুকলে, বিকেলে যদি ঢোকার কথা মনে হয়, কেমন যেন ভয় লেগে ওঠে। অশ্লীল গালিগালাজ, ব্লেইমিং, মিথ্যা অপবাদ, অশ্লীলতা, ঝগড়া, কটাক্ষ—কী নেই! বেসিক ডিসেন্সি, আত্মমর্যাদা, সম্মানের মত সাধারণ বিষয়গুলো যেন এখানে বড্ড অপরিচিত।
এমন অনেক মানুষ আছে, বাস্তব জীবনে যাদের আচরণ খুবই চমৎকার। কিন্তু অনলাইনে সেই একই মানুষের কথা ও আচরণ দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। আবার অনেকে আছে, যার মুখ থেকে মানুষের সামনে ভয় ও নার্ভাসনেসে দুটো কথা বের হয় না, কিন্তু অনলাইনে নানা জায়গায় গালিগালাজ, কটাক্ষ এবং বাকা কমেন্ট করে বেড়াচ্ছে।
আবার কেউ যদি এসব না-ও করে, তার এসব দেখতে হয়, হজম করতে হয়, এঙ্গেইজড হয়ে যেতে হয়। যা-ই বলেন, গালি, কটাক্ষ সহ্য করবেন না—তা হবে না। এসব দেখতে দেখতে একে তো অন্তর বক্র হয়ে যাবে, অন্যদিকে এগুলোর জবাব দিতে গেলে কষ্ট, রাগ, বিরক্তি মিলে ধীরে ধীরে আপনি তাদের পর্যায়ে নেমে যেতে থাকবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে গেছে আমাদের কাছে গেলাও যায় না, ফেলাও যায় না ধরণের বিষয়। মজ/লুমের মিডিয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া। এখানেই আমরা সাধারণ মানুষের সাথে এঙ্গেইজড হতে পারি, নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারি। অন্যদিকে এ সংস্কৃতি অনেক ভালো বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে দেয়, খারাপটাকে বের করে আনে, টক্সিসিটি তৈরি করে।
তাই সোশ্যাল মিডিয়া চালানোর ক্ষেত্রে কয়েকটা রুলস ফলো করা জরুরি। আমি নিজেও যে পুরো করে উঠতে পারি তা না, কিন্তু চেষ্টা করি। রুলস—
১. এমন বিষয়ে কথা না বলা, যা আমি ভালোভাবে জানি না। শুধু তথ্য জানাই যথেষ্ট না, এ ব্যাপারে বয়ান কী হবে তাও জানা জরুরি।

২. যে বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমাদের বয়ানে সবাই কথা বলছে, গুরুত্বপূর্ণ কথা চলে এসেছে, সে বিষয়ে কথা আবার না বলা। তবে কথা হচ্ছে, তবে বয়ান আসে নাই, কিংবা অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি (যেটা পাবলিক ফিগারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)—এমন ইস্যু ভিন্ন।

৩. সম্ভব হলে বুঝদার কোনো সিনিয়র কারো তত্ত্বাবধানে ফেসবুক চালানো। যিনি ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টে নজর রাখবেন ও ভুল করলে তা ধরিয়ে দেবেন।

৪. অতিমাত্রায় হাসিতামাশা, কথা বলা অন্তরকে মেরে ফেলে। অনেক সালাফের কওল থেকে এটা প্রমাণিত। তাই অনলাইনে অতি মশকারি, অতিমাত্রায় মিমিং, নানা জায়গায় দরকার-বেদরকারে কমেন্ট করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।

৫. সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় দেওয়া লিমিটেড করে ফেলা। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ঢোকা ও রিয়েলিস্টিক টাইম সেট করা। কী পরিমাণ সময় এখানে যাচ্ছে তা ট্র্যাক করতে Your Hour এপ ব্যবহার করা যায়।

৬. সম্ভব হলে ফোনে ফেসবুক এপ না রাখা। ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করা।

৭. সকল ‘র‍্যান্ডম’ রিলস, শর্টস একেবারেই বাদ দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন হলে StayFree এর মত এপ ব্যবহার করা যায়। সেখানে এসব এপ থেকে রিলস, শর্টস ব্লক করে দেওয়ার অপশন আছে।

৮. টাইম ওয়েস্ট করতে ইচ্ছে হলে এক্স, ফিডলি বা সাবস্ট্যাকে করা।
এগুলো আমার মাথায় আসা অল্প ও সহজ কিছু রুলস। এ কয়েকটা অনুসরণ করতে পারলে আশা করি ইনশাআল্লাহ অনেকটুকু সমস্যা ব্যক্তি পর্যায়েই অনেকটা কমে আসবে। বেশিরভাগ মানুষই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে না—এটাও সত্য। অন্তত নিজে বেঁচে থাকা জরুরি এসব থেকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তৌফিক দিন।

30/08/2025

"আপনার জন্য কেউ অপেক্ষায় থাকে রোজ৷ শুরুর দিকে আপনিও ছুটে যেতেন তার কাছে। খুব করে তারে ধরে রাখতে চাইতেন।

একদিন টের পেলেন, আপনি তার কাছে ছুটে না গেলেও সে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। আপনি বুঝে গেলেন যে শত অবহেলা করলেও তার আকুতি একটুও কমবে না।

ঠিক তখনই আপনি ইফোর্ট দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। ভাবলেন, ইফোর্ট ছাড়াই যদি সব হয়, কি দরকার ইফোর্ট দেওয়ার?

নিজের অজান্তেই অতটা সৌভাগ্যকে আপনি পায়ে ঠেললেন। আপনার জীবনের একটা বিশাল আশীর্বাদকে আপনি তুচ্ছ করলেন, অবহেলা করলেন।

তারপর কোনো এক সকালে চোখ মেলে দেখবেন, আপনার জীবনের সমস্ত আশীর্বাদ হুট করে নাই হয়ে গেছে। আপনি চোখ কচলাবেন, স্রষ্টার কাছে মিনতি করবেন, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইবেন; কিন্তু কিছুই আর ফিরে আসবে না, যেমন করে আপনি ফিরে যান নি এতদিন।

এক মুঠো ভাত, একটুখানি যত্ন, দু'টো মিনিট সময় আর খানিকটা ভালোবাসার অভাবে মানুষ ছটফট করছে প্রতিদিন। অথচ আপনি সমস্ত কিছু পেয়েও ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। অমন অকৃতজ্ঞকে ভাগ্যও ভালোবাসে না।

স্রষ্টা দু'হাত ভরে দিলে তা শক্ত করে আগলে রাখতে হয়। ঔদ্ধত্য আর অবহেলায় সব হারিয়ে ফেলার পর বাকি জীবন ঐ দু'হাত তুলে হাজার প্রার্থনা করলেও কিচ্ছু ফেরত আসে না।"

Mushfiqur Rahman Ashique

| লাইফস্টাইলের উপাসনা জীবনে অপমান বয়ে আনে |২০০৭ সালের কথা। তখন আমি যে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতাম সেটিতে আমার চাকুরির বয়স প...
09/06/2025

| লাইফস্টাইলের উপাসনা জীবনে অপমান বয়ে আনে |

২০০৭ সালের কথা। তখন আমি যে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতাম সেটিতে আমার চাকুরির বয়স প্রায় চার বছর। ম্যানেজমেন্ট কিছুদিন ধরে আমার সাথে কিছুটা বিমাতাসূলভ আচরণ করছে। কারণ খুঁজতে লাগলাম। দেখলাম—এর কারণ হলো, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর আমার প্রভাব। তাদের ওপর আমার প্রভাব না-কি ম্যানেজমেন্টের চেয়ে অধিক। কর্মীরা যে-কোনো বিষয়ে আমার কথা শুনতে আগ্রহী। যে-কোনো সমস্যা সমাধানে আমার কাছে আসে। মূলত এর কারণ ছিল—আমি তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও অধিকার নিয়ে কথা বলতাম।

প্রতিষ্ঠানটি নানা রকম অপব্যয়মূলক কার্যক্রমে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে কৃপণতা না করলেও কর্মীদের বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে ছিল একেবারেই উদাসীন। কিছুদিন পরপর সোনারগাও শেরাটনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রোগ্রাম করে, অথচ বছর শেষে কর্মীদের কোনো বেতন বাড়ে না। ৫০০ টাকা বেতন বাড়াতে হলেও দেন-দরবার করতে হয়। এমন কর্মীও দেখেছি যার তিন-চার বছরের মধ্যেও এক টাকা বেতন বাড়েনি। এ সকল ব্যাপারে আমি দায়িত্ব ও ঝুঁকি নিয়ে কথা বলার কারণে ম্যানেজমেন্ট আমার প্রতি নাখোশ।

সেদিন ছিল সম্ভবত মাসের শেষ দিন। অফিস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ডিজি সাহেব আমাকে তার রুমে ডাকলেন। তার রুমে কাজের প্রয়োজনে আমাকে প্রায়ই যেতে হতো। তাই আমি স্বাভাবিকভাবেই গেলাম। কিন্তু তিনি আমাকে চমকে দিয়ে বললেন, ‘আপনি আমাদের সাথে এখন থেকে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, এতে আপনি বেতনের চেয়ে অনেক বেশি উপার্জন করতে পারবেন, আবার ৯-৬ টা অফিসের বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।’

আমি মিনিটখানেক চিন্তা করলাম এবং এ কথার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিটা বুঝতে চেষ্টা করলাম। তারা আমাকে সরাসরি ফায়ার করার চিন্তা করতে পারেনি; কারণ, প্রতিষ্ঠানে আমার কন্ট্রিবিউশনটা খুব ভাইটাল; এটাকে তারা হারাতে চাচ্ছে না। আবার একইসাথে আমাকে অফিসের নিয়মিত কর্মী হিসেবে রেখে আমার উত্থাপিত নানা বিষয়ের সামনেও পড়তে চাচ্ছে না আর।

আমি এক মিনিট পর ডিজি স্যারের চোখে চোখ রেখে বললাম, ‘স্যার, আমাদের কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী আমাকে টার্মিনেট করতে কিংবা আমার পক্ষ থেকে জব ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের একটা আগাম নোটিশের শর্ত আছে; আপনি আজ থেকে তিন মাস গণনা শুরু করবেন।’

আমার আচমকা এমন কথায় স্যার হকচকিয়ে গেলেও সামলে নিলেন। এমন একটা ভাব করলেন যে তিনি আসলে এটা বলতে চাননি। একইসাথে আমি এমন একটা আত্মমর্যাদাপুর্ণ অবস্থান নিয়ে নেবো সেটাও ভাবতে পারেননি; কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলতে লাগলেন, ‘আরে ওই প্রজেক্টের কাজের কী হবে, এইটা কিন্তু তোমাকে আমার চুক্তিভিত্তিক হলেও করে দিতে হবে… ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বেশ ঠান্ডা মাথায় বললাম, ‘স্যার চুক্তিভিত্তিক কাজের ব্যাপারটা নিয়ে তিন মাস পর কথা হবে, তখন আপনিও আমার বস থাকবেন না, আমিও আপনার এমপ্লয়ি না; আপনি চাইলে কাজ দেবেন, আমি চাইলে করব ইন-শা-আল্লাহ।’

কথা শেষ করে সালাম দিয়ে যথেষ্ট ভদ্রতার সাথে আস্তে করে রুম থেকে আসি এবং একেবারে শেষ সময়ে বিদায় নেবার আগ পর্যন্ত সহকর্মীদের কাউকে বুঝতে দিইনি যে, আমি শীঘ্রই কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার হলো, যে-কোনো কারণেই হোক, ডিজি সাহেবও কাউকে ব্যাপারটি বলেননি বা বলতে পারেননি।

অনেকের মনে হতে পারে, নিশ্চয়ই আমি বেশ ধনবান পরিবারের সন্তান, শখের বসে চাকুরি করতাম; তাই কেয়ার করিনি। কিন্তু না। আমি যথেষ্ঠ অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান, তবে অন্যের কাছে হাত পাততে হতো না, আলহামদু লিল্লাহ। ঠিক এই ঘটনার কিছুদিন আগে আমার বাবা যে সামান্য চাকুরিটা করতেন সেটারও মেয়াদ শেষ করে তিনি অবসরে আসেন। সংসারের বড় সন্তান হিসেবে গোটা সংসারের দায়ভার তখন আমার একার কাঁধে। আমার এই চাকুরিটা ছাড়া এক পয়সা ইনকামের আর কোনো রাস্তা ছিল না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে এই উপার্জন দিয়েই কোনোমতে ঢাকা শহরে বসবাস করতাম; আবার মাস শেষে যথাসম্ভব বাড়িতে খরচের টাকা পাঠাতাম।

চাকুরি ছেড়ে দেওয়ার আগেই বাসা ছেড়ে দিলাম। তিন-চার বছর ঢাকাতে রাখার পর স্ত্রী-কন্যাকে আবার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মেসে উঠে গেলাম। চুক্তিভিত্তিক একটা প্রজেক্ট নিয়েছিলাম সেই প্রতিষ্ঠানেরই, কিছুদিন সামাল দেওয়ার জন্য। আলহামদু লিল্লাহ, সেটা তিন-চার মাসের পরিশ্রমে প্রায় এক বছরের ইনকাম চলে এসেছিল। প্ল্যান ছিল যতদিন নতুন কিছু না করে উঠতে পারি এই অর্থ দিয়ে সামাল দিয়ে চলব।

পরিবার-সহ একবার দাম্পত্য জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পর ব্যাচেলর থাকার কষ্টটা কেবল সে-ই বুঝবে যে এটার মধ্য দিয়ে গেছে। সেভাবেই আছি, চুক্তিভিত্তিক প্রজেক্টের কাজ করি আর নানা দিকে ট্রাই করি। এ সময় আমার বিলেতি এক বন্ধুকেও জানিয়েছিলাম ব্যাপারটি।

দু’মাসের মাথায় সেই বন্ধু মারফত বিলেত থেকে একটি চ্যারিটি অর্গানাইজেশন থেকে একটি চাকুরির প্রস্তাব পেলাম। ঢাকাতে থেকেই তাদের কাজ করতে হবে। বেতন আগের প্রতিষ্ঠানের চেয়ে প্রায় চারগুণ।
আগের বাসার চেয়ে অনেক বড় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করে আবার ফ্যামিলি নিয়ে এলাম মাত্র তিন মাসের মাথায় এবং জীবনধারা আগের চেয়ে বস্তুগত দিক থেকে বেশ উন্নতই হলো বলা যায়।

আজ এক যুগেরও বেশি সময় পর যখন এই গল্পটা আমি লিখছি এটা আমাকে অসম্ভব একটা ভালো অনুভূতি দিচ্ছে। নিজের প্রতি আস্থার অনুভূতি দিচ্ছে। আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তুলছে। আত্মসম্মানের ব্যাপারটাকে মনের আরো গভীরে প্রোথিত করছে। সর্বোপরি একটা পবিত্র ভালো লাগা গোটা হৃদয়-মনজুড়ে কেমন অনুরণিত হচ্ছে। আশা করি এই আত্মসম্মানবোধ আগামী দিনে সামনে এগিয়ে যেতে আমার অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে যাবে—যতদিন বেঁচে আছি ইন-শা-আল্লাহ।

গল্পটা কেন বললাম? কিছুদিন আগে ফাহাম আব্দুস সালাম তার একটা ভিডিও বক্তব্যে এমন একটা কথা বলেছিলেন যে, ‘শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজের কাছে মা’বুদ হচ্ছে তাদের লাইফস্টাইল; তারা লাইফস্টাইল রক্ষার স্বার্থে হেন নিকৃষ্ট কাজ নেই যা করতে পারে না।’ হুবহু কোট করছি না, বক্তব্যটা এমনই ছিল।

আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যত রকম অপমান, অপদস্থতা, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা রয়েছে এর অন্যতম একটা কারণ হলো—লাইফস্টাইলের পূজা।

পৃথিবির সকল স্বৈরাচার, সকল মাফিয়া গ্যাং লিডার, সকল অনাচারী এস্টাবলিশমেন্ট টিকে থাকে একদল লাইফস্টাইল পূজারীর সহযোগিতায়। অর্থের বিনিময়ে হেন নিকৃষ্ট কাজ নেই যা তারা করে না; আর তা জায়েজ করার করার জন্য দাত কেলিয়ে বলবে, "আমরা তো চাকুরি করি, আমাদেরকে উপরের নির্দেশ পালন করতে হয়"। যে ব্যক্তি বেতন তথা অর্থ পাওয়ার কারণে জেনেশুনে অন্যায় নির্দেশ পালনে সম্মত হয়, সে যতই শিক্ষিত আর স্যুটেড-বুটেড ভদ্দর লোক সাজুক না কেন, সে মানুষের কায়ায় অমানুষ, সে এই সমাজের সবচেয়ে অসভ্য আর ইতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই নিকৃষ্ট মানবকিটগুলো যদি না থাকত কোনো স্বৈরাচার কিংবা মাফিয়া তার এস্টাবলিশমেন্ট টিকিয়ে রাখতে পারত না।

মানুষ যখন একটা নির্দিষ্ট লাইফস্টাইলের পূজা করতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং সেটা ছাড়া তার জীবন কল্পনা করতেও পারে না, তখন তার সামনে সেই লাইফস্টাইলের মুলো ঝুলিয়ে তাকে দিয়ে যে-কোনো অন্যায় করিয়ে নেওয়া যায়। লাইফস্টাইল হারানোর হুমকি দিয়ে যে-কোনো রকম অপমান করতে পারবেন—সে মেনে নেবে। লাইফস্টাইল রক্ষা নিশ্চয়তা দিয়ে যে-কোনো লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিতে পারবেন—সে তা সয়ে যাবে। সে কেবল তার লাইফস্টাইল রক্ষার জন্য সবকিছু মেনে নেবে। এদের লাইফস্টাইল হয়তো রক্ষা হয়, কিন্তু আমি নিশ্চিত এরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রেখে নিজেকে বলতে পারবে না ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’

একজন মানুষ যদি আত্মসম্মান নিয়ে না বাঁচে, আত্মমর্যাদার সুরক্ষায় বুক চেতিয়ে না দাঁড়াতে পারে, তবে সে তার সন্তানদেরকে কীভাবে বলবে, ‘বুকে সাহস রেখে চলবে, ন্যায়ের পথে থাকবে!’

মহান আল্লাহ, সপ্ত আকাশ ও যমিনের মালিক, গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্যের মালিক, মহান আরশের অধিপতি বলেছেন, ‘ওয়ালাক্বাদ কাররামনা বানী আদাম—আমি আদম-সন্তানকে সম্মানিত করে বানিয়েছি।’ মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘খলাক্বনা লাকুম মা ফিল আরদি জামি’আ—আসমান-যমিনে যা-কিছু আছে আমি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ সেই আদম সন্তান যদি নিজের রুটি-রুজি আর বিলাসিতার সুরক্ষার জন্য আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দেয় তবে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য; পৃথিবীতে দুষ্টু লোকদের রাজত্ব কায়েম হওয়া অনিবার্য!

১৯৭৩ সনের আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সংকটের কথা আপনাদের জানা থাকতে পারে। সে বছর অক্টোবরের দিকে সৌদি শাসক কিং ফয়সাল পশ্চিমাদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। আমেরিকান ফরেইন মিনিস্টার হেনরি কিসিঞ্জার এসেছিলেন কিং ফয়সালের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সমাধান করতে। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘সৌদি এরাবিয়া যদি বয়কট না তোলে তাহলে আমেরিকা বোম্বিং করে সৌদি গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে ধ্বংস করে দেবে।’ কিং ফয়সাল বলেছিলেন, ‘তোমরা হলে এমন জাতি যারা তেল ছাড়া একদিনও চলতে পারবে না; আমরা মরুভূমি থেকে এসেছি, প্রয়োজনে আবার মরুভূমিতে ফিরে যাব। আমাদের পূর্বপুরুষরা উটের দুধ আর খেজুর খেয়ে জীবন ধারণ করতেন, আমরাও দরকার হলে আবার সেই জীবনে ফিরে যাব।’

হেনরি কিসিঞ্জার একপর্যায়ে বলেন, ‘মহান বাদশা! আমার প্লেনের তেল ফুরিয়ে গেছে; প্লেনের তেলটা ভরে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, আমরা আন্তর্জাতিক দর অনুযায়ী এর মূল্য পরিশোধ করব।’ কিং ফাহাদ মাথা তোলেননি। অত্যন্ত শীতল দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ, আমার ইচ্ছা আমি মাসজিদুল আকসায় সালাত আদায় করব, আমেরিকা কি আমার ইচ্ছা পূরণে আমাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত?’

এটা হলো আত্মসম্মান, এটা হলো আত্মমর্যাদা। অহংকার পরিহার করুন, আত্মমর্যাদাবান হোন। কাউকে সুযোগ দিবেন না আপনাকে অপমান করতে। প্রয়োজনে দারিদ্রকে গ্রহণ করে নিন, অপমানের মধ্যে বসবাস করবেন না। অপমান সহ্য করে নেওয়া আপনার আত্মসম্মানকে ধ্বংস করে দেবে। আত্মসম্মানহীন মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজের ঈমান ধরে রাখতে পারে না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কুফুরির পথে পা বাড়ায়।

লিখেছেন: আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক
প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন

09/06/2025

"মানুষকে গোমরাহির পথে চলতে দেখলেই বদ দুআ করা উচিত নয়। আগে ভালো দুআ করতে হবে, আল্লাহ্‌ যেন তাদেরকে হেদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনেন এবং তাদের দ্বারা আল্লাহ্‌ যেন উম্মতের উপকার করেন। এটাই ব্যক্তির প্রতি ন্যায়বিচার।"
— শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালেহ আল-উসাইমীন (রহঃ)

সূত্র: শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ, ৪/১৪২

সেল্ফ রিমাইন্ডার

🤲🏻🤍
09/06/2025

🤲🏻🤍

🤲🏻📖
17/05/2025

🤲🏻📖

Address

Mirpur
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when I was Always READY to say ‘It’s OKAY’, but You NEVER said ‘Sorry' posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category